• শুক্রবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০১:২৪ পূর্বাহ্ন

পেকুয়ায় চোরাই গাড়ির স্ট্যাম্প লিখক আ’লীগ নেতা

পেকুয়া প্রতিনিধি / ৯৭ Time View
Update : সোমবার, ১ ফেব্রুয়ারী, ২০২১

পেকুয়ায় চোরাই নসিমনের স্ট্যাম্প লিখক আ’লীগ নেতা আরমানুল ওসমান চৌধুরী। একটি চোরাই নসিমন গাড়ী নিয়ে পেকুয়ায় তুলকালাম কান্ড দেখা দিয়েছে। গাড়ীটির মালিকানা নিয়ে একাধিক পক্ষের মধ্যে হট্টগোলও দেখা দেয়। তবে স্থানীয়রা জানান, ওই নসিমন গাড়ীটি টেকনাফ থেকে চুরি হয়েছে। স্থানীয় একটি চোর সিন্ডিকেট ওই গাড়ীটি পেকুয়ায় নিয়ে আসে। অর্ধেক দামে গাড়ীটি বিক্রি করা হয়। চোরাই গাড়ীটির গ্রহীতা ও দাতার মধ্যে সম্পাদিত চুক্তির স্ট্যাম্পের লিখক ছিলেন ক্ষমতাসীন দল আ’লীগের ওয়ার্ড কমিটির সাধারন সম্পাদক। একই ভাবে চুক্তিনামার স্বাক্ষীও হয়েছেন একই ওয়ার্ডের সাবেক সভাপতি। ৩১ জানুয়ারী পেকুয়ায় সদর ইউনিয়নের বকসুচৌকিদারপাড়ায় চোরাই গাড়ীর এ সন্ধান পাওয়া গেছে। স্থানীয় সুত্র জানায়, একটি নসিমন গাড়ী নিয়ে বকসুচৌকিদার পাড়ায় ৩১ জানুয়ারী দু’পক্ষকে নিয়ে সালিশ বিচার হয়েছে। সুত্র জানিয়েছে, বকসুচৌকিদার পাড়ার মৃত শাহাব উদ্দিনের পুত্র সাদ্দাম হোসেন ওই গাড়ীটি ক্রয় করে। বিক্রেতা ছিলেন চকরিয়া কোনাখালী ইউনিয়নের চড়াপাড়ার আহমদ হোসেনের পুত্র বাচ্চু মিয়া। ৭০ হাজার টাকায় গাড়ীটি বিক্রি হয়। রাতে গাড়ীটি চোরাই হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। স্থানীয়রা জানান, বটতলিয়াপাড়ার আবু তাহেরের ছেলে মাহাদু গাড়ীর বিক্রির টাকা গুনে নেয়। বাচ্চু ও মাহাদু দু’জনই শ্যালক, ভগ্নিপতি। গাড়ীটি টেকনাফ থেকে চুরি করা হয়েছে। বাচ্চু ও মাহাদু পেকুয়ায় এনে গাড়ীটি বিক্রি করে। এ দিকে পেকুয়ায় চোরাই গাড়ী নিয়ে তুমুল হট্টগোল হয়েছে। ওই দিন রাতে বকসুচৌকিদারপাড়ায় চোরাই গাড়ী নিয়ে সালিশ বিচার হয়েছে। স্থানীয় ওয়ার্ড কমিটির সম্পাদক আরমানুল ওসমান চৌধুরী ও সাবেক সভাপতি আমিরুল খালেদ চৌধুরী বৈঠকে নেতৃত্ব দেন। বৈঠকে উপস্থিত লোকজন জানান, নসিমন বিক্রি হওয়ার পর টেকনাফ থেকে এখানে চুরির বিষয়টি জানানো হয়। মাহাদু ও বাচ্চু চোর সিন্ডিকেটের অন্যতম হোতা। বাচ্চুর বাড়ি কোনাখালীতে। সেখানে চোরদের একটি সক্রিয় গ্রুপ রয়েছে। এ ছাড়া মাহাদুসহ পেকুয়াতেও সক্রিয় চোর সিন্ডিকেট রয়েছে। ওই চোর সিন্ডিকেট পেকুয়াসহ বিভিন্ন প্রান্তে চুরি,ছিনতাইয়ে লিপ্ত। তারা সিএনজি, মোটর সাইকেল,অটোরিক্সা, নসিমন, টমটমসহ বিভিন্ন গাড়ী চুরিতে জড়িত। গাড়ীটির ক্রেতা সাদ্দাম হোছাইন জানান, আমি টাকা ফেরত নিয়েছি। টেকনাফ থেকে সেটি চুরি করা হয়েছে। জেনেছি পরে। তৃতীয় একটি পক্ষ গাড়ী গায়েব করার চেষ্টা করছে। পেকুয়ার কিছু ছেলে ও ফাঁসিয়াখালীর একটি চোর সিন্ডিকেটও এটি নিয়ে বাড়াবাড়ি করছে। মাহাদু জানান, আমার ভগ্নিপতির পক্ষে গাড়ীটি আমি বিক্রি করেছি। যখন বাড়াবাড়ি হচ্ছিল আমি টাকা দিয়ে গাড়ীটি ফেরত নিয়েছি। তবে নিয়ে আসার সময় আরেকটি পক্ষ জিম্মী করে টাকা আদায় করেছে। আরমান ও খালেদ উভয়পক্ষের মধ্যস্থতাকারী। এ ব্যাপারে সদর ১ নং ওয়ার্ড আ’লীগের সাধারন সম্পাদক আরমানুল ওসমান চৌধুরী জানান, স্ট্যাম্প আমি লিখেছি। লেনদেন আমার মাধ্যমে হয়েছে। বিক্রির সময় বিক্রেতাকে টাকা আমি বুঝিয়ে দিয়েছি। আবার ফেরতও আমার মাধ্যমে হয়েছে। গাড়ীটি চোরাই বলে প্রতীয়মান হওয়ায় সাদ্দাম হোসেনের দেওয়া টাকা ফেরত নিয়েছি। এখানে একটি পক্ষ অতিরিক্ত বাড়াবাড়ি করছে। টেকনাফ থেকে গাড়ীর মালিক আসার কথা রয়েছে। তবে আমরা গাড়ীটি মাহাদুকে দিয়ে দিয়েছি।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category