• মঙ্গলবার, ২৭ জুলাই ২০২১, ০৯:২৮ অপরাহ্ন

ডুলাহাজারায় বিএনপি’র ভুট্টোকে চেয়ারম্যান প্রার্থী চায় নেতাকর্মীরা!

চকরিয়া প্রতিনিধি / ৪৬৩ Time View
Update : মঙ্গলবার, ২৯ ডিসেম্বর, ২০২০

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) চকরিয়া উপজেলা শাখার সদস্য সোহেল মাহমুদ ভুট্টোকে চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে চায় ডুলাহাজারা ইউনিয়নের তৃনমূল নেতাকর্মীরা। আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে ঘিরে সংখ্যাগরিষ্ট নেতাকর্মী ও সমর্থকদের জরিপে তিনি এগিয়ে রয়েছেন।
পূর্বকার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের সময়ে ঘনিয়ে আসছে। যদিও এখনো নির্বাচন কমিশন থেকে তফশিল ঘোষণা হয়নি। এরই মাঝে দলীয় প্রতীক পেতে ও ভোটারের মন আকৃষ্ট করতে বিভিন্ন ভাবে প্রচারণা চালাচ্ছে প্রার্থীরা।
বিএনপি দলের পক্ষ এখনো ঘোষণা না আসায় নিজের চুড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাতে রাজি নন সোহেল মাহমুদ ভুট্টো। কিন্তু সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উত্তাল ঝড় উঠছে তার প্রচারণায়। প্রার্থীতা মতামত যাচাইয়ে বিএনপি থেকে তৃনমূল নেতাকর্মীদের সর্বাধিক সমর্থন ভুট্টোর। বিষয়টি ইউনিয়নের একাধিক শীর্ষস্থানীয় নেতাও সত্যতা স্বীকার করেছেন।
অপরদিকে তিনি দিনরাত ডুলাহাজারা ইউনিয়নের আনাচে-কানাচে গিয়ে নেতাকর্মী ও সমর্থকদের খোঁজখবর নিতে দেখছে বলে জানান তার শুভাকাঙ্ক্ষীরা।
গত বিএনপি সরকার আমলে ডুলাহাজারা ইউনিয়নে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন আলহাজ্ব মিজানুর রহমান চৌধুরী খোকন মিয়া। পরে ২০১৬ সালে আওয়ামীলীগ সরকার আমলের নির্বাচনে খোকন মিয়া বিশাল ভোট ব্যবধানে হেরে যান। অর্থাৎ গতবার জাতীয় পার্টি সমর্থিত প্রার্থী নুরুল আমিন ডুলাহাজারা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন।
এবারের নির্বাচনকে ঘিরেও ডুলাহাজারা ইউনিয়নে চলছে নজিরবিহীন জল্পনা কল্পনা। কে নৌকা পাবে, নির্বাচন সুষ্ঠ হবে কিনা, মানুষ ভোট দিতে পারবে কিনা ইত্যাদি। এছাড়া স্বতন্ত্র ও সরকার দলীয় চেয়ারম্যান প্রার্থী কে হতে পারে জনগণ অনেকটা অনুমান করতে পারলেও বিএনপি থেকে এখনো কিছুই বুঝা যাচ্ছে না। তবে বিএনপি দলের চেয়ারম্যান প্রার্থীদের তালিকায় সোহেল মাহমুদ ভুট্টোসহ আরো কয়েকজনের নাম শুনা যাচ্ছে। অথচ বিএনপি দলের তৃনমূল জরীপ যাচাই করলে জনপ্রিয়তার শীর্ষে রয়েছে উপজেলা বিএনপি-র সদস্য এই ভুট্টো।
সমর্থনের কারণ জানাতে গিয়ে নেতাকর্মীরা বলেন, তিনি একজন সৎ, পরিশ্রমী ও প্রতিবাদী যুবক। সাধারণ মানুষের কাউকে বিপদে রেখে ভুট্টো এপর্যন্ত ঘুমুতে গেছে আমরা দেখিনি। তিনি কখনো প্রশ্রয় দেননি কোনপ্রকার অন্যায়কে। সত্যকে সত্য, আর মিথ্যাকে মিথ্যা বলাই তার নীতি। এই কারণেই তিনি দলীয় অনেকের গলার কাঁটা। যাঁর কারণে একজন ত্যাগী ও কারা নির্যাতিত নেতা হয়েও ইউনিয়ন বিএনপি তাকে কোনপ্রকার মুল্যায়ন করেননি। এতে তিনি ইউনিয়ন বিএনপির নেতৃত্বদাতাদের দ্বারস্থও হননি। শেষপর্যন্ত দীর্ঘ সময় পর গতবারের কমিটিতে ভুট্টোকে চকরিয়া উপজেলা বিএনপির সদস্য নির্বাচত করা হয়েছে। নেতাকর্মীরা আরো জানিয়েছেন, বিএনপি-র দুঃসময়ে মাঠ ছেড়ে আড়ালে যাননি এই সোহেল মাহমুদ ভুট্টো। দিন-রাত সার্বক্ষণিক মাঠে ছিলেন তিনি। আগামীতেও সার্বক্ষণিক পাশে থাকবেন বলে বিশ্বাস করে ডুলাহাজারা ইউনিয়নের বিএনপি সমর্থিত লোকজন। তাই ডুলাহাজারা ইউপি নির্বাচনে বিএনপি থেকে দলীয় প্রার্থী হিসেবে সোহেল মাহমুদ ভুট্টোকে পেতে চায় তারা।
পারিবারিক পরিচয় সুত্রে জানা গেছে, সোহেল মাহমুদ ভুট্টো চকরিয়া উপজেলাধীন ডুলাহাজারা ইউনিয়নের উলুবনিয়া এলাকার বাসিন্দা মরহুম জাফর আলী সওদাগরের পুত্র। পেশায় তিনি একজন ব্যবসায়ী।
এ ব্যাপারে চকরিয়া উপজেলা বিএনপি’র সদস্য সোহেল মাহমুদ ভুট্টো বলেন, দীর্ঘ ২২ বছর ধরে জাতীয়তাবাদী রাজনীতির সাথে আছি রাজপথে। যদিও তার বিনিময়ে পেয়েছি মামলা ও জেলখানার ঘানি। তৎমধ্যে ২০১৩ সালের ২৫ শে অক্টোবর বাদশা হত্যা, বিস্ফোক, সন্ত্রাস দমন, ২০১৯ সালের ২৬ শে ডিসেম্বর ডুমখালী ভোটকেন্দ্র পোড়া মামলা, এছাড়া দুই দফায় ৪৯ দিন জেল-জুলুম। তারপরও মাঠ ছেড়ে কখনো পালিয়ে যাইনি।
নির্বাচনের প্রার্থীতা সম্পর্কে তিনি আরো বলেন, বিএনপি দলীয় চেয়ারম্যান প্রার্থী কাকে ঘোষণা করবে এখনো জানা যায়নি। তবে আমি দিন-রাত নির্বাচনী মাঠ পর্যবেক্ষণে আছি। এতে কোনপ্রকার ত্রুটি নেই। দলীয় ঘোষণা পেলেই পরবর্তী পদক্ষেপ নেয়া হবে বলেও তিনি জানান।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category