• বুধবার, ০১ ডিসেম্বর ২০২১, ১২:২২ অপরাহ্ন
শিরোনাম
পেকুয়ায় দুই হাজতি মেম্বার নির্বাচিত এবারে দুই নারীসহ আমিরাত থেকে ২৬ জন প্রবাসী সিআইপির মর্যাদা পেয়েছেন সাবেক সাংসদ শাহাদাত হোসেন চৌধুরীর জানাজা সম্পন্ন, পারিবারিক কবরস্থানে দাফন কবি হিমেল বরকত’র সাহিত্যে বিপন্ন মানুষের কন্ঠস্বর ঠাঁই পেয়েছে নির্বাচনী সহিংসতা: পেকুয়ায় আ’লীগ নেতার বসতবাড়ি ভাংচুর চকোবি হোস্টেলের সমাপনি ক্লাস আনুষ্ঠানিকভাবে সম্পন্ন ঠাকুরগাঁও নির্বাচন সহিংসতায় বিজিবি’র গুলিতে নিহত ৩ আহত ৫ ঠাকুরগাঁওয়ে তৃতীয় ধাপের ইউপি নির্বাচনে ১৪টি নৌকা ৪টি সতন্ত্র প্রার্থীর জয়লাভ সাবেক সাংসদ এডভোকেট শাহাদাত হোসেন চৌধুরী আর নেই টেকনাফ সমিতি ইউএই’র বার্ষিক কর্মশালা ও মতবিনিময় সভা’২১ অনুষ্ঠিত

খাবারের সন্ধানে চকরিয়ায় বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্কে ঢুকে পড়েছে বন্যহাতির পাল

এ কে এম ইকবাল ফারুক,চকরিয়া / ১১৮ Time View
Update : রবিবার, ১০ জানুয়ারী, ২০২১

কক্সবাজারের চকরিয়ায় ডুলাহাজারাস্থ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্কের ভেতর ঢুকে পড়েছে শাবকসহ একদল ক্ষুধার্ত বন্যহাতি। এসব হাতি দুই দলে বিভক্ত হয়ে পার্কের অভ্যন্তরে বন্যপ্রাণীর আবাসস্থল ও উন্নয়নকল্পে সৃজিত ১০০ হেক্টর বাগান তথা চারণভূমিতে অবস্থান করছে। বর্তমানে পার্কের ওই বাগানটিই এখন বন্যহাতির খাবারের এবং চারণভূমির উপযুক্ত স্থান হিসেবে গড়ে উঠেছে। গহীণ জঙ্গল থেকে প্রতিদিন সন্ধ্যা হলেই পার্কের ওই বাগানে এসে রাতভর খাবার খেয়ে ভোরের আলো ফুটার আগেই চলে যাচ্ছে। এভাবে গত একসপ্তাহ ধরে পার্কের ভেতর আসা-যাওয়া করছে হাতিগুলো ।
এদিকে পার্কের সীমান্তের ওই বাগানে বন্যহাতি ঢুকে পড়ার খবরে পার্ক কর্তৃপক্ষ রেড অ্যালার্ট জারি করে সেখানে পার্কের কর্মীদের সতর্ক পাহারায় রেখেছেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। যাতে পার্কে আগত পর্যটকও দর্শনার্থীরা ঢুকে পড়া বন্যহাতির অবস্থানের কাছে যেতে না পারে।

ডুলাহাজারা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্কের ভারপ্রাপ্ত তত্ত্বাবধায়ক মো. মাজহারুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, গত বছরের ডিসেম্বর মাসেও দুইদফায় বন্য হাতিগুলো পার্কে অভ্যন্তরে ঢুকে পড়েছিল। ওইসময় তারা পশুখাদ্যের বাগানে বেশ কয়েকদিন অবস্থান করে তান্ডব চালায়।

তিনি আরও বলেন, একইভাবে হাতির দলটি গত একসপ্তাহ ধরে প্রতিদিন সন্ধ্যা নামলেই পার্কের অভ্যন্তরের পশুখাদ্যের বাগানে ঢুকে পড়ছে। আবার ভোরের আলো ফোটার আগেই গহীন জঙ্গলের নিরাপদ স্থানে চলে যাচ্ছে।

পার্ক কর্মকর্তা মাজহারুল ইসলাম বলেন, ‘এভাবে প্রতিদিন হাতি যাওয়া-আসা করায় পার্কের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সকর্তাবস্থায় রাখা হয়েছে। যেসব এলাকায় বন্যহাতি অবস্থান করছে সেখানে কিছুদূর পর পর পার্কের কর্মচারীরা অবস্থান নিয়েছে। যাতে পার্কে আগত পর্যটক-দর্শনার্থীরা ভুল করে ওইদিকে যেতে না পারে।’ তবে পার্কের নিরাপত্তা বেস্টনী না থাকায় খাদ্যে সন্ধানে পার্কের ভিতর হাতি প্রবেশ নতুন কোন ঘটনা নয় বলেও জানান তিন।

 

জানা গেছে, পার্কের সীমান্তবর্তী এলাকায় জেব্রার বেষ্টনীর কাছে ২০১৯-২০ অর্থবছরে ১০০ হেক্টর এলাকায় সৃজন করা হয় পশুখাদ্যের উপযোগী বাগান তথা চারণভূমি। সেখানে রোপন করা হয় প্রায় ১০ হাজার উড়ি আমের চারা। এছাড়াও নেপিয়ার ঘাস, প্যারা ঘাস, শাপলা, বাঁশঝাড়, পিটালি পাতা, বৃদ্ধরী পাতা, মেলোনী পাতাসহ পশুখাদ্যের উপযোগী বিভিন্ন প্রজাতির লতাগুল্মের বাগান। বর্তমানে সেই চারণভূমিই নিরাপদ খাদ্য ভান্ডারে পরিণত হওয়ায় বন্যহাতির দলটি প্রতিদিন সন্ধ্যার পর পার্কের অভ্যন্তরে ঢুকছে আর ভোরের আলো ফোটার আগেই গহীণ জঙ্গলে চলে যাচ্ছে।

 

পার্কের সীমান্তবর্তী এলাকা কৈয়ারডেবা এলাকার বাসিন্দা আবুল কালাম বলেন, ‘গত একসপ্তাহ ধরে প্রতিদিন সন্ধ্যার পর শাবকসহ ২২-২৩টি হাতি দুই দলে ভাগ হয়ে আমাদের বসতবাড়ির কাছের পার্কেও অভ্যন্তরে ঢুকে পড়ছে। তবে ভোরের আলো ফোটার আগেই ফের গহীন জঙ্গলে চলে যাচ্ছে হাতিগুলো। এরপরও বন্যহাতি আসার কারণে প্রতিরাতেই আমরা আতঙ্কের মধ্যে রয়েছি। হাতির আক্রমনের শিকার হওয়ার ভয়ে হারাম হয়ে গেছে আমাদের রাতের ঘুম।’

প্রসঙ্গত: এক সময় কক্সবাজার উত্তর বনবিভাগের ফাঁসিয়াখালী রেঞ্জের ফাঁসিয়াখালী বনবিটের অধিকাংশ বনভূমি ছিল বন্যহাতির অভয়ারণ্য। যেটি ছিল বন্যহাতির খাবারের উপযুক্ত স্থান এবং আবাসস্থল। সংরক্ষিত বনভূমি দখলসহ কয়েকশত বছরের আবাসস্থল ও খাদ্যভান্ডার নষ্ট হয়ে যায় বন্যহাতির। এতে খাবারের সন্ধানে বেপরোয়া হয়ে উঠে ক্ষুধার্ত বন্যহাতির পাল। খাবারের সন্ধানে লোকালয়ে নেমে আসায় প্রতিনিয়ত চলছে মানুষ-হাতির দ্বন্দ্ব। ##

 

 


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category