• শুক্রবার, ৩০ জুলাই ২০২১, ১০:১৪ অপরাহ্ন

কওমি মাদরাসাও বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে সরকার

বিবিসি একাত্তর ডেস্ক / ৮৯ Time View
Update : সোমবার, ২৯ মার্চ, ২০২১

বর্তমানে দেশের কওমি মাদরাসা ছাড়া সব ধরনের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে। তবে, করোনার সংক্রমণ পুনরায় বাড়তে থাকায় এবার কওমি মাদরাসাও বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে সরকার।
করোনা প্রতিরোধে সোমবার (২৯ মার্চ) প্রধানমন্ত্রীর মুখ্যসচিব ড. আহমদ কায়কাউস স্বাক্ষরিত ১৮ দফা নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। এরমধ্যে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধের নির্দেশনায় বলা হয়েছে, সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান (প্রাক-প্রাথমিক, প্রাথমিক, মাদরাসা, মাধ্যমিক, উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, বিশ্ববিদ্যালয়) ও কোচিং সেন্টার বন্ধ থাকবে।
এ বিষয়ে একটি দৈনিক পত্রিকাকে দেয়া বক্তব্যে শিক্ষামন্ত্রী দিপু মনি বলেছেন, করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধে গত বছরের ১৭ মার্চ থেকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে। তবে বিশেষ অনুরোধে কওমি মাদ্রাসাগুলো চালুর অনুমতি দেয়া হয়েছিল। কিন্তু এখন করোনাভাইরাসের সংক্রমণ অনেক গুণ বেড়ে গেছে। অনেকে মারা যাচ্ছেন। আজও অনেকে মারা গেছেন। এ জন্য সব ধরনের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছে। কওমি মাদ্রাসাগুলো এর অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
এদিকে সরকারের ১৮ দফা নির্দেশনার বিষয়ে এদিন দুপুরে সচিবালয়ে ব্রিফিং করেন জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন। নতুন নির্দেশনায় কওমি মাদরাসাগুলো বন্ধ থাকবে কি-না সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমরা এখানে উল্লেখ করে দিয়েছি, প্রাক-প্রাথমিক, প্রাথমিক, মাদরাসা, মাধ্যমিক, উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, বিশ্ববিদ্যালয় ও কোচিং সেন্টার বন্ধ থাকবে। শিক্ষার্থীরা আপাতত প্রতিষ্ঠানে আসবে না। তবে অনলাইনে ক্লাস চলবে।
তিনি বলেন, মাদরাসার কথা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা আছে। এখানে শুধু কওমি না, সব মাদরাসা, সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং কোচিং সেন্টার বন্ধ থাকবে। করোনা ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ছে। এখনি সংক্রমণ রোধ না করা গেলে সমস্যা হবে।
করোনা ইস্যুতে গত বছরের ১৮ মার্চ থেকে অন্য সব ধরনের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে। কিন্তু গত আগস্টে বিশেষ আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে কওমি মাদরাসায় শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করার অনুমতি দেয়া হয়।
নির্দেশনাগুলো হলো-
১. সব ধরনের জনসমাগম (সামাজিক/রাজনৈতিক/ধর্মীয়/অন্যান্য) সীমিত করতে হবে। উচ্চ সংক্রমণযুক্ত এলাকায় সব ধরনের জনসমাগম নিষিদ্ধ করা হলো। বিয়ে/জন্মদিনসহ যে কোনো সামাজিক অনুষ্ঠান উপলক্ষে জনসমাগম নিরুৎসাহিত করতে হবে;
২. মসজিদসহ সব ধর্মীয় উপাসনালয়ে যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি পরিপালন নিশ্চিত করতে হবে;
৩. পর্যটন/বিনোদন কেন্দ্র সিনেমা হল/থিয়েটার হলে জনসমাগম সীমিত করতে হবে এবং সব ধরনের মেলা আয়োজন নিরুৎসাহিত করতে হবে;
৪. গণপরিবহনে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে এবং ধারণক্ষমতার ৫০ ভাগের বেশি যাত্রী পরিবহন করা যাবে না;
৫. সংক্রমণের উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাতে আন্তঃজেলা যান চলাচল সীমিত করতে হবে; প্রয়োজনে বন্ধ রাখতে হবে;
৬. বিদেশ হতে আগত যাত্রীদের ১৪ দিন পর্যন্ত প্রাতিষ্ঠানিক (হোটেলে নিজ খরচে) কোয়ারেন্টাইন নিশ্চিত করতে হবে;
৭. নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যসামগ্রী খোলা/উন্মুক্ত স্থানে স্বাস্থ্যবিধি পরিপালনপূর্বক ক্রয়-বিক্রয়ের ব্যবস্থা করতে হবে; ওষুধের দোকানে যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা নিশ্চিত করতে হবে;
৮. স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানগুলো মাস্ক পরিধানসহ যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি পরিপালন নিশ্চিত করতে হবে;
৯. শপিং মলে ক্রেতা-বিক্রেতা উভয়েরই যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা নিশ্চিত করতে হবে;
১০. সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান (প্রাক-প্রাথমিক, প্রাথমিক, মাদরাসা, মাধ্যমিক, উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, বিশ্ববিদ্যালয়) ও কোচিং সেন্টার বন্ধ থাকবে;
১১. অপ্রয়োজনীয় ঘোরাফেরা/আড্ডা বন্ধ করতে হবে। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া রাত ১০টার পর বাইরে বের হওয়া নিয়ন্ত্রণ করতে হবে;
১২. প্রয়োজনে বাইরে গেলে মাস্ক পরিধানসহ সব ধরনের স্বাস্থ্যবিধি পরিপালন নিশ্চিত করতে হবে। মাস্ক পরিধান না করলে কিংবা স্বাস্থ্যবিধি লঙ্ঘিত হলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে;
১৩. করোনায় আক্রান্ত/করোনার লক্ষণযুক্ত ব্যক্তির আইসোলেশন নিশ্চিত করতে হবে। করোনায় আক্রান্ত ব্যক্তির ঘনিষ্ঠ সংস্পর্শে আসা অন্যদেরও কোয়ারেন্টাইন নিশ্চিত করতে হবে;
১৪. জরুরি সেবায় নিয়োজিত প্রতিষ্ঠান ছাড়া সব সরকারি-বেসরকারি অফিস/প্রতিষ্ঠান শিল্প কারখানাগুলো ৫০ ভাগ জনবল দ্বারা পরিচালনা করতে হবে। গর্ভবতী/অসুস্থ/বয়স ৫৫-ঊর্ধ্ব কর্মকর্তা/কর্মচারীর বাড়িতে অবস্থান করে কর্মসম্পাদনের ব্যবস্থা নিতে হবে;
১৫. সভা, সেমিনার, প্রশিক্ষণ, কর্মশালা যথাসম্ভব অনলাইনে আয়োজনের ব্যবস্থা করতে হবে;
১৬. সশরীরে উপস্থিত হতে হয় এমন যেকোনো ধরনের গণপরীক্ষার ক্ষেত্রে যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি পরিপালন নিশ্চিত করতে হবে;
১৭. হোটেল-রেস্তোরাঁগুলোতে ধারণক্ষমতার ৫০ ভাগের বেশি মানুষের প্রবেশ বন্ধ করতে হবে;
১৮. কর্মক্ষেত্রে প্রবেশ এবং অবস্থানকালীন সর্বদা বাধ্যতামূলকভাবে মাস্ক পরিধানসহ অন্যান্য স্বাস্থ্যবিধি পরিপালন নিশ্চিত করতে হবে।
এ নির্দেশনাগুলো অবিলম্বে কার্যকর হবে এবং পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত বলবৎ থাকবে (কমপক্ষে ২ সপ্তাহ) বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category