• শনিবার, ১৬ অক্টোবর ২০২১, ০৯:০৯ অপরাহ্ন
শিরোনাম
খাদ্য উৎপাদন বাড়াতে গবেষণার ওপর গুরুত্বারোপ প্রধানমন্ত্রীর ময়মনসিংহে সড়ক দুর্ঘটনায় একই পরিবারের ৫ জনসহ নিহত ৭ চকরিয়ায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বাস উল্টে খাদে, ১৩ যাত্রী আহত সিংড়ার চৌগ্রাম ইউপি চেয়ারম্যান ভোলা’র নির্বাচনী উঠান বৈঠক ঠাকুরগাঁও রাণীশংকৈল হাসপাতালে ডায়রিয়া ২ শিশুর মৃত্যু চকরিয়ায় মন্দিরে হামলার ঘটনায় ২০ জনের নাম উল্লেখপূর্বক আসামী ৩০০ জন নানা আয়োজনে রুদ্রের জন্মবার্ষিকী পালন ঠাকুরগাঁও রানীশংকৈলে বিশ্বখাদ্য দিবস পালন ও ইঁদুর নিধন অভিযান এর উদ্বোধন পেকুয়ায় দোকানঘর থেকে নবজাতকের লাশ উদ্ধার ঠাকুরগাঁও রাণীশংকৈলে আ’লীগের মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থিতা ঘোষণা

নিভৃতে নিসর্গ ও পর্যটনের অপার সম্ভাবনা

বিবিসি একাত্তর ডেস্ক / ১৭৩ Time View
Update : রবিবার, ২৪ জানুয়ারী, ২০২১

তানজিনুল ইসলাম-সভাপতি, চকরিয়া যুব পরিষদ, চকরিয়া, কক্সবাজার।

পর্যটন মানুষের মনের লুকায়িত কষ্টগুলোকে ধুয়ে মুছে ঝেড়ে ফেলার একটি স্থান। যা মনে উৎফুল্লতা জাগায়। মানুষের একে অপরকে জানার আগ্রহ থেকেই পর্যটনের বিকাশ ঘটেছে। হয়তো পর্যটনের নামে নয়। কিন্তু পর্যটন বিষয়টি অনেক পুরাতন। কার্কোপোলো, ইবনে বতুতা, ফাহিয়েন, হিউয়েন সাং-সহ বিশ্ববিখ্যাত পর্যটকরা ইতিহাসে স্থায়ী হয়ে আছেন। যখন যোগাযোগের ব্যবস্থা ছিলো খুবই কষ্টকর, সেই সময়েও ভ্রমণ পিপাসুরা ঘুরে বেড়িয়েছেন দেশে দেশে। এসব বিখ্যাত পর্যটকদের অনেকেই এ উপমহাদেশে এসেছিলেন সেই কথা আমরা ইতিহাস থেকেই পাই। আজ পর্যটনের যেই ধারণা লাভ করেছে পৃথীবি ব্যাপী, দেশে গড়ে উঠেছে সমৃদ্ধ পর্যটন শিল্প, লাখ লাখ মানুষ ঘুরে বেড়াচ্ছে দেশ দেশান্তরে তা কিন্তু জগৎ সম্পর্কে তার কল্পনা ও জগৎ সত্যের প্রত্যক্ষ সমন্বয়ের অদম্য অভিপ্রায়ের কারনে।

আমরা জানি খ্রিস্টপূর্বকালে প্রথম বিশ্ব জয় করেছিল বাংলার মসলিন। পৃথীবি ব্যাপী এদেশের সুনাম ছড়িয়ে পড়েছিলো সোনারগাঁও-এ তৈরী সূক্ষ্ম বস্ত্র মসলিনের মাধ্যমে। এছাড়া পৃথিবীর সবচেয়ে বড় ম্যানগ্রোভ বন রয়েছে বাংলাদেশে যা বিশ্ববাসীকে পর্যটনে আকর্ষন করতে বড় ভুমিকা রাখছে। আমাদের রয়েছে পৃথিবীর দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকত যা অবিচ্ছিন্নভাবে ১২০ কিলোমিটার দীর্ঘ। এছাড়াও রয়েছে ডুলাহাজারা সাফারি পার্ক (যা ডুলাহাজারা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সাফারি পার্ক নামেও পরিচিত)। ১৯৯৯ খ্রিষ্টাব্দে বাংলাদেশের কক্সবাজারের চকোরিয়া উপজেলায় প্রতিষ্ঠিত একটি সাফারি পার্ক, যেখানে পশুপাখি মুক্ত অবস্থায় বিচরণ করে। এটি বাংলাদেশের প্রথম সাফারি পার্ক। তেমনিই এক প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে বেষ্টিত কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার সুরাজপুর-মানিকপুর ইউনিয়নে “নিভৃতে নিসর্গ” পার্ক। প্রাকৃতিক শোভামণ্ডিত নির্জন উঁচু-নিচু টিলা, প্রবাহমান মাতামুহুরি নদী, বিচিত্র গর্জনের মতো সুউচ্চ ঐতিহ্যবাহী প্রাকৃতিক বৃক্ষ চিরসবুজ বনের জানা-অজানা গাছ-গাছালি, ফল-ভেষজ উদ্ভিদ, লতার অপূর্ব উদ্ভিদের সমাহার ও ঘন আচ্ছাদনে গড়ে উঠছে এ পার্ক। ছায়াঘেরা পথ, সবুজ বনানী, জানা-অজানা গাছের সারি, নদীতে পাল তোলা নৌকা, পাখির কিচিরমিচির সব কিছু মিলিয়ে যেন এক অসাধারণ অনুভূতি।
তবে এই ধরনের প্রাকৃতিক পার্কগুলো আরো আকর্ষণীয় করতে পার্বত্য চট্টগ্রাম এলাকায় ট্রেকিং, হাইকিং,কায়াকিং রাঙামাটির হ্রদে নৌবিহার, মৎস্য শিকার, জলক্রীড়া, বুট ভ্রমন ইত্যাদির সুযোগ রয়েছে। ছোটদের জন্য রয়েছে বিভিন্ন খেলাধুলা ও চিত্তবিনোদনের ব্যবস্থা। আমি পেশায় একজন শিক্ষক হলেও ভ্রমন পিপাসু একজন লোক। রাঙামাটি-সাজেক, খাগড়াছড়ি, বান্দরবান, সিলেট-জাফলং, সুন্দরবন, সেন্টমার্টিন, ময়নামতি, লালবাগ কেল্লা, খৈইয়াছড়ি ঝর্ণা-সহ দেশের বিভিন্ন পর্যটন কেন্দ্র ঘুরে যা মনে জন্মালো তা হলো একটি আদর্শ পর্যটন কেন্দ্রে অবশ্যই উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা, সামাজিক বাঁধা, উন্নত সেবা ও সঠিক তথ্য সরবরাহ, অবকাঠামোগত উন্নয়ন, ধর্মীয় প্রার্থনাঘরের সমস্যা, পর্যটকদের জন্য পয়নিষ্কাশন সমস্যা, সঠিক নিরাপত্তা, চুরি, ছিনতাই, হত্যা, রাহাজানি ইত্যাদি থেকে পর্যটকদের রক্ষা করতে হবে। পর্যটকদের দিতে হবে নিরাপদে চলাচলের নিশ্চিয়তা। তবেই একটি পর্যটন থেকে নিন্মোক্ত উন্নয়ন সম্ভব:
i)ব্যাপক কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি ও বেকারত্ব লাঘব;
ii)প্রাকৃতিক সম্পদের উন্নয়ন;
iii)কুটির শিল্প ও মাঝারী শিল্পের উন্নয়ন;
iv)বৈচিত্র্যময় অর্থনৈতিক কর্মকান্ড সৃষ্টি;
v)অবকাঠামো ও যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন;
vi)বৈদেশিক বিনিয়োগ;
vii)আন্তর্জাতিক যোগাযোগ বৃদ্ধি ইত্যাদি।

পর্যটককে বলা হয় “Invisible Export Good” বা অদৃশ্য রপ্তানি পণ্য। এই অদৃশ্য পণ্যকে কাজে লাগিয়ে বিশ্বের অনেক দেশ অর্থনৈতিক উন্নয়ন ঘটিয়েছে। সপ্তম শতকে চৈনিক পরিব্রাজক হিউয়েন সাঙ বাংলাদেশ ভ্রমনে এসে উচ্ছ্বসিত হয়ে বলেছিলেন, “A sleeping beauty emerging from mists and water”
এ উচ্ছ্বসিত প্রশংসাকে সর্বদা ধরে রাখার মাধ্যমে পর্যটন শিল্প বিকাশের দায়িত্ব আমাদের। আমরাই পারি আমাদের এলাকা, দেশ ও জাতিকে পৃথীবির সামনে তুলে ধরতে। খুব শীঘ্রই জ্বলবে আলো। আলোকিত হবে “নিভৃতে নিসর্গ”।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category