• রবিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২১, ০৩:৩৮ অপরাহ্ন
শিরোনাম

পরিসংখ্যান ব্যুরোর জরিপ: হাজার মানুষের জন্য ১টি বেডও নেই হাসপাতালে

অর্থনৈতিক প্রতিবেদক / ৯৩ Time View
Update : সোমবার, ২১ জুন, ২০২১

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সুপারিশ সাড়ে তিনটি বেড হাজার জনে
চারটি বেডের জন্য গড়ে একজন সেবিকা বিদ্যমান
২৭ দশমিক ৮২ প্রতিষ্ঠানে কোনো ধরনের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নেই

স্বাস্থ্য খাতে প্রতিবছর হাজার হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়া হচ্ছে। অথচ হাসপাতালগুলোতে চলছে শয্যা সঙ্কট। দেশের সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতাল মিলে প্রতি ১ হাজার মানুষের জন্য শয্যা বা বেডের সংখ্যা গড় ০ দশমিক ৬৪টি। অর্থাৎ একটিরও কম বেড। একটি বেডের জন্য হাজার মানুষ যুদ্ধ করছে। আর বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) বলছে প্রতি ১ হাজার মানুষের জন্য হাসপাতালে গড়ে সাড়ে তিনটি বেড থাকতে হবে।

অন্য দিকে হাসপাতালগুলোতে গড়ে চারটি বেডের জন্য একজন সেবিকা কাজ করছে। এছাড়া বেসরকারী স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানের ২৭ দশমিক ৮২ শতাংশে কোনো ধরণের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা গাইডলাইন নেই। আর এই দীর্ণদশা তথ্য প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস)। তারা বলছেন, পর্যাপ্ত বেড না থাকায় সঠিক স্বাস্থ্য সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে দেশের সাধারণ মানুষ।

রাজধানীর আগারগাঁওস্থ বিবিএস অডিটরিয়ামে সোমবার বিবিএসের ন্যাশনাল একাউন্টিং উইংয়ের অধীনে বাস্তবায়নাধীন ‘সার্ভেস অ্যান্ড স্টাডিজ রিলেটিং টু জিডিপি রিবেইজিং ২০১৫-১৬’ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান জরিপ ২০১৯-এর ফলাফলে এসব তথ্য উঠে এসেছে।

বিবিএসের মহাপরিচালক মোহাম্মদ তাজুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের সচিব মুহাম্মদ ইয়ামিন চৌধুরী। অতিথি ছিলেন বিবিএসের অতিরিক্ত সচিব মুহাম্মদ মেসবাহুল আলম ও শশাঙ্ক শেখর ভৌমিক। জরীপ প্রতিবেদন তুলে ধরেন প্রকল্প পরিচালক আব্দুল খালেক।

জরিপে বিবিএস বলছে, গত ২০১৮ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত বেসরকারি হাসপাতালে শয্যা বা বেডের সংখ্যা হলো ১ লাখ ৫ হাজার ১৮৩টি। আর সরকারি হাসপাতালগুলোর বিদ্যমান শয্যা সংখ্যা বিবেচনায় প্রতি ১ হাজার মানুষের জন্য শয্যা সংখ্যা প্রায় শূন্য দশমিক ৩২টি। আর বেসরকারি হাসপাতালগুলোর বিদ্যমান শয্যা সংখ্যা বিবেচনায় প্রতি ১ হাজার মানুষের জন্য শয্যা সংখ্যা প্রায় শূন্য দশমিক ৬৪টি। ফলে সরকারি এবং বেসরকারি হাসপাতালগুলো একত্রে বিবেচনা করলে প্রতি এক হাজার মানুষের জন্য শয্যা সংখ্যা মাত্র শূন্য দশমিক ৯৬টি। যা একটিরও কম। ডব্লিউএইচও’র সুপারিশ অনুযায়ী সাড়ে তিনটির চেয়েও অনেক কম।

জরিপ আরো বলছে, স্বাস্থ্য অধিদফতরের তথ্য অনুযায়ী জুন ২০১৮ সাল পর্যন্ত বেসরকারি খাতে নিবন্ধিত স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ছিল ১৬ হাজার ৯৭৯টি। এর মধ্যে রোগ নির্ণয় কেন্দ্র ১০ হাজার ২৯১টি বা ৬০ দশমিক ৬১ শতাংশ। হাসপাতাল হলো ৪ হাজার ৪৫২টি বা মোট নিবন্ধনের ২৬ দশমিক ২২ শতাংশ এবং মেডিক্যাল ক্লিনিক হলো ১ হাজার ৩৯৭টি বা ৮ দশমিক ২৩ শতাংশ। অন্য দিকে ডেন্টাল ক্লিনিকের সংখ্যা ৮৩৯টি বা ৪ দশমিক ৯৯ শতাংশ।

২০১৬-১৭ অর্থবছরে এই সব হাসপাতালগুলোতে রাজস্ব এসেছে ১০ হাজার ৫৭২ কোটি ২৯ লাখ টাকা। পরের বছর ২০১৭-১৮ অর্থবছরে এই আয় ১৫ দশমিক ৬৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে হয়েছে ১২ হাজার ২২৫ কোটি ৫৫ লাখ ৬০ হাজার টাকা। এই আয়ের মধ্যে ৭৫ দশমিক ১২ শতাংশ চিকিৎসা সেবা থেকে, প্রায় ১৬ শতাংশ রোগ নির্ণয় থেকে, ফার্মেসি থেকে ৮ দশমিক ১১ শতাংশ এবং ক্যান্টিন থেকে প্রায় ১ শতাংশ।

বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে ৩০ জুন ২০১৮ সাল পর্যন্ত মোট ৩ লাখ ৬৮ হাজার ৫৮০ জন কর্মী নিয়োজিত ছিলেন। এদের মধ্যে ৩ লাখ ১৫ হাজার ৯৪১ জন বা ৮৫ দশমিক ৭২ শতাংশ পূর্ণকালীন এবং ৫২ হাজার ৬৩৯ জন বা ১৪ দশমিক ২৮ শতাংশ খণ্ডকালীন। নিয়োজিত মোট জনবলের মধ্যে হাসপাতালে ৫৬ দশমিক ৩২ শতাংশ, রোগ নির্ণয় কেন্দ্রে ৩৬ দশমিক ৭৯ শতাংশ এবং ক্লিনিকে ৫ দশমিক ৭ শতাংশ। আর ডেন্টাল ক্লিনিকে নিয়োজিত জনবল ১ দশমিক ১৯ শতাংশ বলে বিবিএসের জরিপে উঠে এসেছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category