• মঙ্গলবার, ১৮ মে ২০২১, ০১:০৯ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
দেশে মাথাপিছু আয় ১ লাখ ৮৮ হাজার ৮৭৩ টাকা ঠাকুরগাঁওয়ের আ’লীগ নেতার গোডাউনে ২৪০ বস্তা সরকারি চাল উদ্ধার, আটক-১ গাজায় ইসরাইলি হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ২০০ চকরিয়ায় এসএসসি ব্যাচ’৯১ এর উদ্যোগে ঈদ পুনর্মিলনী সম্পন্ন মোংলা পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের নতুন কমিটি ঘোষনা সভাপতি মোহন সাধারণ সম্পাদক দিদার চকরিয়ায় সাংবাদিকের উপর হামলার ঘটনায় মামলা তুলে নিতে আদর বাহিনীর হুমকি, জিডি করায় সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ! মোংলায় করোনা মোকাবেলায় দুস্থদের চাল দিলেন উপমন্ত্রী হাবিবুন নাহার চকরিয়া পৌর এলাকায় কোচপাড়ায় পৈতৃক ভিটা জবর দখলে নিতে সন্ত্রাসী হামলা ঈদের দিনে ঠাকুরগাঁওয়ে সড়কে প্রাণ গেল তিনজনের সময়ের আগেই ঢাকায় শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট দল

গুরুদাসপুর স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সে মেয়াদ উত্তীর্ণ ওষুধে চলছে চিকিৎসা

গুরুদাসপুর (নাটোর) প্রতিনিধি / ৮৬ Time View
Update : রবিবার, ৬ ডিসেম্বর, ২০২০

ইনজেকশন লিডোকেইন ২%, ভায়োডিন সলুসন, সার্জিক্যাল সুতা এবং গজ। এসবই মেয়াদোত্তীর্ণ। আর মেয়াদোত্তীর্ণ এসব মেডিসিনেই জরুরী বিভাগের রোগীদের চিকিৎসা সেবা দেওয়া হচ্ছে। তবে কাটা ছেঁড়ার সেলাই বা ড্রেসিং কোন চিকিৎসক করছেন না। এই দায়িত্ব পালন করছেন হাসপাতালের সুইপার বিষু। এমন ভঙ্গুর দশা গুরুদাসপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের।
মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধে চিকিৎসা জরুরী বিভাগে চিকিৎসার পাশাপাশি অন্তবিভাগের রোগীদের সিজারিয়ানসহ বিভিন্ন ধরণের অপারেশনও। মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধে চিকিৎসা দেওয়ায় পার্শ্বপ্রতিক্রীয়ার আশঙ্কা করছেন রোগীর স্বজনরা।
সম্প্রতি ওই হাসপাতালের জরুরী বিভাগে গিয়ে দেখা যায়- পায়ের ক্ষতস্থানে ড্রেসিং করাতে হাসপাতালে এসেছিলেন উপজেলার খুবজীপুর ইউনিয়নের কালাকন্দর গ্রামের আজিজল হকের স্ত্রী সুফিয়া খাতুন (৪০) (রেজি- ৪৯৯/৩৪/০২)। তার ক্ষতস্থানে পভিডোন দিয়ে ড্রেসিং করছিলেন সুইপার বিষু। অথচ ১৮ নভেম্বর ২০১৮ তারিখে উৎপাদিত ওই ওষুধটির ময়াদ ২০ অক্টোবর ২০২০ শেষ হয়েছে। কিন্তু মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও ওই ওষুধেই ড্রেসিং করা হয়েছে। শুধু যে পভিডোন লিকুইড মেয়াদোত্তীর্ণ তা নয়। ১৫, ১৮ ১৭ সালের গজসহ বিভিন্ন প্রকারের ওষুধই মেয়াদ উত্তীর্ণ। আর এসব ওষুধে নিয়োমিত হরহামেশাই চিকিৎসা সেবা দেওয়া হলে কর্তৃপক্ষ কোন ব্যবস্থা নিচ্ছে না।
সুইপার বিষু জানালেন- নিয়োম না থাকলেও অভিজ্ঞতা থাকায় ছোট খাটো কাটা ছেঁড়ার সেলাই, ড্রেসিং তিনি নিজেই করেন। তবে ওষুধের ব্যাপারে তার কিছু জানা নেই।
খোঁজ নিয়ে জানাগেল- গুরুদাসপুর উপজেলা ছাড়াও ৫০ শয্যার এই হাসপাতালের ওপর নির্ভরশীল আশপাশের বড়াইগ্রাম, তাড়াশ, সিংড়া ও চাটমোহরের মানুষ। প্রতিদিনই এই হাসপাতালে বিভিন্ন ধরণের চিকিৎসা সেবা নিতে আসেন এসব উপজেলার বহু মানুষ।
হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা উপজেলার ঝাউপাড়ার এজার ছেলে মাসুদ (৩০) (রেজি নং ৪৯৮/৩৩/০১,) সিধুলী গ্রামের নুর মোহাম্মদের ছেলে ছহির (৪৭) (রেজি নং ৪৯০/২৭/০৩) শিকার পাড়া গ্রামের মামুন (২৩) (রেজি নং ৪৯২/২৯/০৫), তালবাড়িয়া গ্রামের সাকিবসহ (১৬) (রেজি নং ৪৮৬/২৪/০৩) অন্তত দশজন রোগী জানালেন- এই হাসপাতালেই তাদের অস্ত্রপচার করা হয়েছিল। কিন্তু অপারেশনের পর থেকে সেলাইয়ে স্থানে বেশ সমস্যা অনুভব করছেন। তাদের ধারণা মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ ব্যবহারের ফলে ওই সমস্যা হয়েছে।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ঠিকাদার কোম্পানির সাথে যোগসাজসে এ ধরণের মেয়াদ উত্তীর্ণ ওষুধ এনে হাসপাতালে ব্যবহার করছেন বলে জানান নাম প্রকাশে অনিছুক এক কর্মচারী।
সরেজমিনে হাসপাতালের গিয়ে দেখা যায়, ভর্তি থাকা এক রোগীর শরীরে মেয়াদ উত্তীর্ণ ইনজেকশন পুশ করা হচ্ছে। বিষয়টি বুঝতে পেরে রোগী স্বজনরা প্রতিবাদ করেন।
এ ব্যাপারে স্টোর কিপার মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘আমি মেয়াদ উত্তীর্ণ ওষুধ কাউকে দেইনী। আপনারা কোথায় পেলেন তা আমার জানা নেই।” তবে এসময় মেয়াদোত্তীর্ণ কয়েকটি ওষুধ দেখাতে চাইলে তিনি কোন কথা বলেননি।
জরুরী বিভাগের ইনচার্জ হাবীব বলেন, হাসপাতালের পিয়ন হয়ত ভুলে মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধে ড্রেসিং করেছেন। অথবা স্টোর কিপার দায়িত্ব অবহেলা করে মেয়াদ উত্তীর্ণ এই ধরনের ওষুধ দিয়েছেন।
হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার রবিউল করিম শান্ত বলেন, যদি মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ থেকে থাকে তা বাছাই করে ফেলে দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া জরুরী বিভাগের ইনচার্জ হাবীব এবং স্টোর কিপার মোস্তাফিজুরকে শতর্ক করে দেওয়া হয়েছে।
হাসপাতালের টিএইচও ডা: মো.মোজাহিদুল ইসলাম বলেন, হাসপাতালে মেয়াদোত্তীর্ণ কোন ওষুধ নাই। তাছাড়া দুই চার মাসের মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ থাকলেও কোন সমস্যা নেই।#


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category