• রবিবার, ২২ মে ২০২২, ০৭:২৫ পূর্বাহ্ন

ত্রিবার্ষিক সম্মেলন; পেকুয়ায় সদর আ’লীগে শুদ্ধি অভিযান-বাদ পড়ছেন বিদ্রোহীরা

পেকুয়া প্রতিনিধি / ৮১ Time View
Update : বৃহস্পতিবার, ১২ মে, ২০২২

কক্সবাজারের পেকুয়ায় সদর ইউনিয়ন আ’লীগে শুরু হচ্ছে শুদ্ধি অভিযান। বাদ পড়ছেন বিগত উপজেলা পরিষদ ও ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে নৌকার বিরোধীতাকারীরা। আসন্ন ত্রিবার্ষিক সম্মেলন ও কাউন্সিলে ছিটকে পড়ছেন দলের বিদ্রোহী প্রার্থী ও বিদ্রোহী প্রার্থীদের সমর্থনকারীরাও। পেকুয়ায় ক্ষমতাসীনদল আ’লীগের ত্রিবার্ষিক সম্মেলন ও কাউন্সিলকে ঘিরে দলের সাংগঠনিক তৎপরতা বৃদ্ধি পেয়েছে। সম্মেলনের ঘোষণা এসেছে। দল পুনর্গঠন প্রক্রিয়াকে নিয়ে নীতি নির্ধারক পর্যায়ে চলছে আলোচনা ও সিদ্ধান্ত। এর আলোকে বাংলাদেশ আ’লীগ পেকুয়ায় সদর ইউনিয়নে দ্রæত সময়ে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ত্রিবার্ষিক সম্মেলন। ইউনিয়ন সম্মেলনকে সমাপ্তি করার পূর্বে ক্ষমতাসীন দল আ’লীগ সদরে ওয়ার্ড কমিটিও গঠিত হয়েছে। গত ১ বছর আগে ওয়ার্ড কমিটিগুলোতে গণতান্ত্রিক চর্চার বিকাশ ঘটে। সভাপতি-সাধারন সম্পাদক নির্বাচিত হন ভোটাধিকার প্রয়োগের মাধ্যমে। ওয়ার্ড কমিটি গঠনের পর এবার গঠিত হবে ইউনিয়ন আ’লীগের কমিটি। এ দিকে দলের সম্মেলনকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গণে দেখা দিয়েছে চাঙ্গাভাব। নীতি নির্ধারক পর্যায়ে চলছে সাংগঠনিক তৎপরতা। সদর ইউনিয়ন আ’লীগের একাধিক নীতি নির্ধারক এ প্রতিবেদককে জানান, আমরা মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বিশ্বাসী যারা আ’লীগ করি আমরা নি:স্বার্থভাবে রাজনীতি করে থাকি। সম্মেলনের মাধ্যমে দলের সাংগঠনিক তৎপরতা বৃদ্ধি করা হবে। দলকে শক্তিশালী করতে হলে দায়িত্ব দিতে হবে আদর্শিক মানুষগুলোকে। আমরা শুদ্ধি অভিযানের পক্ষে। নেত্রী ঘোষণা দিয়েছেন নৌকা বিরোধীতাকারীদের আ’লীগে ঠাই হবে না। এটি নেত্রীর সাহসিক ঘোষণা। আমরা নেত্রীর ওই ঘোষণার বাস্তবায়ন ঘটাতে চাই। সদর আ’লীগের নেতা-কর্মীরা নেত্রীর এমন ঘোষণায় উৎফুল্ল হয়েছি। রাজনীতি করতে হলে বঙ্গবন্ধু কন্যার সিদ্ধান্ত মানতে হবে। আপনি আ’লীগ করবেন নির্বাচন আসলে নৌকার বিপক্ষে থাকবেন সেটি হতে পারে না। নৌকাকে পরাজিত করতে আপনি বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন অথবা বিদ্রোহী প্রার্থীর পক্ষে মাঠে নেমেছেন। এ ধরনের ব্যক্তিদের ছাড় দেয়ার প্রশ্ন অবান্তর। আমরা শুদ্ধি অভিযানকে সাধুবাদ জানাচ্ছি। দলের সাংগঠনিক সিদ্ধান্তকে মেনে নেওয়ার জন্য শুদ্ধি অভিযানের নেই বিকল্প। এ দিকে সদর ইউনিয়ন আ’লীগে গত ৩ বছর ধরে বিশৃংখলা দেখা দিয়েছে। সভাপতি এম, আজম খান ও সাধারন সম্পাদক বেলাল উদ্দিন বিএসসির মধ্যে দ্বন্ধ চলছিল। ওই দুই জনের দ্বন্ধের মধ্যে সদর আ’লীগে রাজনীতিতে অনেকদিন ধরে চলছে স্থবিরতা। গত উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে সভাপতি ও সাধারন সম্পাদক এ ২ জন দুই মেরুতে কাজ করেছে। এম,আজম খান নৌকার প্রার্থী আবুল কাসেমের পক্ষে মাঠে ছিলেন। অপরদিকে বেলাল উদ্দিন বিএসসি ছিলেন কাসেমের বিরোধী অবস্থানে। তিনি নির্বাচনে বিদ্রোহী প্রার্থীর পক্ষে ভোট করেন। নির্বাচনী মাঠে সরাসরি নৌকার প্রার্থীর বিরুদ্ধে বক্তব্য দিয়েছেন। এতে করে সাংগঠনিক বিশৃংখলার অভিযোগ তোলা হয় সম্পাদক বেলাল উদ্দিন বিএসসির বিরুদ্ধে। অন্তর্ঘাতমুলক আচরণের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে সেই সময় সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত হয়েছে। জরুরী বৈঠক আহবান করা হয় সদর আ’লীগে। বৈঠকে বেলাল উদ্দিন বিএসসিকে অপতৎপরতার জন্য দায়ী করা হয়। সেই সময় তাকে দলের সাধারন সম্পাদকের পদ থেকে অব্যাহতি দেয়ার নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়। সদর আ’লীগের সভাপতিমন্ডলী ও সম্পাদকমন্ডলীসহ ইউনিয়ন কমিটির ৬৫ জনের মধ্যে অন্তত অর্ধশতাধিক নীতি নির্ধারক বেলাল উদ্দিনের বিপক্ষে সিদ্ধান্তে পৌছেন। এ সময় তাকে সাংগঠনিক কার্যক্রম থেকে বাদও দেওয়া হয়। ওয়ার্ড আ’লীগের সভাপতি-সম্পাদক ও ইউনিয়ন আ’লীগের যৌথ সিদ্ধান্তে কার্যবিবরনীতে বেলাল উদ্দিন বিএসসির বিরুদ্ধে সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত হয়েছে। এরপর সভাপতি ও সম্পাদকের মধ্যে দ্বন্ধ আরো তীব্রতর হয়। ওয়ার্ড কমিটি গঠিত হয়েছে বেলাল উদ্দিন বিএসসিকে বাইরে রেখে। জৈষ্ঠ্য যুগ্ম সম্পাদক ফোরকান ইলাহীকে দেয়া হয়েছে ভারপ্রাপ্ত সাধারন সম্পাদকের পদ। আজম খান ও ফোরকান ইলাহীর নেতৃত্বে গঠিত হয়েছে ওয়ার্ড কমিটিসমুহ। এ ২ জনের মধ্যে অনৈক্য দুরীভূত করতে উদ্যোগ নেন জেলা আ’লীগ। গত ৮ মাস আগে জেলা আ’লীগের কার্যকরী কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ওই বৈঠকে দলের অনৈক্য ও অসাংগঠনিক তৎপরতার বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়েছে। সেই সময় বাংলাদেশ আ’লীগ কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক ও চট্টগ্রাম বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত জাতীয় সংসদের হুইপ আবু সাইদ মাহমুদ আল স্বপন এমপির উপস্থিতিতে জেলা আ’লীগের বৈঠকে বেলাল উদ্দিনসহ আরো কয়েকটি ইউনিয়নের বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়েছে। সেখানে পূর্বের সিদ্ধান্ত বহাল করা হয়। বেলাল উদ্দিন বিএসসিকে তার স্বপদে বহাল করা হয়। এ দিকে আসন্ন ইউনিয়ন আ’লীগের সস্মেলনকে ঘিরে পেকুয়া সদরে ফের দ্বন্ধ তৈরী হয়েছে। সদর আ’লীগের অনেক নেতা-কর্মী বলেন, সাংগঠনিক বিশৃংখলার জন্য আমরা বেলাল উদ্দিন বিএসসিকে দায়ী করবো। নেত্রীর ঘোষণার প্রতিফলন ঘটাতে হবে। জাতীয় ঘোষণার বাস্তব প্রতিফলন হলে বেলাল উদ্দিন বিএসসিসহ নৌকার বিরোধীতাকারী আরো অনেকে ছিটকে পড়বেন। খবরদারী বন্ধ করতে আমরা ঐক্যমতে পৌছেছি। সদর আ’লীগের ৪ নং ওয়ার্ডের সাধারন সম্পাদক মামুনুর রশিদ নুরী জানান, আমি ফেইসবুকে নৌকা বিরোধীতাকারীদের বিষয়ে ধারাবাহিক মন্তব্য করছি। সভাপতি দিদারুল ইসলাম জানান, শুদ্ধি অভিযান চলবে সদরে। ১ নং ওয়ার্ডের সভাপতি মো: কাইয়ুম ও সাধারন সম্পাদক আরমানুল ওসমান চৌধুরী জানান, বেলাল বিএসসিকে নিয়ে আমরা রাজনীতি করতে পারি না। উপজেলা আ’লীগের সহসভাপতি সদরের কাউন্সিলার বশিরুল আলম জানান, নির্বাচনে যারা নৌকার বিপক্ষে করেছে আমরা উনাদের নিয়ে সংগঠন করবো না। সদরের সভাপতি এম, আজম খান জানান, সাংগঠনিক শৃংখলা ফিরিয়ে আনতে কাজ চলছে। যারা আত্মঘাতী করেছে আমরা তাদের বিরুদ্ধে আগেই সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছি। সেটি কার্যকর করার জন্য নীতি নির্ধারক পর্যায়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। উপজেলা আ’লীগের সাধারন সম্পাদক আবুল কাসেম জানান, বেলাল উদ্দিন বিএসসিসহ যারা নৌকার বিরোধীতা করেছে তাদের বিষয়ে সাংগঠনিক ব্যবস্থার জন্য সদর আ’লীগ সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছিল।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category