• বৃহস্পতিবার, ২৬ মে ২০২২, ০১:২৯ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
ফুলবাড়ীতে খেলার মাঠ দখল মুক্ত করার দাবিতে এলাকাবাসীর মানব বন্ধন ও বিক্ষোভ ঠাকুরগাঁও রাণীশংকৈলে নজরুল জয়ন্তী পালিত বেনাপোলে দুই যুবকের পায়ুপথ থেকে মিললো ৩টি সোনার বার পেকুয়ায় নিহত মুক্তিযোদ্ধা কালু মিয়ার সম্পত্তির ভাগ পাননি এতিম নাতি বেলাল মাঝি! ঈদের দিনে যুবক হত্যা চেষ্টার মামলায় দুই আসামী র‌্যাবের জালে বন্দি ছাত্রলীগকে কাপুরুষ সন্ত্রাসী বানিয়েছে আ’লীগ : রিজভী যুক্তরাষ্ট্রে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গুলি, ২১ ছাত্র-শিক্ষক নিহত প্রথম সেশনে ২ উইকেট, ম্যাথুজ-ধনাঞ্জয়ে এগিয়ে যাচ্ছে শ্রীলঙ্কা ইভিএম বিশেষজ্ঞদের সাথে বৈঠকে ইসি রাঙ্গামাটিকে হারিয়ে ফাইনালে চকরিয়া কোরক বিদ্যাপীঠ

চেয়ারম্যানের দুই স্বজন ও পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় মামলা দায়েরের পর মগনামার পরিস্থিতি শান্ত, শান্তির পথে আসার আহ্বান চেয়ারম্যানের

পেকুয়া প্রতিনিধি / ৮৪ Time View
Update : বৃহস্পতিবার, ২৬ আগস্ট, ২০২১

ইউপি চেয়ারম্যান শরাফত উল্লাহ চৌধুরী ওয়াসিমের দুই স্বজনের ওপর হামলা ও পরবর্তীতে হামলাকারীদের ধরতে গিয়ে পুলিশের ওপর ফের হামলার জের ধরে কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলার মগনামা এলাকা গত মঙ্গলবার পুরোদিন উত্তপ্ত ছিল। চেয়ারম্যানের অনুসারীরা ওই দিন কয়েক দফায় হামলার বিচার দাবী করে মিটিং-মিছিল ও মানববন্ধন করেছে। প্রশাসনও ছিল কঠোর অবস্থানে। চকরিয়া সার্কেলের এএসপি তফিকুল আলমের নেতৃত্বে পুলিশের বিভিন্ন টিম পুরো মগনামায় তৎপরতা চালিয়েছে। বিশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এড়াতে মোড়ে মোড়ে পুলিশ টিম রাখা হয়েছিল। ষড়যন্ত্রের পথ ছেড়ে কুচক্রীমহলকে চেয়ারম্যান শরাফত উল্লাহ চৌধুরী ওয়াসিম শান্তির পথে আসার আহ্বান জানিয়েছেন।

পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় এসআই খায়ের উদ্দিন বাদী হয়ে সুনির্দিষ্ট ৩৩ জন ও অজ্ঞাত আরও ৮০-৯০ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের পর চিহ্নিত আসামিরা এলাকা ছেড়ে পালিয়ে গেছে। বুধবার সারাদিন মগনামাবাসী শান্তিতে বসবাস করেছেন।

স্থানীয় লোকজন বলেন, মগনামার ফুলতলার ব্যবসায়ী জয়নাল হত্যার সঙ্গে জড়িত আসামিরা প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে মগনামার চেয়ারম্যান শরাফত উল্লাহ চৌধুরী ওয়াসিম ও তাঁর পরিবারের লোকজনকে গুম খুন করার পরিকল্পনা করে। এরই ধারাবাহিকতায় গত ২৪ আগস্ট ওয়াসিম চেয়ারম্যানের ভাই এনায়েত উল্লাহ চৌধুরী ও তাঁর মামাতো ভাই মো. আরাফাতকে হত্যার চেষ্টা চালানো হয়। এঘটনার পর মগনামার সাধারণ জনতা হামলাকারীদের গ্রেপ্তারের দাবিতে মানববন্ধন ও মিটিং-মিছিল করেছে। পুলিশ সাধারণ জনতার চাপের মুখে পড়ে মুহুরী পাড়া এলাকায় হামলাকারীদের ধরতে যান। এসময় মসজিদের মাইকে পুলিশকে ডাকাত ঘোষণা দিয়ে সংঘবদ্ধ শতাধিক নারী-পুরুষ পুলিশের ওপর হামলা করে। এসময় নাছির উদ্দিন বাদশা নামের একজন আসামিকে ছিনিয়ে নেয় তারা। সংঘবদ্ধ নারী-পুরুষের হামলায় তিন পুলিশ আহত হন। তাঁরা পেকুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিয়েছেন।

পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় মামলা দায়েরের পর আসামিরা গা-ঢাকা দেওয়ায় মগনামা এলাকায় পরিবেশ শান্ত হয়ে গেছে।

মগনামা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শরাফত উল্লাহ চৌধুরী ওয়াসিম বলেন, মগনামায় কিছু দুর্বৃত্ত হত্যা ও হত্যা চেষ্টার রাজনীতি শুরু করেছে। তবে এখন মগনামার পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। আমি চাই মগনামায় কোনো নিরীহ মানুষ হয়রানির শিকার না হোক। সবাই আমার এলাকার নাগরিক। গুটিকয়েক যাঁরা দুর্বৃত্ত তাঁদের মগনামার সাধারণ জনতা প্রত্যাখ্যান করেছে। চেয়ারম্যান আরও বলেন, আমার ভাইয়ের মামলায় যাঁরা জড়িত শুধু মাত্র তাঁদের ১৪ জনকে আসামি করা হয়েছে। আসামিদের প্রতিও আমার ক্ষোভ নেই। আমার কামনা, আমার ভাই সুস্থ হয়ে আমাদের মাঝে ফিরে আসুক। আইন আইনের গতিতে চলুক।

চেয়ারম্যান ওয়াসিম বলেন, যাঁরা শান্ত মগনামাকে অশান্ত করার চেষ্টা করেছে তাঁদের প্রতি আমার বিনয়ের সহিত অনুরোধ শান্ত মগনামাকে অশান্ত করার চেষ্টা না করে মগনামার সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক চলাচলে সর্বাত্মক সহযোগিতা করুন। রাজনৈতিক ঘোলাপানিতে মাছ শিকারের চেষ্টা না করে শান্তির পথে আসুন। সংঘাত কোনো সময় শান্তি আনতে পারে না। জয়নাল হত্যার পূর্বে মগনামা যেভাবে স্বাভাবিক ও শান্তিপূর্ণ ছিল সবাই মিলে তেমন শান্তিপূর্ণ মগনামা পুন:প্রতিষ্ঠা করি।

চেয়ারম্যান ওয়াসিম অভিযোগ করেন, অনেকে আমার ভাইয়ের মামলায় আসামি করার ভয়ভীতি দেখাচ্ছে। আমি বা আমার লোকজন পথে-ঘাটে হামলা করবে বলে অপপ্রচার করছে। এটা শাক দিয়ে মাছ ঢাকার মতো। চেয়ারম্যানের চেয়ারে বসে আমি ঘটনার সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে যাঁরা জড়িত তাঁদের সবাইকে আমি ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখছি।

কুচক্রী মহল কেন বারবার মগনামাকে অশান্ত করার চেষ্টা করছে জানতে চাইলে চেয়ারম্যান শরাফত উল্লাহ ওয়াসিম বলেন, আমার পাঁচ বছরের চেয়ারম্যানের মেয়াদ শেষে পথে। এই পাঁচ বছর মগনামার মানুষের সুখে দু:খে আমি পাশে ছিলাম। চলমান করোনাকালীন যাঁরা চেয়ারম্যানপ্রার্থী বলে প্রচারণা চালাচ্ছে তাঁদের কেউ জনগনের পাশে ছিল না। আমি প্রত্যেকের খবর নিয়েছি, জনগনকে আমার পরিবারের সদস্য মনে করেছি। আমার উন্নয়নে ইর্ষান্বিত হয়ে কিছু কুচক্রী মহল একের পর এক সংঘাত ও ইস্যু সৃষ্টি করে আমার গায়ে কালিমা লেপন ও আমাকে বিপদগামী করার চেষ্টা করছে। এ বিষয়ে আমি সবার সহযোগিতা চাই।

পেকুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সাইফুর রহমান মজুমদার বলেন, ইতিমধ্যে হামলাকারীদের বিরুদ্ধে মামলা রুজু হয়েছে। তাঁদের ধরতে পুলিশ চেষ্টা করছে। মগনামায় এখন শান্তি পূর্ণ পরিবেশ বিরাজ করছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category