• মঙ্গলবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১১:৩৮ অপরাহ্ন

জয়নাল আবেদীন হত্যাকান্ড মগনামায় ঘেরের বাসায় আগুন, আ’লীগের সভাপতির বাড়িসহ ৩ টি বাড়ি ভাংচুর

পেকুয়া প্রতিনিধি / ১০৪ Time View
Update : মঙ্গলবার, ৪ মে, ২০২১

পেকুয়ায় সাবেক ছাত্রদল ইউনিয়ন সভাপতি জয়নাল আবেদীন হত্যাকান্ডকে ঘিরে মগনামা ইউনিয়নে ব্যাপক সহিংসতা ও নাশকতা চালানোর খবর পাওয়া গেছে। একদল দুবৃর্ত্তরা হত্যাকান্ডকে পুঁজি করে মগনামা ইউনিয়নের বিভিন্ন প্রান্তে ক্ষমতাসীন দল আ’লীগের নেতা-কর্মীদের বাড়ি ঘরে তান্ডব ও ব্যাপক লুটপাট চালানো হচ্ছে। এর সুত্র ধরে দুবৃর্ত্তরা আ’লীগের নেতা-কর্মীদের ৩ টি বাড়িতে হামলা চালায়। এ সময় ইউনিয়ন আ’লীগের সাবেক সভাপতি আনোয়ারুল আজিম চৌং বাবুলের বসতবাড়ি ভাংচুর করা হয়েছে। হত্যাকান্ডের সুত্র ধরে বিএনপি জামায়াতের শীর্ষ সন্ত্রাসীরা একটি চিংড়ি ঘেরের দুটি বাসায় অগ্নিসংযোগ করেছে। এ সময় দুবৃর্ত্তদের দেয়া আগুনে উপজেলা স্বেচ্ছাসেবকলীগ সাংগঠনিক সম্পাদক ও সাবেক ছাত্রলীগ নেতা মকছুদ আহমদের ব্যাঙওয়াল ঘোনার দুটি বাসা পুঁড়ে ছাই হয়ে যায়। গত ২ মে (রবিবার) থেকে ৪ মে মঙ্গলবার পর্যন্ত ৩ দিন ধরে দফায় দফায় অগ্নিসংযোগ ও ভাংচুরের ঘটনা সংঘটিত হয়েছে। সুত্র জানা গেছে, ২ মে রবিবার রাত সাড়ে ৮ টার দিকে ফুলতলা ষ্টেশনে চায়ের দোকানে মুখোশ পরিহিত অবস্থায় সন্ত্রাসী হামলায় জয়নাল আবেদীন নিহত হয়। একই ঘটনায় আলী আকবর নামক অপর যুবকও মারাত্মক জখম হয়েছে। নিহত জয়নাল আবেদীন মগনামা ইউনিয়নের আফজলিয়াপাড়ার মৃত নুরুন্নবীর পুত্র ও জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল মগনামা ইউনিয়ন শাখার সাবেক সভাপতি। এর সুত্র ধরে ওই দিন আফজলিয়াপাড়া, ফুলতলাসহ আশপাশের আরো কিছু এলাকায় প্রচন্ড উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। জয়নাল আবেদীনকে চমেক হাসপাতালে রেফার করা হয়েছিল। পথিমধ্যে তার মৃত্যুর এ খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। মুহুর্তের মধ্যে শতাধিক উত্তেজিত লোকজন অস্ত্র শস্ত্র ও ধারালো দা, কিরিচ নিয়ে ওই দিন রাত ১০ টার দিকে ফুলতলা ষ্টেশনের পূর্বপাশের্^ অবস্থিত ইউনিয়ন আ’লীগের সাবেক সভাপতি আনোয়ারুল আজিম চৌং বাবুলের বাসভবনে হানা দেয়। এ সময় পুলিশ ও ইউপি চেয়ারম্যান ওয়াসিমের উপস্থিতিতে বসতবাড়ি লক্ষ্য করে ব্যাপক ইটপাটকেল ছোঁড়ানো হয়েছে। বসতবাড়ির প্রধান ফটক ভেদ করে দুবৃর্ত্তরা বাড়িতে ঢুকে পড়ে। এ সময় ব্যাপক ভাংচুরসহ লুটপাট চালানো হয়। একই দিন রাত সাড়ে ১০ টার দিকে দুবৃর্ত্তরা মাঝিরপাড়ায় ব্যাঙওয়াল ঘোনার চিংড়ি ঘেরে গিয়ে তান্ডব চালায়। ইউনিয়ন বিএনপির সাধারন সম্পাদক ও একাধিক মামলার ফেরারী আসামী হারুনুর রশিদ মানিকসহ বিএনপি জামায়াত-ছাত্রদল ও শিবিরের স্বশস্ত্র ক্যাডাররা উপজেলা স্বেচ্ছাসেবকলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সাবেক ছাত্রলীগ নেতা মকছুদ আহমদের চিংড়ি ঘেরটির দুটি বাসায় আগুন ধরিয়ে দেয়। এ সময় সেখান থেকে মালামাল, সৌর বিদ্যুতের কয়েকটি প্যানেল ও ব্যাটারী লুট করে নিয়ে যায়। ৩ মে সোমবার দুবৃর্ত্তরা মগনামা ইউনিয়নের মরিচ্যাদিয়া গ্রামে গিয়ে একটি কলোনীতে ভাংচুর চালানো হয়। মকছুদ আহমদের ছোট ভাই ব্যবসায়ী মোস্তাক আহমদের মালিকানাধীন কলোনীতে গভীর রাতে ২০/৩০ জনের অস্ত্রধারী হানা দিয়েছিল। এ সময় কলোনীর ১০ টি কক্ষে ও দুটি দোকানে ভাংচুরসহ মালামাল লুট করে নিয়ে যায়। এ ব্যাপারে মকছুদ আহমদের পিতা নুইন্যারপাড়ার আহমদ কবির প্রকাশ বদ জানান, আমার ছেলেরা ব্যবসা বাণিজ্য করে চলে। এ বছর ব্যাঙওয়াল ঘোনার চিংড়ি ঘের ইজারা নিয়েছে। এর আগে ঘোনাটি চেয়ারম্যান ওয়াসিম ২ বছর করেছে। জমি মানুষের ব্যক্তিমালিকানাধীন। মানুষ ওয়াসিমকে চিংড়ি ঘের লাগিয়ত করেননি। এরপর থেকে চেয়ারম্যান আমার ছেলেদের উপর হয়রানি আরম্ভ করেছে। জয়নাল হত্যাকান্ডের ঘটনাকে কেন্দ্র করে চেয়ারম্যান ওয়াসিম আমার ছেলেদের ঘেরের দুটি বাসা পুঁড়িয়ে দিতে তার ক্যাডারদের পাঠাই। আমার ছেলে মোস্তাক আহমদের কলোনীতে ভাংচুর ও লুটপাট করা হয়েছে। শিবির জামায়াত-বিএনপির স্বশস্ত্র ক্যাডাররা ওয়াসিমের পক্ষ হয়ে আমরা যারা আ’লীগ করি তাদের বিরুদ্ধে মগনামায় জিহাদ ঘোষনা করেছে। মিথ্যা হত্যা মামলায় আমার ছেলেদের জড়িয়ে দেয়া হয়েছে। নুইন্যার পাড়ায় আমার বাড়িতে এসে অস্ত্রের মহড়া দিয়েছে। ইউনিয়ন আ’লীগের সাবেক সভাপতি আনোয়ারুল আজিম চৌং বাবুল জানান, ওয়াসিম ও তার ক্যাডার বাহিনী আমার বাড়ি আক্রমন করেছে। বিএনপি নেতা কানা মানিকসহ অস্ত্রধারীরা এসে আমার বাড়ি থেকে মালামাল লুট করেছে। মহিলাদের অস্ত্রের মুখে জিম্মী করে ভিতরে ঢুকে লুটপাট চালায়। এমপি ও ওয়াসিমের ঐক্যতে আজকে মগনামায় আ’লীগের উপর শতাব্দীর ভয়াবহ নিপীড়ন ও জুলুম চলছে। ওয়াসিম ধানের শীষের চেয়ারম্যান। মীর কাসেম আলীর দেহরক্ষী। ইয়াবা ও রাস্ট্রের গোপন ব্যবসা করে কালো টাকার মালিক। ওই টাকা ব্যয় করছে আ’লীগ নিধনের জন্য। এমপি ছাত্রদল নেতার জানাজার মাঠ থেকে আ’লীগের নেতা-কর্মীদের হুংকার দিয়ে বলেছে এ মগনামায় কোন নৌকা নিয়ে ভোট করার প্রয়োজন নেই। আমি চেয়ারম্যান বানাবো ওয়াসিমকে। আমার হাত দিয়ে ওয়াসিম চেয়ারম্যান হবে। ভাগিনা ওয়াসিম আমাকে অপরাধীদের যে তালিকা দিয়েছে ওই তালিকায় সবাইকে সাইজ করা হবে। এখানে এক ইঞ্চিও ও এমপি আ’লীগকে ছাড় দিবেননা। এখন আমরা মিথ্যা মামলায় আসামী হয়ে গেছি। আমি তিনমাস ধরে অসুস্থ। দুর্ঘটনায় আহত হয়েছিলাম। আমাকে কেউ দেখতেও আসেননি, সাহায্য সহযোগিতা করেননি। কিন্তু শয্যা অবস্থায় আমাকে মিথ্যা হত্যা মামলা দিয়ে এমপি জাফর ও ওয়াসিম পুরস্কৃত করেছে। ইউনিয়ন আ’লীগের সাধারন সম্পাদক ভারপ্রাপ্ত সাংবাদিক মুহাম্মদ হাসেম জানান, আমরা ক্ষমতাসীন দল আ’লীগও জয়নাল হত্যাকান্ডের বিচার চাই। এ হত্যাকান্ড অত্যন্ত নিষ্টুর। যারা হত্যাকান্ডে জড়িত এদের গ্রেপ্তারসহ দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবী করছি। তবে এমপি সাহেব জানাজার মাঠ থেকে যে হুংকার দিয়েছে সেটি দায়িত্বশীল মানুষের আচরণ হতে পারেনা। তিনি এখানে নৌকা নিয়ে ভোট না করার জন্য আগাম হুংকার দিয়ে গেছেন। নেত্রী বলেছেন, হাইব্রীডদের প্রশ্রয়দাতাদেরও তালিকা করা হবে। নেত্রী বলছেন এক রকম এখানে এমপি এর বিপরীত। নৌকা নিয়ে এমপি হয়েছেন মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও আওয়ামী রাজনীতির চর্চার বিরোধীতা করবেন সেটি আমরা মেনে নিতে পারিনা। আমরা নির্যাতিত। এর সমাধানের জন্য আমরা উচ্চ পর্যায়ে প্রয়োজনে যোগাযোগ করবো। ইউনিয়ন আ’লীগের সভাপতি খাইরুল এনাম জানান, বিএনপির দুগ্রুপের মধ্যে দ্বন্ধের জের ধরে জয়নাল আবেদীন হত্যাকান্ডের শিকার হয়েছে। সেটি আ’লীগের উপর ছাপানোর কৌশল এমপি ও ওয়াসিমের।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category