• বুধবার, ০৮ ডিসেম্বর ২০২১, ০৫:২৯ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
বাংলাদেশকে ফিল্ডিং দিয়ে হলেও দুবার আউট করবে পাকিস্তান! মুরাদের পদত্যাগপত্র গ্রহণ করে প্রজ্ঞাপন জারি চকরিয়ায় আট ইউনিয়নে ৪৮ চেয়ারম্যান প্রার্থীর মাঝে প্রতীক বরাদ্দ পেকুয়ায় স্ত্রীকে প্রাণনাশ চেষ্টা, সালিশকারও আসামী ঠাকুরগাঁওয়ে চতুর্থ ধাপে ইউপি নির্বাচনে প্রতীক বরাদ্দ সাংবাদিক এমাদুল হক শামীমের রোগমুক্তি কামনায় দোয়া ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈলে সড়ক দূর্ঘটনায় বীর মুক্তিযোদ্ধার পুত্রের মৃত্যু ঠাকুরগাঁও ভ্রাম্যমাণ আদালতে দুই সার ব্যবসায়ীকে ১৫ হাজার টাকা জরিমানা নির্বাচনী সহিংসতা: তিন মামলায় প্রায় দেড় হাজার আসামি ঠাকুরগাঁয়ের পীরগঞ্জে ইয়াবা সহ ২জনের কারাদন্ড

পেকুয়ায় অপহৃত স্কুল ছাত্রীর খোঁজ মিলছেনা

পেকুয়া প্রতিনিধি / ৬৩ Time View
Update : সোমবার, ২১ জুন, ২০২১

পেকুয়ায় অপহৃত স্কুল ছাত্রী আমেনা খাতুন (১৮) খোঁজ মিলছেনা। দু’সপ্তাহ হয়েছে তবে অপহৃত ওই ছাত্রীর কোথাও নেই সন্ধান। নিখোঁজের ৪ দিন পর পেকুয়া থানায় একটি জিডি রেকর্ড করা হয়েছে। জিডির আর্জিতে পিতা বলছিলেন, মেয়েটি ভোর ৫ টার দিকে বাড়ি বের হয়ে যান। এরপর থেকে আর মেয়েটির সন্ধান পাওয়া যায়নি। পরবর্তীতে স্কুল ছাত্রী নিখোঁজ হওয়ার চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে আসে।

মেয়ের পিতা জানিয়েছেন, স্কুল ছাত্রী আমেনা খাতুনকে অপহরণ করা হয়েছে। গভীর রাতে একজন বখাটেসহ অজ্ঞাত কিছু লোক বাড়ি থেকে তার মেয়েকে জোরপূর্বক উঠিয়ে নিয়ে যায়। ওই বখাটে আমার মেয়েকে অপহরণপূর্বক অজ্ঞাতস্থানে নিয়ে যায়। এখন আমার মেয়েকে আটকিয়ে রাখে। পরবর্তীতে অপহরণকারী নিজেই মুঠোফোনে বিষয়টি আমাকে স্পষ্ট করেছে। ৭ জুন ভোর ৫ টার দিকে উপজেলার শিলখালী ইউনিয়নের মাঝেরঘোনায় অপহরণের এ ঘটনা ঘটে। অপহৃত স্কুল ছাত্রীর নাম আমেনা খাতুন। মেয়েটি ওই এলাকার জয়নাল আবেদীনের মেয়ে। ২০২০ সালে শিলখালী উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এস,এস,সি পাশ করে।

এ ব্যাপারে মেয়ের পিতা জয়নাল আবেদীন বাদী হয়ে পেকুয়া থানায় চলতি মাসের ১১ জুন পেকুয়া থানায় একটি সাধারণ ডায়েরী লিপিবদ্ধ করে। যার নং ৪১৮/২১। প্রাপ্ত সুত্র জানা গেছে, ৭ জুন ভোর রাতে স্কুল ছাত্রী আমেনা খাতুন নিরুদ্দেশ হয়েছে। স্থানীয়রা জানান, মাঝেরঘোনার মৃত কবির আহমদের পুত্র শহিদুল ইসলাম বাবুলসহ অজ্ঞাত ব্যক্তিরা বাড়ি থেকে সবার অজান্তে স্কুল ছাত্রী আমেনা খাতুনকে অপহরণ করে নিয়ে যায়। তবে কয়েকদিন বিষয়টি অস্পষ্ট ছিল। অপহরণের ৬/৭ দিন পর হঠাৎ মুঠোফোন আসে। এ সময় আমেনাকে শহিদুল ইসলাম বাবুল নিয়ে গেছে বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে।

মেয়ের পিতা জয়নাল আবেদীন জানান, আসলে আমি মনে করছিলাম আমার মেয়ে রাগ করে বাড়ি থেকে সটকে পড়ে। জিডিতে আমি তেমনটি উল্লেখ করেছি। পরবর্তীতে শহিদুল ইসলাম বাবুল বিষয়টি স্পষ্ট করে। মুঠোফোনে সে আমাকে বলেছে আমার মেয়ে আমেনাকে সে নিয়ে গেছে। আমি স্তম্ভিত হয়েছি। কারণ আমার মেয়ে পড়ালেখা করে। এখনও বিয়ে নিয়ে চিন্তা ভাবনা নেই। শহিদুল ইসলাম বাবুল একজন প্রাপ্ত বয়স্ক। তার স্ত্রী ও ছেলে মেয়ে আছে। বাবুল ও আমি রাজমেস্ত্রীর কাজ করি। আমরা দু’জনেই সমবয়সী। আমার মেয়ে তার ভাতিজি। বাবুল এর আগে আরও ৪/৫ টি বিয়ে করেছে। তার ১ম স্ত্রী ছিল রাঙ্গুনিয়ার মেয়ে। এরপর চকরিয়া থেকে দুটি বিয়ে করেছে। বর্তমান স্ত্রীও চকরিয়ার মেয়ে। পৃথক দুটি বিয়ে করেছে অন্যজনের স্ত্রীকে। বাবুল আমার মেয়েকে জোরপূর্বক অপহরণ করে।

আমেনা খাতুনের মা জোবাইদা বেগম জানান, আমার মেয়েকে অপহরণ করেছে বাবুল। আমার স্বামী ও বাবুল দু’জনই বন্ধু। মেয়েকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে গেছে। এখন কোথায় আছে জানিনা। মেয়ের চাচা জসিম উদ্দিন জানান, বাবুল বখাটে। সে আমাদের পরিবারের মান সম্মান মাটিতে মিশিয়ে দিয়েছে। আমার বড় ভাই জয়নাল ও বাবুল দু’জনই রাজমেস্ত্রী। সে বড় ঘাতকতা ও বেইমানী করেছে। চাচী কাজল রেখা জানান, আমরা কল্পনাও করেনি একজন ছোট্ট মেয়েকে নিয়ে এ ধরনের ঘটনা ঘটাবে। আমরা এর কঠিন বিচার চাই।

বাবুল ও জয়নালের অপর সমবয়সী রাজমেস্ত্রী কুতুব উদ্দিন জানান, বাবুল আমার বন্ধু জয়নালের মেয়েকে নিয়ে গেছে। এটি আমরা নিশ্চিত। মানুষের চক্ষু লজ্জা ও বিবেক শক্তি না থাকলে এ ধরনের কাজ করতে পারে। মেয়ের পিতা জয়নাল আবেদীন আরো জানান, বাবুল মেস্ত্রী আমাকে বলেছে মেয়ে কক্সবাজারে আছে। আমি পরিষদে গিয়ে চেয়ারম্যানকে বিষয়টি অবগত করেছি এবং বাবুলের মুঠোফোনের বিষয়টিও চেয়ারম্যানকে বলেছি।

পেকুয়া থানার এস,আই মিন্নত আলী জানান, জিডি হয়েছে থানায়। বিষয়টি আমি তদন্ত করছি।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category