• রবিবার, ২২ মে ২০২২, ০৮:২৫ পূর্বাহ্ন

পেকুয়ায় সালিশি বৈঠকে ব্যবসায়ীকে মাথায় কুপিয়ে জখম

পেকুয়া প্রতিনিধি / ৪৬ Time View
Update : বুধবার, ১১ মে, ২০২২

পেকুয়ায় ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে জখম করেছে দুবৃর্ত্তরা। দ্বন্ধের অবসান ঘটাতে বিরোধীয় দু’পক্ষকে নিয়ে বৈঠক হয়েছে। সালিশি বৈঠকে ওই ব্যবসায়ীকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে মাথায় জখম করে। এ সময় হামলায় ওই ব্যবসায়ীর পুত্রকেও পিটিয়ে জখম করা হয়। ৭ মে (শনিবার) সকাল ১১ টার দিকে উপজেলার রাজাখালী ইউনিয়নের দক্ষিণ সুন্দরীপাড়ায় রংমার্কেট নামক স্থানে বাদশাহ সওদাগরের চায়ের দোকানে এ ঘটনা ঘটে। জখমী ব্যক্তির নাম আবু তৈয়ব (৪০) ও তার ছেলে ওসমাণ গণি (২১)। তিনি দক্ষিণ সুন্দরীপাড়ার মৃত মো: পেঠানের পুত্র। পেশায় একজন লবণ ব্যবসায়ী বলে স্থানীয়রা নিশ্চিত করেছেন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দক্ষিণ সুন্দরীপাড়ায় বসতভিটার জায়গা নিয়ে মৃত মো: পেঠানের পুত্র লবণ ব্যবসায়ী আবু তৈয়ব ও প্রতিবেশী আবুল কাসেম গংদের মধ্যে বিরোধ চলছিল। মৃত পেঠানের ৩ পুত্র আবু তৈয়ব, আবুল কাসেম, আবু ছৈয়দ পৈত্রিক ভিটায় বসবাস করছিলেন। ২৪ শতক জায়গা নিয়ে ৩ টি পরিবারের মূলত বসবাস। এ দিকে গত কয়েক বছর ধরে সীমানা বিরোধের জের ধরে আবু তৈয়ব ও আবুল কাসেম গংদের মধ্যে বিরোধ দেখা দিয়েছে। গত বছর এর জের ধরে আবুল কাসেম গং ভাড়াটে লোকজন নিয়ে ছোট ভাই লবণ ব্যবসায়ী আবু তৈয়বকে হামলা চালায়। এ সময় এলোপাতাড়ি কুপিয়ে আবু তৈয়বকে জখম করা হয়েছে। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে পেকুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। এরপর অবস্থার অবনতি হয়। তাকে চমেক হাসপাতালে রেফার করা হয়। ৭ মে শনিবার সকালে আবু তৈয়ব ও আবুল কাসেম গংদের বিরোধ নিস্পত্তির জন্য সালিশি বৈঠক হয়েছে। স্থানীয় ৬ নং ওয়ার্ড ইউপি সদস্য, ৫ নং ওয়ার্ড ইউপির বর্তমান ও সাবেক সদস্যসহ গণ্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে দক্ষিণ সুন্দরীপাড়ায় রংমার্কেটের বাদশার চায়ের দোকানে বৈঠক চলছিল। বাকবিতন্ডার এক পর্যায়ে ওই বৈঠকে উত্তেজনা বিরাজ করছিল। এর সুত্র ধরে প্রতিপক্ষ আবুল কাসেম, হাবিবুল্লাহ প্রকাশ কালু, আমানুল্লাহসহ ১০/১২ জনের দুবৃৃর্ত্তরা ধারালো লোহার রড ও গাছের বাটাম নিয়ে হামলা চালায়। এ সময় সালিশকারেদের উপস্থিতিতে হামলাকারীরা লবণ ব্যবসায়ী আবু তৈয়ব ও তার ছেলে ওসমান গণিকে পিটিয়ে ও মাথায় আঘাত করে। স্থানীয়রা ব্যবসায়ীকে উদ্ধার করে পেকুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে ওই দিন চমেক হাসপাতালে রেফার করে। এ ব্যাপারে রাজাখালী ইউপির নারী সদস্য সাদেকা বেগম জানান, এটি চরম নিষ্ঠুরতা। সালিশকারদের ব্যর্থতার কারনে এ হামলা হয়েছে বলে আমি মনে করি। আবু তৈয়বের স্ত্রী রাবেয়া বসরী জানান, অত্যাচার লেগেই আছে। আমার স্বামীকে হত্যা করতে বার বার হামলা করা হচ্ছে। আমাকে কুৎসিত গালি দিচ্ছে প্রতিনিয়ত। এর আগে আমাকেও মারধর করা হয়েছে। একবার লোহার রড নিয়ে আমার উপর হামলা হয়েছে। গৃহবধূ বুলবুল আক্তার, হামিদা বেগম, কুলছুমা জানান, আবু তৈয়বের উপর বার বার জুলুম নিপীড়ন হচ্ছে। মূলত বাপের ভিটা থেকে বিতাড়িত করতে এ ধরনের ন্যাক্কারজনক হামলা হচ্ছে। জখমী আবু তৈয়ব জানান, বহিরাগত কয়েকজন আমাকে হামলার জন্য বার বার প্ররোচিত করছে হামলাকারীদের। মুঠোফোনেও আমাকে হাকাবকা ও হুমকি ধমকি দেয়া হচ্ছে। টইটংয়ের আক্তার ও বাঁশখালীর চাম্বলের রমিজ নামক ব্যক্তিদের ইন্দনে আমার উপর এ হামলা হচ্ছে। পেকুয়া থানার ওসি শেখ মোহাম্মদ আলী জানান, লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্তপূর্বক আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category