• শুক্রবার, ২৫ জুন ২০২১, ১২:২১ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
সিংড়ায় নদী থেকে অজ্ঞাত ব্যক্তির লাশ উদ্ধার ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈলে বীর মুক্তিযোদ্ধার রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন গরীবের ডাক্তার খ্যাত ডা.শম্ভু দে’র মৃত্যু বার্ষিকী উপলক্ষে ফ্রি চিকিৎসা ক্যাম্প রেফারির পায়ে বল, বিতর্কিত গোলে জয় ব্রাজিলের পঞ্চগড় সুগারমিলের চুক্তিভিত্তিক শ্রমিক ছাটাই বন্ধের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন মোংলায় ৪২০ পিস ইয়াবাসহ দুই মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করেছে ‌র‌্যাব সড়কে দুর্ঘটনা এড়াতে চালকদের মাদকমুক্ত রাখা জরুরী; ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশনের ক্যাম্পেইন শরনখোলায় আওয়ামীলীগের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীতে নৌকা উপহার পেলেন চার অসহায় জেলে আনোয়ারায় আওয়ামীলীগের ৭২ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন পরাজিত হউন তবু অপরাজনীতির দরকার নাই!

ঝোপঝাড়েই মলত্যাগ রাণীশংকৈলের এক পাড়ার ৩২ পরিবারের

রাণীশংকৈল (ঠাকুরগাঁও) প্রতিনিধি / ১০৯ Time View
Update : রবিবার, ২৯ নভেম্বর, ২০২০

স্যানিটেশনের অভাবে ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলার একটি পাড়ার ৩২টি পরিবারের সদস্যরা মলত্যাগ করছে ঝোপঝাড়ে। অর্থনৈতিক সংকটের কারণে সুপেয় পানি ও স্বাস্থ্যসম্মত স্যানিটারী ল্যাট্রিনের ব্যবস্থা করতে পারছে না এখানকার বাসিন্দারা। পাচ্ছে না সরকারী সহায়তায়ও। তাই বাধ্য হয়ে ভোরের সূর্য ফোটার আগেই ৩২টি পরিবারের নারী পুরুষ মিলে প্রায় দেড়শ মানুষকে খোলা আকাশের নিচে সেরে নিতে হয় মলত্যাগের কাজ। খোলা আকাশের নিচে মলত্যাগের কারণে দুষিত হচ্ছে পরিবেশ। এতে তাড়া আক্রান্ত হচ্ছে ডায়রিয়া আমাশয়সহ কৃমিজনিতসহ পানিবাহিত রোগে।
সম্প্রতি সরেজমিনে গিয়ে জানা গেছে, নেকমরদ ঘনশ্যামপুর মৌজার একটি পুকুরের পাহাড় সরকারী সম্পত্তি হওয়ার সুবাদে, গত বছরের জুন মাসে বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা ভুমিহীনদের পূর্ণবাসনের ব্যবস্থা করেন,তৎকালীন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সোহাগ চন্দ্র সাহা। ভুমিহীনদের মধ্যে রয়েছেন আদিবাসী হিন্দু মুসলমি ও হরিজন সম্প্রদায়ের মানুষজন। তাড়া মিলে মিশে সেখানে বসবাস করলেও স্বাস্থ্য সম্মত স্যানিটেশনের অভাবে তাড়া পরিবার পরিজন নিয়ে চরম দূর্ভোগ পোহাচ্ছেন।
ঐ পাড়ার মালতি রাণি শান্তু পাহানসহ অনেকে বলেন, গত বছরে ইএসডিও নামক এনজিও’র সহায়তায় এবং আমাদের আবেদনের পেক্ষিতে তৎকালীন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সোহাগ চন্দ্র সাহা এখানে আমাদের বাসস্থানের জন্য তিনশতক জায়গা নির্ধারণ করে ৩২টি পরিবারকে এখানে বসবাস করার সুযোগ করে দেন। তারা অভিযোগ করে বলেন, ঋণ মাহজন করে মাথা গোঁজার ঘর করলেও অর্থনৈতিক অভাবে সুপেয় পানি ও স্বাস্থ্য সম্মত টয়লেট স্থাপন করতে আমরা পারিনি। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিসহ উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী দপ্তরে ঘুরেও আমরা সরকারীভাবে স্যানিটেশন ব্যবস্থার আওতায় আসতে পারিনি। স্থানীয়রা মিলে মিশে কিছু ছোট সাইজের টিউবওয়েল স্থাপন করে পাড়ার পানি সরবরাহের ভোগান্তি কিছুটা কমিয়েছি। তবে অর্থনৈতিক সংকটের কারণে স্থাপন করা সম্ভব হয়নি স্বাস্থ্য সম্মত টয়লেট। তারা আক্ষেপ করে বলেন, দেশের নাগরিক হয়েও আমরা অবেহেলিত কেউ আমাদের খোঁজ রাখে না। যা করতে হয় তা লড়াই করেই আদায় করে নিতে হয়। তাই আমরা নিজেদের অবেহেলিত হিসেবে দাবী করি।
তারা সরকারে উর্দ্ধধন কর্তৃপক্ষের নিকট দাবী জানিয়ে বলেন, স্বাস্থ্য সম্মত টয়লেট সুপেয় পানির ব্যবস্থার পাশাপাশি তাদের ঘরবাড়ীগুলো যেন সরকারী সহায়তার মধ্যে আনা হয়।
উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী অফিসের উপ-সহকারী প্রকৌশলী তরিকুল ইসলাম বলেন, আমরা ১৩টি গুচ্ছগ্রামকে স্যানিটেশন ব্যবস্থায় আনতে ইতিমধ্যে উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের কাছে পত্র দিয়েছি। অনুমোদন পেলেই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উপজেলা চেয়ারম্যান শাহরিয়ার আজম মুন্না মুঠোফোনে বলেন, এখনো মানুষ ঝোপঝাড়ে মলত্যাগ করছে এটা ভাবতে অবাক লাগছে। বিষয়টি আমি গুরুত্ব সহকারে নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলে অব্যশই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিব।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category