• রবিবার, ২২ মে ২০২২, ০৭:৪৯ পূর্বাহ্ন

পেকুয়ায় ৯০ বছরের চলাচল রাস্তায় নির্মিত হচ্ছে পাকা দেওয়াল, অবরুদ্ধ শিক্ষকের পরিবার

পেকুয়া প্রতিনিধি / ৬৯ Time View
Update : শনিবার, ১৪ মে, ২০২২

কক্সবাজারের পেকুয়ায় বিচারাধীন বিতর্কিত জায়গায় নির্মিত হচ্ছে সীমানা প্রাচীর। ৯০ বছর ধরে চলাচল রাস্তা দিয়ে ১০/১৫ টি পরিবার যাতায়াত করছিলেন। তবে পেশীশক্তির বলয় তৈরী করে একটি প্রভাবশালী মহল বিরোধীয় স্থানে সীমানায় পাকা দেওয়াল নির্মাণকাজ বাস্তবায়ন করছেন। এ নিয়ে উপজেলার বারবাকিয়া ইউনিয়নের পাহাড়িয়াখালীতে স্থানীয় দুটি পক্ষ মুখোমুখি হয়েছে। চলাচল পথে ইটের কংক্রীটের দেওয়াল নির্মিত হচ্ছে। এতে করে অবরুদ্ধ হচ্ছে কয়েকটি পরিবারের অর্ধশতাধিক চলাচলকারী লোকজন। সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের একটি পরিবার অবরুদ্ধ হয়ে যাচ্ছে। প্রবীণ আ’লীগ নেতা ও অবিভক্ত বারবাকিয়ার সাবেক ইউপি সদস্যসহ আরো বেশ কিছু মর্যাদাবান ব্যক্তির চলাফেরা বন্ধ হয়ে হওয়ার মতো উপক্রম হয়েছে। পেকুয়া থানা পুলিশ ওই স্থান পরিদর্শন করেছেন। চলাচল পথের জায়গার জবর দখল ঠেকাতে কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে এম,আর মামলা রুজু হয়েছে। এর প্রতিবাদ করায় জবর দখলকারীদের হামলায় বর্ষিয়ান আ’লীগ নেতা সাবেক ইউপি সদস্য মো: ইসমাইল (৮০)কে জখম করা হয়। তাকে স্থানীয়রা উদ্ধার করে পেকুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। ওই ঘটনায় পেকুয়া থানায় একটি মামলাও রুজু করা হয়। হামলাকারীদেরকে আসামী করা হয়। এ দিকে বিতর্কিত স্থানে সীমানা প্রাচীর নির্মাণকাজ চলমান রয়েছে। মামলা হওয়ায় আসামীরা আরো অধিক ক্ষিপ্ত হয়েছে। তারা উত্তেজিত ও হিং¯্রভাব প্রদর্শন করছেন চলাচলকারীদের উপরে। প্রাপ্ত সুত্রে জানায়, বারবাকিয়া ইউনিয়নের পাহাড়িয়াখালীতে যাতায়াত পথের সীমানা বিরোধের জের ধরে সাবেক ইউপি সদস্য মো: ইসমাইল গং ও প্রতিবেশী দানুমিয়ার পুত্র ছাবের আহমদের মধ্যে বিরোধ চলছিল। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মো: ইসমাইল গং পূর্বপুরুষ থেকে পাহাড়িয়াখালীতে বসবাস করছিলেন। পৈত্রিক ভিটা ও বসতবাড়িতে যাতায়াতের জন্য একটি চলাচল পথ রয়েছে। প্রায় ৯০ বছর ধরে ওই পথ দিয়ে তার পরিবারসহ ১০/১৫ টি পরিবার যাতায়াত করছিলেন। সম্প্রতি ওই পথের জায়গা নিয়ে বিরোধের সুত্রপাত হয়েছে। দানু মিয়ার পুত্র ছাবের আহমদ ৯০ বছরের চলাচল রাস্তা আটকিয়ে দেওয়ার পাঁয়তারা করছে। ছাবের আহমদের বাড়ি চলাচল রাস্তার মূল ফটকে। অন্যদিকে ইসমাইল মেম্বারসহ তার স্বজনদের বাড়ি ওই পথের বিপরীত পিছনের দিকে। ছাবের আহমদের কুদৃষ্টি পড়ে জায়গাটির উপর। সম্প্রতি ওই পথ আটকানোর জন্য মজুদ করা হয় ইট, কংকর, বালি ও লোহাসহ নির্মাণসামগ্রী। ইসমাইল মেম্বারের বাড়ির উঠানের সামনের অংশে অন্তত ৫০ ফুট মতো জায়গায় ছাবের আহমদ সীমানা প্রাচীর নির্মাণকাজ বাস্তবায়ন করছে। বর্তমানে ছাবের আহমদ পাকা দেওয়াল নির্মাণের কাজ আরম্ভ করে। ইসমাইল মেম্বারের যাতায়াত পথে রাখা হয়েছে ইট, কংকরের স্তুপ। খবর পেয়ে পেকুয়া থানা পুলিশ ওই স্থান পরিদর্শন করেন। ছাবের আহমদ ও তার স্ত্রী বুলুআরা বেগম জানান, চলাচল পথটি তাদেরই দখলীয় সম্পত্তি। এখানে অন্য কারো জায়গা নেই। আমরা আপোষে উনাদের যাতায়াতের জন্য ৪ হাত প্রশস্ত জায়গা দিতে রাজি ছিলাম। তারা মামলা করেছে। আমাদের স্কুল পড়–য়া ছাত্রকেও বিনা কারণে আসামী করা হয়। এ ব্যাপারে সাবেক ইউপি সদস্য মো: ইসমাইল জানান, আমার উপর জুলুম চলছে। অত্যাচার অসহ্য হয়ে গেছে। আমি শেষ বয়সে এসে এ রকম জুলুমের শিকার হবো কল্পনাও করতে পারেনি। চলাচলের রাস্তার জায়গা আমি কিনেছি। এরপরও তারা দাপট দেখায়। পেশীশক্তি দিয়ে আমাকে ও আমার ছেলেদের নির্যাতন করছে। এ পথ ৯০ বছরের রাস্তা। তার ছেলে উত্তর বারবাকিয়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক (ভারপ্রাপ্ত) মো: জহির উদ্দিন জানান, আমাদের পরিবার অস্তিত্বহীন হয়ে গেছে। তারা ৯০ বছরের পথ নিয়ে ষড়যন্ত্র করছে। এ কেমন দুশমনী। আমার বাবাকে উপজেলায় সাব রেজিষ্টারের অফিসে মারধরসহ জখম করা হয়। হামলাকারীদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। অবরুদ্ধ হয়েছি আমরা। আদালতে মামলা আছে। যার নং ২১৪৭/২১। ইসমাইল মেম্বারের স্ত্রী জরিনা খাতুন জানান, আমরা কোথায় যাবো। এখানে বসবাস করছি অনেক বছর ধরে। দেয়াল দিলে আমরা আটকা পড়বো। শিক্ষক জহির উদ্দিনের স্ত্রী শারমিন আক্তার জানান, জুলুম থেকে আমাদেরকে উদ্ধার করার জন্য প্রশাসন ও সরকারকে অনুরোধ জানাবো। ইউপি সদস্য রেজাউল করিম জানান, আমরা নিষ্পত্তির জন্য চেষ্টা করছি। বারবাকিয়া ইউপির চেয়ারম্যান এ,এইচএম বদিউল আলম জানান, ইসমাইল মেম্বারসহ কয়েকটি পরিবারের যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম এ পথটি। দেয়াল হলে অসুবিধায় পড়বে এ পরিবারগুলো।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category