• সোমবার, ২১ জুন ২০২১, ১০:৪০ অপরাহ্ন

তরুণদের ইবাদতে মহান আল্লাহ সবচেয়ে বেশি খুশি হন

বিবিসি একাত্তর ডেস্ক / ৪৪ Time View
Update : মঙ্গলবার, ১১ মে, ২০২১

ড. তুহিন মালিক, লেখক ও কলামিষ্ট

যে বাঘটি অতিশয় বৃদ্ধ, দূর্বল, রোগাক্রান্ত, ক্ষীন। সে শিকার করার সব শক্তিই হারিয়ে ফেলেছে। তার সামনে আপনি যতই ঘোরাঘুরি করুন না কেন। সে আপনাকে আক্রমণের জন্য ছুঁটে আসবে না। তার মানে, সেই বাঘটি যে নম্র ভদ্র বা বাধ্যগত। তা কিন্তু নয়। কারন তার আর আক্রমণ করার কোন শক্তি, সামর্থ্য বা ইচ্ছা নাই। ঠিক তেমনি। আমাদের শক্তি, সামর্থ্য, ইচ্ছা ও সুযোগ থাকা স্বত্বেও। শুধুমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য সেগুলোকে সেক্রিফাইস করার নামই হচ্ছে ঈমান।

তাই বৃদ্ধের ইবাদতের চেয়ে আল্লাহ অনেক অনেক বেশি খুশি হন তরুণ যৌবন বয়সের ইবাদতে। এ বিষয়ে রাসূল (সাঃ) বলেন, “যেদিন (কিয়ামত দিবসে) আল্লাহর আরশের ছায়া ছাড়া আর কোনো ছায়া থাকবে না। সেদিন তিনি সাত শ্রেনীর লোককে তাঁর আরশের ছায়ায় স্থান দিবেন। তাদের মাঝে একশ্রেনীর হলেন এমন যুবক, যারা যৌবনকাল আল্লাহর ইবাদতে কাটিয়েছেন।” (বুখারি, ৫০৪)

এই সাত শ্রেনীর মধ্যে সেই শ্রেনীকেও আল্লাহ তাঁর আরশের ছায়ায় স্থান দিবেন। যারা হচ্ছে— “যে যুবককে কোনো সুন্দরী নারী ব্যভিচারের আহবান করলে সে বলে, আমি আল্লাহকে ভয় করি।”

রাসূল (সাঃ) আরো বলেন, “হাশরের ময়দানে মানুষকে পাঁচটি বিষয়ে প্রশ্ন করা হবে- তন্মধ্যে একটি প্রশ্ন করা হবে যৌবনকাল কিভাবে কাটিয়েছো।” (বুখারি)

আমরা অনেকেই বলি, ‘এত বাচ্চা বয়সে এসব করার কি দরকার আছে!’ অথচ স্বয়ং রাসূল (সাঃ) সমাজ সংস্কারে হিলফুল-ফুযুল গড়ে তুলেছিলেন মাত্র ১৬ বছর বয়সে। হযরত আলী (রাঃ) রাসূল (সাঃ)এর সঙ্গী হয়েছিলেন মাত্র ১১ বছর বয়সে।

যুবক যুবতী ভাই বোনেরা।

আসুন, আল্লাহর জন্য সেরাটাই ভাবি। আল্লাহকে সেরা সময়টা দেই। নগদে পাওয়া সহজলভ্য অযাচিত-অনুচিত ক্ষনিকের সুখকে, চিরস্থায়ী সুখের বিনিময়ে ছেড়ে দেই। শুধুমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য।

আর রাসূল (সাঃ) বলেছেন, এই সেক্রিফাইসের বিনিময় হচ্ছে একটাই। আর তা হলো- জান্নাত। শুধুমাত্র জান্নাত। খুব বেশী কি দুরে? তারুণ্যের পর যৌবন। এরপর বার্ধক্য। এরপর …. ? এরপর সবই চিরস্থায়ী! হয় চিরস্থায়ী জান্নাত। আর না হয় চিরস্থায়ী জাহান্নাম!

যুবক যুবতী ভাই বোনেরা। আসুন, যৌবনের অযাচিত-অনুচিত ক্ষনিকের সুখের বিনিময়ে। চিরস্থায়ী সুখকে কিনে নেই। আত্মশুদ্ধির এই পবিত্র মাসে এটাই হোক তারুণ্যের ঘুরে দাঁড়ানোর প্রত্যয়। আর মৃত্যু কিন্তু কারো বার্ধক্য পর্যন্ত অপেক্ষা করবে না। বয়সের সিরিয়ালও মানবে না। আসুন, আমরা আল্লাহকে সেরা সময়টাই দেই। সেরা সময়টাকে চিরস্থায়ী জান্নাতের বিনিময়ে বিক্রি করে দেই। বিনিময়ে শুধু চিরস্থায়ী জান্নাতই নয়। বরং দুনিয়াটাও বোনাস হিসাবে পেয়ে যাবো। ইনশাআল্লাহ।

 


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category