• শুক্রবার, ২০ মে ২০২২, ০১:০৩ অপরাহ্ন
শিরোনাম
বানিয়ারছড়ায় গুদী’র নামে চাঁদা আদায় বন্ধের নির্দেশ দেন ইউএনও কাকারায় ব্রীজ থেকে পড়ে যুবকের মৃত্যূ মাতামুহুরী নদীতে পড়ে মানসিক ভারসাম্যহীন বৃদ্ধার মৃত্যু ঠাকুরগাঁও রানীশংকৈলে ভুমিসেবা সপ্তাহ পালিত চকরিয়ায় নোবেল হত্যা মামলার আসামি আরিফকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ চকরিয়ায় অগ্নিকান্ডে ৩টি বসতঘর পুড়ে ছাই; পুড়েনি কুরআন শরীফ চকরিয়ায় বোরো ধানের বাম্পার ফলন; কৃষকরা সোনালী ধান ঘরে তুলে নিচ্ছে পেকুয়ায় মার্কেট থেকে সংযোগ বিচ্ছিন্ন, ফক্সি কাগজপত্রের তথ্য ফাঁস, বিদ্যুতের ম্যানেজারের বিরুদ্ধে জিডি চকরিয়ায় বঙ্গবন্ধু ও বঙ্গমাতা জাতীয় গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট’র বালক-বালিকা ফাইনাল খেলা অনুষ্ঠিত দূর্ঘটনা এড়াতে মহাসড়কের দুইপাশের শোলেডার ভরাট হবেতো?

অধ্যাপক সিরাজীর খোলা চিঠিঃ নদী ভাঙনের কবল থেকে বাঁচান

নিজস্ব প্রতিবেদক,চকরিয়া / ১৯৫ Time View
Update : মঙ্গলবার, ২৭ জুলাই, ২০২১

বরাবর,
♦মাননীয় জাতীয় সংসদ সদস্য কক্সবাজার-১
♦উপজেলা চেয়ারম্যান, চকরিয়া।
♦উপজেলা নির্বাহী অফিসার, চকরিয়া উপজেলা।
♦মেয়র, চকরিয়া পৌরসভা।
♦কমিশনার, ৩ নং ওয়ার্ড, চকরিয়া পৌরসভা।
♦সাংবাদিক বৃন্দ,চকরিয়া প্রেসক্লাব।

বিষয়/প্রসঙ্গ: নদী ভাঙনের কবলে আক্রান্ত “পশ্চিম বাটাখালী মাস্টার পাড়া,  শাহী জামে মসজিদ এবং বাটাখালী ব্রিজ।”

জনাব,
উপর্যুক্ত প্রসঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি যে, চকরিয়া পৌরসভার সর্বপশ্চিমে মাতামুহুরি নদীর অববাহিকায় কূল ঘেঁষে গড়া উঠা ৩নং ওয়ার্ড, মাস্টার পাড়ার ২০/২৫ টি ঘর-বাড়ি এবং মাস্টার পাড়া শাহী জামে মসজিদ ও বাটাখালী ব্রিজটি নদীভাঙনের চরম কবলে আক্রান্ত।

প্রায় ৩০ বছর ধরে বসবাসকারী ২০/২৫ টি ঘর বাড়ি ভেঙে আজ  উদ্বাস্তু হয়ে গেছে। মসজিদটিও যায় যায় অবস্থা। বাটাখালী ব্রিজটিও ভাঙন শুরু হয়েছে। আজ উদ্বাস্তু পরিবারগুলোর মাথা গুঁজাবার ঠাঁই নেই।অসহায় নারী ও শিশুরা খোলা আকাশের নিচে অবস্থান করছে। প্রশাসনের কোনো খোঁজখবর নেই’, দেখা নেই কোনো জনপ্রতিনিধিদের।

অথচ নেতাদের পক্ষে মুখরোচক গল্প রচিত হচ্ছে -জাপানি সংস্থা জাইকা শহর রক্ষা বাঁধ করে দিবে, প্রকল্প তৈরি ও বাজেট হয়েছে। গল্পটা কিন্তু ৬-৭ বছর আগে থেকেই শুনে আসছে এলাকাবাসি। অসহায় মানুষগুলো আশায় বুক বেঁধে কাটিয়েছে অনেক দিন। এ যেন রাতে ঘুমন্ত অবস্থায় আসমান ভেঙে পড়ার ভয়ে হট্টিটি পাখির মতো পা ওপরের দিকে তুলে চিত হয়ে শুয়ে ঘুমানোর মতো।

শেষাবধি আসমান ভেঙে না পড়ার আগেই তলার মাটি সরে গেলো,; ডাক্তার আসার আগেই রোগি মারা যাবার মতো।  হাহাকার আর কান্না ছাড়া কিছুই বাকি রইলনা  তাদের । উদ্বাস্তু মানুষগুলো থাকার আশ্রয়টাই চোখের সামনে হারিয়ে ফেললো। প্রকৃতির এ নির্মম ছোবলে মানুষগুলো আজ নির্বাক, নিস্তব্ধ, আশাহীন। তাদের এই দুর্দিনে উপজেলা প্রশাসন এবং জনপ্রতিনিধিদের কোনো উদ্যোগ নেই। নেই বিত্তবানদের কোনো সাহায্য সহযোগিতা। নেই কোনো পুনর্বাসনের ব্যবস্থা। নেই কোনো খোঁজখবর।

অথচ এই জনপ্রতিনিধিরাই নির্বাচনের সময় মানুষের দ্বারে দ্বারে গিয়ে গণসংযোগ করেছিলেন, দুঃখ-দুর্দশায় খোজ খবর নিয়েছিলেন, সাহায্য সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছিলেন’। নির্বাচিত হলে বহুত বহুত উন্নয়ন ও জনসেবার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছিলেন। কিন্তু আজ দুর্দিনে তাদের জনপদে পদচারণাই নেই।

রাজনীতির দর্শন আজ পাল্টে গেছে। ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য রাজপথে পক্ষ বিপক্ষের মিছিল হয়, স্লোগান হয়, ভূমি দখল বেদখলের মহড়া হয়। এই জাতি রোহিঙ্গাদের সাহায্যের জন্য চাঁদা তুলে  তহবিল গঠন করে উখিয়া টেকনাফে  বহরে বহরে ত্রাণ সহায়তা পাঠাতে পারে কিন্তু নিজ এলাকায় বিপন্ন-বিপর্যস্ত-উদ্বাস্তু মানুষের খোঁজ খবর নেওয়ার পদক্ষেপই নেই,নেই কোনো উদ্যোগ। এই হলো- আমাদের বিত্তবান, জনদরদী, জনপ্রতিনিধিদের দায়িত্ব ও জনসেবা। মহান আল্লাহ যেনো তাঁদের হেদায়ত করেন এবং তাঁদের চেতনার ৬ষ্ঠ ইন্দ্রিয়টাকে জাগ্রত করেন। আমিন।

অতএব, মানবিক দিক বিবেচনা করে জরুরি ভিত্তিতে এই অসহায় মানুষগুলোর পুনর্বাসনের জন্য সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের নিকট বিনীত অনুরোধ জানাচ্ছি।

এলাকাবাসীর পক্ষে,
অধ্যাপক সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category