• মঙ্গলবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১০:৩৯ অপরাহ্ন

ঠাকুরগাঁওয়ে লকডাউনে শহর ফাঁকা, নির্দেশনা অমান্য গ্রাম্যবাজার গুলোয়

বিজয় রায় ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি / ৬৫ Time View
Update : বুধবার, ৭ এপ্রিল, ২০২১

করোনাভাইরাস সংক্রমণ রোধে ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলা প্রশাসন সরকারের প্রদত্ত পদক্ষেপ গ্রহণ করছেন।
স্বাস্থ্য রক্ষায়, সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিতে নানা পদক্ষেপ নিলেও সংক্রমণরোধে জনস্বার্থে নেওয়া এসব সচেনতনতার কার্যক্রম মানছেন না প্রত্যন্ত গ্রামগঞ্জের সাধারণ মানুষ।

এতে গ্রামগঞ্জের হাটবাজারগুলোয় অবাধে মানুষের সাথে মেলামেশার ফলে এ জনগোষ্ঠীর বড় ধরণের সংক্রমণসহ প্রাণনাশের আশঙ্কাও রয়েছে।

গত ৫ই এপ্রিল সোমবার সরকারের নির্দেশনায় সাধারণ ছুটি থাকায় বিভিন্ন জেলায় থাকা স্থানীয়রা বাড়িতে এসে গ্রাম্য হাট-বাজারগুলোতে যেন উৎসব মূখর হয়ে উঠেছে।

চায়ের দোকানে চলছে টিভি, সংবাদ ও বিভিন্ন সিনেমা দেখার পর্ব চলে অনায়াসে সামাজিক দূরত্ব না মেনে। এক রকম গাঁ ঘেঁষে গাদাগাদি বিকেল থেকে মধ্য রাত পর্যন্ত চায়ের দোকানে জমিয়ে আড্ডা দিচ্ছেন বিভিন্ন শ্রেণি পেশাজীবির মানুষসহ শহরফেরত মানুষেরা।

উপজেলা প্রশাসন ও থানা পুলিশ করোনা ভাইরাস রোধে বিভিন্ন কর্মসূচি ও প্রচার-প্রচারনা চালালেও এতে গ্রামের মানুষ কোন কর্ণপাত করছেন না।

সরেজমিনে উপজেলার গ্রামগুলোর হাঁট-বাজারের এসব দোকানগুলোতে সকালবেলা লোকজন কিছুটা কম হলেও বিকেলে উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে ।

শহরে এবং গ্রামের দোকানগুলোর মালিকরা প্রশাসন ও পুলিশের টহলের খবর নেওয়ার জন্য পাহারা রাখে, আবার কেউ দোকানের অর্ধেক শাটার খোলা রেখে কৌশলে তাদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান চালাচ্ছেন।

বুধবারে দেখা গেছে পৌরসভার গুদড়ী বাজার, রংপুরিয়া র্মাকেট, আমজুয়ান বাজার, বাকশার হাট সহ উপজেলার বিভিন্ন একাকার দোকানগুলোর সামনে মানুষের ভিড়।
এ যেন মহা আনন্দ করতে শহর থেকে গ্রামে ছুটে এসেছেন লোকজন।

সরকারি নির্দেশনামতে ফার্মেসি ও কাঁচাবাজার ছাড়া সকল দোকান বন্ধ থাকার কথা থাকলেও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সামগ্রী নিয়ে অনেকেই এসেছেন হাটে। সকাল থেকেই শুরু রয়েছে জনসমাগম। অনেকেই ব্যবহার করছেন না মাস্ক ও হ্যান্ড স্যানিটাইজার।মানছেন না কেউ স্বাস্থ্যবিধি। ফলে করোনাভাইরাস সংক্রমণের বড় ধরনের ঝুঁকি থেকেই যাচ্ছে। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত বাজারে জনসমাগম ঘটছে প্রতিনিয়ত।

শহরের চা দোকানদার মামুন ভারাক্রান্ত কন্ঠে প্রতিবেদককে বলেন, স্যার হুনছি করোনা ভাইরাসে সবারে মারতেছে, কিন্তু আমার প্রতিবন্ধি সন্তান অন্যদিকে মায়ের কিডনিতে টিউমার ঔষধের টাকা ও খাওন যোগাতে ছোট একটি চায়ের দোকানে চা বিক্রি করে সংসার চালাতে হয়। প্রশাসনের ভয়ে দোকান খুললেও ক্রেতারা আসছে না দোকানে।

রাণীশংকৈল থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এস এম জাহিদ ইকবাল বলেন, পুলিশ সব সময় বিভিন্ন এলাকায় টহল দিচ্ছে । করোনা প্রতিরোধে সচেতনতা বৃদ্ধির জন্যে ও সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।সেই সাথে নিয়মিত মাস্ক বিতরণ করছি। জনসমাগমের খবর পাওয়া মাত্রই আমরা দ্রুত ব্যবস্থা নিচ্ছি।

পৌরমেয়র মোস্তাফিজুর রহমান বলেন-শহরের অনেক দোকানদার অভিযোগ করে আমাকে জানান, দোকানপাট বন্ধ থাকায় আমরা আয় রোজকার হীন হয়ে পড়েছি, এখন আমাদের ত্রান সামগ্রী ছাড়া আর কোনই উপায় নাই। তাদের কিভাবে সহযোগীতা করা যায় সে বিষয়ে আমরা দেখছি।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সোহেল সুলতান জুলকার নাইন স্টিভ বলেন, প্রতিনিয়ত বিভিন্ন এলাকা মনিটরিং করা হচ্ছে। করোনা সংক্রমণ থেকে রক্ষা পেতে পৌর শহরসহ প্রত্যন্ত এলাকায় নিয়মিত মোবাইল কোর্টে কার্যক্রম চলছে। যদি কেউ নির্দেশনা অমান্য করে তবে তাঁর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category