• রবিবার, ০৯ মে ২০২১, ১০:৫৩ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
প্রধানমন্ত্রীর ঈদ উপহার পেলেন ডুলাহাজারার ২৯৬৫ পরিবার পঞ্চগড়ে জেলা রিপোর্টার্স ক্লাবের ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত আমরা কীভাবে সিয়াম বা রোজাকে গ্রহণ করেছি! নিয়োগ দিয়েছেন ভিসা; স্থগিত করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ডুলাহাজারা ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের ইফতার মাহফিল ও স্মরণ সভা সম্পন্ন চকরিয়ায় গাড়ির চাপায় নৈশপ্রহরী নিহত ঠাকুরগাঁওয়ের রানীশংকৈল উপজেলা কমপ্লেক্স ভবনের ভিত্তিস্থাপনের উদ্বোধন করোনায় ১ কোটি মানুষ সরকারের খাদ্য সহায়তা পেয়েছে- আইসিটি প্রতিমন্ত্রী পলক কাউন্টার খোলা রেখে টিকিট বিক্রির অপরাধে জরিমানা চকরিয়া পৌরসভার মেয়র আলমগীর চৌধুরীর আয়োজনে ইফতার মাহফিল সম্পন্ন

গালিগালাজ করার ভয়াবহ পরিণতি

বিবিসি একাত্তর ডেস্ক / ১৯ Time View
Update : শুক্রবার, ২৩ এপ্রিল, ২০২১

গালিগালাজ করা তথা অলশ্লিল বাক্য প্রয়োগ বর্তমান সমাজের যেন একটা অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে গেছে। আজকাল শুধু ঝগড়া-ঝাটির সমই নয় বরং সর্বদা  স্কুল কলেজ এমনকি বন্ধু আড্ডায় হাসি তামাশার মাঝেও কথায় কথায় কুরুচিপুর্ণ গালিগালাজ ব্যাবহার করা হয়! এটা বর্তমানে মারাত্বক একটা সামাজিক ব্যাধিতে রুপান্তর হয়েছে। তাই আজ গালিগালাজের ভয়াবহ পরিনতির ব্যাপারে কুরআন এবং হাদিসের কিছু বানী নিন্মে উল্লেখ করব ইনশাআল্লাহ।

যারা গালিগালাজ করে তাদের ব্যপারে আল্লাহ্‌ তায়ালা বলেনঃ “রহমান এর বান্দা তারাই, যারা পৃথিবীতে নম্রভাবে চলাফেরা করে এবং তাদের সাথে যখন মুর্খরা কথা বলতে থাকে (গালিগালাজ/যুক্তিহিন তর্ক), তখন তারা বলে, সালাম।”  [সূরা আল ফুরকানঃ ৬৩]

যেসব লোক ঈমানদার পুরুষ ও নারীদের বিনা কারণে কষ্ট দেয়, তারা একটা অতি বড় মিথ্যা অপবাদ ও সুস্পষ্ট গুনাহের বোঝা নিজেদের মাথায় উঠিযে নেয়। [সূরা আহযাবঃ ৫৮]

মহান আল্লাহ বলেনঃ আর মানুষের মধ্য থেকে কেউ কেউ না জেনে আল্লাহর পথ থেকে মানুষকে বিভ্রান্ত করার জন্য বেহুদা কথা খরিদ করে, আর তারা ঐগুলোকে হাসি-ঠাট্টা হিসেবে গ্রহণ করে; তাদের জন্য রয়েছে লাঞ্ছনাকর আযাব। [সূরা লুকমান-০৬-০৭]

যারা সতী-সাধ্বী, নিরীহ ঈমানদার নারীদের প্রতি অপবাদ আরোপ করে, তারা ইহকালে ও পরকালে ধিকৃত এবং তাদের জন্যে রয়েছে গুরুতর শাস্তি। [সূরা আন-নূর: ২৩]

আব্দুল্লাহ ইবনে উমর হতে বর্নিত, তিনি বলেন, রাসুল্লাহ (সা) বলেছেনঃ “কবিরা গুনাহসমূহের মধ্যে সবচেয়ে বড় হল নিজের পিতা-মাতাকে লানত করা। জিজ্ঞাস করা হলো: হে আল্লাহর রাসুল (সা)! আপন পিতা-মাতাকে কোনো লোক কিভাবে লানত করতে পারে? তিনি বললেন: সে অন্যের পিতাকে গালি দেয়, তখন সে তার পিতাকে গালি দেয় এবং সে অন্যের মাকে গালি দেয়, তখন সে তার মাকে গালি দেয়। [সহিহ বুখারি: ৫৯৭৩, সহিহ মুসলিম: ৯০]

হযরত আবদুল্লাহ ইবনে মাস’উদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, “মুসলমানদের কে গালমন্দ করা ফাসেকী আর তাদের বিপক্ষে যুদ্ধ করা কুফরী। [বুখারী ও মুসলিম]

হযরত আবু যর (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছেন, কোন ব্যক্তি অপর কোন ব্যক্তিকে যেন ফাসেক অথবা কাফের এর অপবাদ না দেয়। কেননা সে যদি প্রকৃতই তা না হয়ে থাকে তবে এই অপবাদ তার নিজের ঘাড়ে চেপে আসবে। (বুখারী)

হযরত আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, পরস্পরকে গালি দানকারীর মধ্যে যে পূর্বে গালি দিয়েছে সে দোষী, যদি নির্যাতিত (প্রথম যাকে গালি দেয়া হয়েছে) ব্যক্তি পরিসীমা অতিক্রম না করে থাকে। (মুসলিম)

অর্থাৎ গালির পরিণাম/ফল তখনই প্রথম গালিদাতার উপর পতিত হবে যখন দ্বিতীয় ব্যক্তি প্রতিউত্তরে সীমালঙ্ঘন না করবে। আর যদি দ্বিতীয় ব্যক্তি প্রতিশোধ নিতে গিয়ে সীমালঙ্ঘন করে ফেলে তাহলে সেও গুনাহে জড়িয়ে পড়ল। প্রথম গালিদাতা এই জন্যে গুনাহগার হবেন যে, সে গালি শুরু করেছে। অর্থাৎ অন্যায়টা তার মাধ্যমে শুরু হয়েছে।

হযরত আবু হুরায়রা (রাঃ) হইতে বর্ণিত আছে, নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একদা বসিয়াছিলেন, তাহার উপস্থিতিতে এক ব্যক্তি হযরত আবু বকর সিদ্দিক (আঃ) উনাকে গালি দিলো। তিনি (ঐ ব্যক্তির বার বার গালি দেওয়া এবং হযরত আবু বকর সিদ্দিক (আঃ) উনার সবর ও খামুশ থাকার উপর) খুশী হইতে থাকেন এবং মুচকি হাসিতে থাকেন। অতঃপর যখন সেই ব্যক্তি অনেক বেশী গালিগালাজ করিল তখন হযরত আবু বকর সিদ্দিক (আঃ) তাহার কিছু কথার জবাব দিলেন। ইহার উপর নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অসন্তুষ্ট হইয়া সেখান হইতে চলিয়া গেলেন। হযরত আবু বকর সিদ্দিক (আঃ) ও তাহার পিছনে পিছনে তাহার নিকট পৌঁছিলেন এবং আরজ করিলেন, ইয়া রাসুলুল্লাল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (যতক্ষণ) ঐ ব্যক্তি আমাকে গালি দিতেছিল আপনি সেখানে অবস্থান করিতেছিলেন, তারপর যখন আমি তাহার কিছু কথার জওয়াব দিলাম তখন আপনি নারাজ হইয়া উঠিয়া গেলেন। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করিলেন, যতক্ষণ তুমি চুপ ছিলে এবং সবর করিতেছিলে তোমার সহিত একজন ফেরেশতা ছিল, যে তোমার পক্ষ হইতে জওয়াব দিতেছিল। তারপর যখন তুমি তাহার কিছু কথার জওয়াব দিলে তখন সেই ফেরেশতা চলিয়া গেলো আর শয়তান মাঝখানে আসিয়া গেলো। আর আমি শয়তানের সহিত বসি না। এই জন্য আমি উঠিয়া রওনা হইয়া গিয়াছি। (মুসনাদে আহমদ)

নবী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুনাফিকের পরিচয় দিতে গিয়ে বলেন, চারটি বৈশিষ্ট্য যার মধ্যে পাওয়া যাবে সে প্রকৃত মুনাফিক। আর যার মধ্যে কোন একটা পাওয়া যাবে তার মধ্যে মুনাফিকের একটি বৈশিষ্ট্য পাওয়া গেল, যে পর্যন্ত না সে তা পরিত্যাগ করে। সেই, বৈশিষ্টগুলো হলোঃ যখন তাকে বিশ্বাস করা হয় সে বিশ্বাস ভঙ্গ করে, (আমানতের খেয়ানত করে), যখন সে কথা বলে তো মিথ্যা বলে, যখন অঙ্গিকার করে তো অঙ্গিকার ভঙ্গ করে ও যখন বিবাদে উপনীত হয় তখন গালাগালি করে। [সহিহ বুখারি ৩৪, সহিহ মুসলিম ১০৬]

মহানবী (সাঃ) বলেনঃ মুমিন কখনো দোষারোপকারী, অভিশাপকারী, অশ্লীল ও গালিগালাজকারী হয় না। [জামে তিরমিযী ২০৪৩]

নবী (স) এর ভাষায় প্রকৃত গরীব তো সেই ব্যক্তি যে কি না অনেক নেক আমল করে এরপর কাউকে গালি দেওয়ার জন্য গীবত করার জন্য মিথ্যা অপবাদ দেওয়ার জন্য তার সেই নেক আমল গুলো আখিরাতে তাদের দিতে দিতে তার নেক আমল গুলো শেষ হয়ে যায়। এরপর যখন তার আর নেক আমল থাকে না তখন তাদের বদ আমল গুলো তার উপর চলে আসে এরপর সে জাহান্নামে চলে যায়। এর থেকে হতভাগ আর কে হতে পারে। সুতরাং অনর্থক দুটো মন্দ কথা বলে কেন নিজেকে শুধু শুধু বিপদের মুখে ফেলছেন? এই কথা দ্বারা আপনি আপনারই ক্ষতি করলেন আর যাকে বলছেন তাকে লাভবান করছেন! নিজের ভাল নাকি উম্মাদও বোঝে, তো আপনি বুঝবেন না কেন? আসুন আজ থেকে আর কোন গালি দিব না নিয়ত করি, এটিকে অভ্যাসে পরিনত করি। পরিস্থিতি যত কঠিনই হোক না কেন, ধৈর্য ধারন করি এবং জিহ্বাকে হেফাজত করি। আর হাঁ, নিজের পরিবর্তনের সাথে সাথে, আশেপাশের মানুষদের পরিবর্তনের জন্য এই আয়াত-হাদিস গুলো সবার কাছে পৌঁছিয়ে দেই।

👉আল্লাহর রাসুল বলেছেনঃ “প্রচার কর, যদি একটি মাত্র আয়াতও হয়।” [সহিহ বুখারী ৩৪৬১]। সুতরাং প্রচারের স্বার্থে লেখাটা শেয়ার করে সবাইকে জানিয়ে দিন!!

________ মোঃ নিয়ামত আলী নয়ন ___________


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category