• রবিবার, ০১ অগাস্ট ২০২১, ০৪:০০ পূর্বাহ্ন

চকরিয়ায় সমবায় সমিতিতে ভিত্তহীনদের জমি আত্মসাতের অভিযোগ

মোঃ নিজাম উদ্দিন, চকরিয়া: / ১৩৭ Time View
Update : রবিবার, ১৩ জুন, ২০২১

চকরিয়ায় সদস্যদের অধিকার বঞ্চিত করে নিজেরাই সমবায় সমিতির জমি ভোগদখল করছে পরিচালনা কমিটির নেতৃবৃন্দ। কাকারা মিনিবাজার ভিত্তহীন সমবায় সমিতি লিঃ (রেজিঃ নং ৫৩)-তে উঠেছে এমনই অভিযোগ।

জানা গেছে, বিগত ১৯৮৪ সালে প্রতিষ্ঠা লাভ করে ২৪ জন বিশিষ্ট কাকারা মিনিবাজার ভিত্তহীন সমবায় সমিতির কার্যক্রম অত্যন্ত সুশৃঙ্খল ভাবে পরিচালিত হয়ে আসছিল। যার ফলে বিগত ১৯৯১-৯২ সনে আবেদনের প্রেক্ষিতে সরকার ২০০৬ সালে এ সমিতির সদস্যদের ঘুনিয়া মৌজার ৯১ শতক জমি বন্দোবস্ত প্রদান করে। ওসময় সরকারের পক্ষে সহকারী কমিশনার (ভুমি) ২৪ জন প্রত্যেক সদস্যদের কাগজপত্র ও দখল বুজিয়ে দেয়।

সম্প্রতি অভিযোগ উঠেছে, সমিতির পরিচালনা কমিটির নেতৃত্বদানকারী ৫-৬ জন বর্তমানে এসব জমি আত্মসাতের লক্ষ্য নতুন নিয়ম রীতি শুরু করেছে। সমিতির সদস্যদের অভিযোগ জানা গেছে, সমিতি পরিচালনা কমিটির নেতৃবৃন্দ সমিতির নিজস্ব জায়গা আখ্যা দিয়ে বন্দোবস্ত প্রাপ্তদের কাছ থেকে জনপ্রতি আড়াই লাখ টাকা করে দাবি করছে। সদস্যরা এ টাকা প্রদানে অপারগ জানালে নেতৃবৃন্দের আত্মীয় স্বজন ও নিজস্ব লোকজন দিয়ে এসব জমি ভোগদখল করে যাচ্ছে। তাদের কাছ থেকে প্রতি বছর এসব জমির লাগিয়ত ও বন্ধক বাবত লক্ষলক্ষ টাকা আত্মসাৎ করে যাচ্ছে। এসব অনিয়মের বিরুদ্ধে সমিতির কোন সদস্য প্রতিবাদ করতে গেলে তাদের ভয়ভীতি, মারধর, হামলা, মামলা ও সদস্য পদ বাতিলের হুমকি দিচ্ছে বলেও জানায় ভুক্তভোগীরা।

অভিযোগে আরো জানা গেছে, ভুক্তভোগী আব্দুল কাদের এর স্বাক্ষর জালিয়াতি করে বন্দোবস্ত প্রাপ্ত ৩৮৯ নং খতিয়ানের ৮নং প্লটের জমি কমিটির সহ সভাপতি মঞ্জুর আলম নিজের নামে ভুয়া বন্ধকি চুক্তিপত্র তৈরি করেন। এ ভুয়া চুক্তির ভিত্তিতে তিনি এসব জমি বছরের পর বছর ভোগ করে যাচ্ছেন।
এ ব্যপারে জানতে কাকারা মিনিবাজার ভিত্তহীন সমবায় সমিতি লিঃ-এর সহ সভাপতি মোঃ মঞ্জুর আলমের সাথে শনিবার রাত ৯টা ৫৩ মিনিটে ফোন দিলে তার মোবাইল বন্ধ পাওয়া যায়।

সমিতির পরিচালনা কমিটির সভাপতি আক্তার আহমদ জানান, এসব বিষয়ে তিনি সকল হিসেবপত্র সহ-সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে বুঝিয়ে দিয়ে স্বাক্ষর নিয়ে নিয়েছেন। এছাড়া সরকার জমিগুলো ২০০৬ সালে কাগজে-কলমে বুঝিয়ে দিলেও সর্বাধিক জমি তখনকার সময়ের দখলদাররা দখল ছাড়েন নি। এ বিষয়ে সমিতির পক্ষ থেকে আইনি কোন সহযোগিতা চেয়েছিল কিনা এমন প্রশ্নের উত্তরে সভাপতি বলেন, প্রশাসনকে জানানো হয়েছিল। কিন্তু কোনপ্রকার ফল হয়নি।

এবিষয়ে কাকাঁরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শওকত ওসমান জানান, এ সমিতির একটি অভিযোগ আমার হাতে আছে। তাদের বিরোধের বিস্তারিত জানতে তাদের প্রমাণাদি জমা দিতে বলা হয়েছে। তাদের ওসব কাগজপত্র দেখে বলা যাবে আসল বিষয়গুলো কি হয়েছে।

এমতাবস্থায় কাকারা মিনিবাজার ভিত্তহীন সমবায় সমিতি লিঃ পরিচালনা কমিটির অনিয়ম, জালিয়াতি ও আত্মসাতের হাত পরিত্রান পেতে সদস্যরা সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category