• শুক্রবার, ২৫ জুন ২০২১, ০১:০৪ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
এডভোকেট আমজাদ হোসেন’র দ্বিতীয় মৃত্যুবার্ষিকী পালন পরিস্থিতি বুঝে যেকোনো সময় সিদ্ধান্ত : জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী চতুর্থ ধাপে ২৯৭৩ জন বীর মুক্তিযোদ্ধার নামের সমন্বিত তালিকা প্রকাশ সিংড়ায় নদী থেকে অজ্ঞাত ব্যক্তির লাশ উদ্ধার ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈলে বীর মুক্তিযোদ্ধার রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন গরীবের ডাক্তার খ্যাত ডা.শম্ভু দে’র মৃত্যু বার্ষিকী উপলক্ষে ফ্রি চিকিৎসা ক্যাম্প রেফারির পায়ে বল, বিতর্কিত গোলে জয় ব্রাজিলের পঞ্চগড় সুগারমিলের চুক্তিভিত্তিক শ্রমিক ছাটাই বন্ধের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন মোংলায় ৪২০ পিস ইয়াবাসহ দুই মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করেছে ‌র‌্যাব সড়কে দুর্ঘটনা এড়াতে চালকদের মাদকমুক্ত রাখা জরুরী; ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশনের ক্যাম্পেইন

পেকুয়ায় ৭ নারীসহ আহত-৮,গুলিবর্ষণ, বসতবাড়ি ভাংচুর

পেকুয়া প্রতিনিধি: / ৪১ Time View
Update : বৃহস্পতিবার, ৪ মার্চ, ২০২১

পেকুয়ায় হামলায় ৭ নারীসহ ৮ জন আহত হয়েছে। এ সময় সন্ত্রাসীরা ৩ টি বসতবাড়িও গুড়িয়ে দিয়েছে। ভীতি ও আতংক ছড়াতে দাগী ব্যক্তিরা ৩ রাউন্ড গুলি ছোড়ে বলে স্থানীয় সুত্রে দাবী করা হয়েছে। আহতদের স্থানীয়রা উদ্ধার করে পেকুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। এদের মধ্যে ১ জনকে চমেক হাসপাতালে রেফার করা হয়েছে। খবর পেয়ে পেকুয়া থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। ৪ মার্চ বৃহস্পতিবার বেলা ১১ টার দিকে উপজেলার বারবাকিয়া ইউনিয়নের পাহাড়ী ছনখোলারজুম নামক স্থানে এ ঘটনা ঘটে। আহতরা হলেন আবাদিঘোনার গিয়াস উদ্দিনের স্ত্রী জোবাইদা বেগম (৩৫), মো: পারভেজের স্ত্রী রুমি আক্তার (২০), আব্বাছ উদ্দিনের স্ত্রী জয়নাব বেগম (৩২), নুরুল আবছারের স্ত্রী নুরী জন্নাত (২২), মো: বাবুলের স্ত্রী এনতেহারা বেগম (২৭), শামশুল আলমের স্ত্রী নুরবানু (৬০), শিশু পুত্র ছরওয়ার (৮)। স্থানীয় সুত্র জানা গেছে, বারবাকিয়া ইউনিয়নের ছনখোলারজুম ও সীমান্তবর্তী টইটং ইউনিয়নের আবাদিঘোনায় পাহাড়ের আধিপত্য নিয়ে স্থানীয় গিয়াস উদ্দিন গং ও পাহাড়িয়াখালীর জাফর আহমদের পুত্র জমির হোসেন গংদের মধ্যে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে সম্প্রতি বারবাকিয়া ইউপির সাবেক মেম্বার ও বিএনপি নেতা জাফর মেম্বারের ছেলে, নন্না মিয়ার ছেলে গিয়াস উদ্দিন গংদের বিরোধকে কেন্দ্র করে দফায় দফায় সংঘর্ষ ও ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া হয়েছে। ঘটনার দিন সকাল ১১ টার দিকে জাফর মেম্বারের ছেলে জমির হোসেন, তার ভাই আশেক, মোহাম্মদ নুরের ছেলে নাছির, ভারুয়াখালীর শিব্বির আহমদের ছেলে নেজামসহ ৪০/৫০ জনের একদল উত্তেজিত লোকজন পাহাড়ী ছনখোলারজুম ষ্টেশনে গিয়ে গিয়াস উদ্দিনকে খোঁজছিলেন। এ সময় ওই দুবৃর্ত্তরা গিয়াস উদ্দিনের অনুসারী কয়েকজনকে ধাওয়া দেয়। এক পর্যায়ে তারা ধারালো অস্ত্র, আগ্নেয়াস্ত্রসহ গিয়াস উদ্দিন গংদের ৩ টি বাড়িতে হানা দেয়। এ সময় গিয়াস উদ্দিন গংদের আব্বাছ, বাবুল ও সাহাব উদ্দিনের বাড়িসহ ৩ টি বাড়ি ভাংচুর চালায়। এক পর্যায়ে ওই দুবৃর্ত্তরা এ সব বাড়ি থেকে ৪ টি গবাদিপশু, ৩ টি ছাগল, হাস মুরগীসহ বিভিন্ন দ্রব্য সামগ্রী নিয়ে যায়। বাবুলের স্ত্রী এনতেহারা বেগম, পারভেজের স্ত্রী রুমি আক্তারকে তারা এলোপাতাড়ি মারধর করে। এ ছাড়া পৃথক দুটি বাড়িতেও মহিলাদেরকে লাঠি দিয়ে ও বন্দুকের বাট দিয়ে জখম করে। গিয়াস উদ্দিনের স্ত্রী জোবাইদা বেগম জানান, তারা রুমিসহ ২/৩ জন নারীকে সম্ভ্রমহানির চেষ্টা চালায়। আমরা ভীত সন্ত্রস্ত ছিলাম। ডাকাত নেজামসহ আরও কয়েকজন অস্ত্রধারী ৩ রাউন্ড গুলি বর্ষণ করে। পারভেজের স্ত্রী রুমি আক্তার জানান, আমাকে টানা হ্যাঁচড়া করে বনের দিকে নিয়ে যেতে চেষ্টা চালায়। বন্দুকের বাট দিয়ে আমার হাতের বাহুতে জখম করে। বাবুলের স্ত্রী এনতেহারা বেগম জানান, আমার বাড়ির সবকিছু সন্ত্রাসীরা নিয়ে গেছে। নাম বললে রাতে গিয়ে আবার তান্ডব চালাবে। বাড়ি থেকে আসবাবপত্র ও কাগজপত্রও তারা নিয়ে গেছে। আমাদের পরিবারের পুরুষ মানুষ এখন ঘরছাড়া হয়ে গেছে। শামশুল আলমের স্ত্রী নুরবানু জানান, আমি বয়:বৃদ্ধ মহিলা। তারা আমাকেও মারধর করে। প্রত্যক্ষদর্শী নুরুল আলমের স্ত্রী সাকেরা বেগম, আক্তারের স্ত্রী রানু আক্তার, সাহাব উদ্দিনের স্ত্রী রুবি আক্তার, মৃত ছাবের আহমদের পুত্র ছৈয়দ আলম, গৃহবধূ ইসমত আরাসহ আরো অনেকে জানান, বন্দুক নিয়ে এসে তারা হামলা ও লুটতরাজ করেছে। আমরা চরম উদ্বেগের মধ্যে আছি। পুলিশ এসেও কোন সমাধান নেই। হামলাকারীরা পুলিশকে ভূল তথ্য দিয়ে নিরীহ মানুষকে বার বার হামলা করেছে। আইনী সহায়তা না পাওয়ায় নিপীড়ন বেড়েছে পাহাড়ে। পেকুয়া থানার ওসি তদন্ত কানন সরকার জানান, একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। খবর পেয়ে পুলিশ গিয়েছিল। তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category