• শনিবার, ১৬ অক্টোবর ২০২১, ০৯:৪৭ অপরাহ্ন
শিরোনাম
খাদ্য উৎপাদন বাড়াতে গবেষণার ওপর গুরুত্বারোপ প্রধানমন্ত্রীর ময়মনসিংহে সড়ক দুর্ঘটনায় একই পরিবারের ৫ জনসহ নিহত ৭ চকরিয়ায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বাস উল্টে খাদে, ১৩ যাত্রী আহত সিংড়ার চৌগ্রাম ইউপি চেয়ারম্যান ভোলা’র নির্বাচনী উঠান বৈঠক ঠাকুরগাঁও রাণীশংকৈল হাসপাতালে ডায়রিয়া ২ শিশুর মৃত্যু চকরিয়ায় মন্দিরে হামলার ঘটনায় ২০ জনের নাম উল্লেখপূর্বক আসামী ৩০০ জন নানা আয়োজনে রুদ্রের জন্মবার্ষিকী পালন ঠাকুরগাঁও রানীশংকৈলে বিশ্বখাদ্য দিবস পালন ও ইঁদুর নিধন অভিযান এর উদ্বোধন পেকুয়ায় দোকানঘর থেকে নবজাতকের লাশ উদ্ধার ঠাকুরগাঁও রাণীশংকৈলে আ’লীগের মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থিতা ঘোষণা

পাহাড়ে গুলিবিদ্ধ গরুটির চামড়া ও মাথা উদ্ধার, আটক-১

পেকুয়া প্রতিনিধি / ১০১ Time View
Update : শনিবার, ১৭ এপ্রিল, ২০২১

পেকুয়ায় পাহাড়ের গহীন অরণ্যে গুলি ছোড়ে একটি গরু আটক করা হয়েছে। চোর সিন্ডিকেট আটক গরুটি গহীন অরণ্যে জবাই করে। রাতে পাহাড়ের পাশর্^বর্তী স্থান চকরিয়া উপজেলার হারবাংয়ের চরপাড়া নামক স্থানে বিক্রি করছিলেন। খবর পেয়ে হারবাং পুলিশ ফাঁড়ির একদল পুলিশ সেখানে অভিযান পরিচালনা করেন। এ সময় ৬৫ কেজি মাংসসহ ২ জনকে আটক করে। জবাই পশুর চামড়া ও মাথাও জব্দ করে পুলিশ। ৯ এপ্রিল রাত সাড়ে ১১ টার দিকে চকরিয়া উপজেলার হারবাংয়ের চরপাড়া নামক স্থানে এ ঘটনা ঘটে। আটককৃত ২ ব্যক্তির মধ্যে জাকের হোছাইন নামক টইটংয়ের মাঝের পাড়ার একজনকে পুলিশ ছেড়ে দেয়। অপর আটক টইটং ইউনিয়নের মাঝেরপাড়া মৃত নুরুল হকের পুত্র বশির আহমদ (৩৬)কে আটক করে ফৌজধারী কার্যবিধির ৫৪ ধারামতে আদালতে সোপর্দ করে। আদালত তার জামিন না মঞ্জুর করেন। তাকে জেল হাজতে প্রেরণের আদেশ দেন। তবে এ বিষয়ে হারবাং পুলিশ ফাঁড়িতে একজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরো ২ জনকে আসামী করে একটি জিডি রুজু হয়েছে। যার নং ১৯৮/২১। এ দিকে জবাইকৃত পশুটির মালিকানা নিয়ে তুলকালাম কান্ড দেখা দিয়েছে। পুলিশ একজনকে আটক ও জিডি রুজু করলেও গরুর মালিকানা সনাক্ত করতে সক্ষম হননি। খবর পেয়ে ওই দিন গরুর মালিকানা নিয়ে ২ জন ব্যক্তি হারবাং পুলিশ ফাড়িতে উপস্থিত ছিলেন। সোনাইছড়ির মৃত খুইল্লা মিয়ার পুত্র আবদুল জলিল প্রকাশ জলু ও মাঝের পাড়ার বাদশাহ মিয়ার পুত্র জাকের হোছাইন ২ জনই গরুটির মালিকানা নিয়ে পুলিশ ফাড়িতে তর্কে জড়ান। পুলিশ মালিকানা বিষয়টি এড়িয়ে যান। তবে এ বিষয়ে পরষ্পরবিরোধী বক্তব্য পাওয়া গেছে। টইটং ইউনিয়নের সোনাইছড়ির খুইল্লা মিয়ার পুত্র আবদুল জলিল প্রকাশ জলু জানান, গরুটি তার নিজ মালিকানাধীন। পাহাড়ে তার নিজস্ব ৩০/৩৫ টি গরু-মহিষ রয়েছে। সে গুলি পাহাড়ে থাকে। হারবাংয়ে চরপাড়ায় বাঁশবাগানে যে গরুটির মাংস পাওয়া গেছে সেটি আমার। পুলিশকে আমি এর বর্ণনা উপস্থাপন করেছি। আসলে আমার এ গরুটি প্রায় ওজন হবে ৫ মণের। শিং ৪ ইঞ্চি মত হবে। মাথায় লালচের মধ্যে সাদা চিতারা দাগ রয়েছে। গুলি মেরে আমার গরু ধরে ফেলে। আহত অবস্থায় তারা পাহাড়ের মধ্যে জবাই করে মাংস নিয়ে গেছে হারবাংয়ের দিকে। ছোড়া গুলির জখমে চামড়া ফুটো হয়ে যায়। আমার স্পষ্ট বক্তব্য হচ্ছে জেলে গেছে ১ জন। কিন্তু পুলিশ ধরে হ্যান্ডকাপ পরেও একজনকে ছেড়ে দিয়েছে। এখানে আরও কয়েকজন আছে। যে অস্ত্র দিয়ে গুলি ছোড়ানো হয়েছে সেই অস্ত্রের রহস্য উদঘাটনও আমি চাই। অপরদিকে সোনাইছড়ি মাঝেরপাড়ার বাদশাহ মিয়ার ছেলে জাকের হোছাইন জানান, আমি কুতুবদিয়ায় ছিলাম। এ ধরনের একটি সংবাদ আমাকে হারবাংয়ের দফাদার মুঠোফোনে জানান। আমি সেখানে যায়। পুলিশ ভূলে আমাকেও হ্যান্ডকাপ পরায়। পরে পুলিশ জেনেছেন গরুটি আমার। তখন আমাকে ছেড়ে দেন। আমি থানায় এজাহার দিয়েছি। পুলিশ সেটি আমলে নেয়নি। আবদুল জলিলও জানান, তিনিও থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযোগে মাঝেরপাড়ার জাকের হোছাইন ও বশির আহমদকে অভিযুক্ত করেন। টইটংয়ের মধুখালীর স্থানীয়রা জানান, পাহাড়কেন্দ্রিক গরুচোর সিন্ডিকেট রয়েছে। পাহাড়ের গহীণ অরণ্যে ওই সিন্ডিকেট অত্যন্ত তৎপর। তারা প্রকাশ্যে অস্ত্র স্বস্ত্র নিয়ে পাহাড়ে চলাফেরায় থাকে। গৃহপালিত গরু-মহিষ-ছাগল চুরির সাথে ওই সিন্ডিকেট জড়িত। মধুখালী, লম্বাঘোনা, হারকিলারধারা, সংগ্রামের জুম, গোলপাহাড়, কচুবনিয়া, হলদেখোলা, নাটানারজিরি, ধল্যাঝিরি, আবদুল্লাহারঝিরিসহ টইটংয়ের পূর্ব ও উত্তর-দক্ষিণ সীমান্তে বিস্তীর্ণ বনভূমি রয়েছে। এসব বনভূমিতে প্রচুর গবাদিপশু বিচরণ করে। বিশেষ করে চুনতির অভায়রণ্যেও এ সব এলাকার নিকটতম স্থানে। চুনতির অভায়রণ্যের বণ্যপ্রাণীও এ সব এলাকায় বিচরণ করে। টইটং ইউপির একজন সাবেক চেয়ারম্যান নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, আসলে এখানে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন হওয়া জরুরী। মধুখালীতে নুরুল ইসলাম নামক ব্যক্তি পাহাড়ে মহিষ ও গরু পালে। তার ৪ ছেলে থাকে পাহাড়ে। তারা চুরি চামারিতে জড়িত। নুরুল ইসলামের ১ ছেলে বদিউল আলম প্রকাশ বদিয়্যা অত্যন্ত ভয়ংকর। দুর্দান্ত সাহসী ওই যুবক পাহাড়ে অস্ত্র ও ধারালো দা হাতে নিয়ে বিচরণ করে। তারা বন্যপ্রাণী শিকার করে আবার মানুষের পালিত মহিষ-গরুও চুরি করে। পাহাড়ে এখনো হরিণ দেখা যায়। ২ বছর আগে নুরুল ইসলামের ছেলে বদিয়্যা একটি হরিণ শিকার করে। সেটির মাংস মানুষের মাঝে বিক্রিও করে। জিডির বাদী ও হারবাং পুলিশ ফাড়ির এস,আই এস,এম গোলাম মোর্শেদ জানান, এখানে একজনকে আটক করা হয়েছে। তবে আটককৃত ব্যক্তিসহ ৩ জন জবাইকৃত গরুটির মালিক দাবী করছে। আদালত আসল মালিক নির্ধারণ করবেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category