• বুধবার, ২৫ মে ২০২২, ১২:৫৩ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
রাঙ্গামাটিকে হারিয়ে ফাইনালে চকরিয়া কোরক বিদ্যাপীঠ চকরিয়ায় সন্ত্রাসীদের হামলায় ১ জন নিহত বিতর্ক ছাড়াই মেহেরনামা ইউনিয়নের গণশুনানী সম্পন্ন চকরিয়ায় ইউপি সচিবের উপর হামলার ঘটনায় ইউপি মেম্বার কারাগারে চকরিয়ায় জনশুমারী ও গৃহগণনা বিষয়ক অবহিতকরণ সভা অনুষ্ঠিত কোয়ান্টাম কসমো স্কুলে বিশ্ব মেডিটেশন দিবসের চিত্রাংকন প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত! চীন আক্রমণ করলে তাইওয়ানকে সামরিকভাবে হস্তক্ষেপ করবে যুক্তরাষ্ট্র : বাইডেন ফুলবাড়ীতে বোরো ধান সংগ্রহে লটারীর মাধ্যমে কৃষক নির্বাচন বেনাপোলে ৫টি বিদেশি পিস্তলসহ বাবা-ছেলে আটক। সাতক্ষীরা পৌরসভার সিইও বিরুদ্ধে অভিযোগ তদন্ত ৩০ মে

প্রিন্স মুসার কিচ্ছু নাই : ডিবি

নিজস্ব প্রতিবেদক / ৭৮ Time View
Update : মঙ্গলবার, ১২ অক্টোবর, ২০২১

সুইস ব্যাংকে ধনকুবের বলে পরিচিত মুসা বিন শমসের ৮২ মিলিয়ন ডলারসহ দেশে অনেক সম্পদ থাকার কথা দাবি করলেও তাকে অন্তঃসারশূন্য বলে মনে করছেন ডিবির যুগ্ম কমিশনার মোহাম্মদ হারুন অর রশিদ। গোয়েন্দা কার্যালয়ে জিজ্ঞাসাবাদে তিনি জানিয়েছেন। ডিবির যুগ্ম কমিশনার মোহাম্মদ হারুন অর রশিদ জিজ্ঞাসাবাদ শেষে মঙ্গলবার সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।

সন্ধ্যা ৬টা ৫৬ মিনিটে রাজধানীর মিন্টো রোডের ডিবি কার্যালয়ের প্রধান ফটকে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান হারুন অর রশিদ।

বিকেল ৩টা ২৫মিনিটে মিন্টো রোডে মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা বিভাগের (ডিবি) কার্যালয়ে যান মুসা বিন শমসের। অতিরিক্ত সচিবের ভুয়া পরিচয়ে প্রতারণার মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগে গ্রেফতার আবদুল কাদের বিষয়ে তাদের মুখোমুখি জিজ্ঞাসাবাদের কথা জানায় ডিবি।

এরপর সাংবাদিকদের ডিবি কর্মকর্তা হারুন বলেন, ‘আসলে উনি কী টাইপের মানুষ, কী রহস্যের মানুষ আমরা বুঝি নাই। তবে উনি ওনার দায় এড়াতে পারেন না। উনার সাথে ভুয়া এডিশনাল সেক্রেটারি কাদের মাঝির যে সম্পর্ক এ সম্পর্কের দায় উনি এড়াতে পারবেন না। কারণ উনার সাথে কাদেরের একটি হৃদ্যতার সম্পর্ক ছিল। যে সম্পর্কের প্রেক্ষিতে কাদের মাঝি বিভিন্ন মানুষকে ঠকিয়েছেন’।

তিনি আরো বলেন, ‘কাদের মাঝি যে বলেছে তার সাথে আইজির সম্পর্ক আছে, অনেক বড় বড় মানুষের সম্পর্ক আছে, উনার তো উচিত ছিল আমাদের ইন্সপেক্টর জেনারেল পুলিশকে জিজ্ঞাসাবাদ করা বা অন্যান্য যে ভিআইপিদের নাম বলেছে তাদের জিজ্ঞাসা করা। উনি এটি জিজ্ঞাসা করেন নাই। অতএব আমি মনে করি, কাদের মাঝির সাথে তার একটি যোগসূত্র রয়েছে এবং উনি নিজে বলেছেন উনি প্রতারিত হয়েছেন। উনি একটি মামলা করবেন। আমরা সবকিছু তদন্ত করছি। তদন্ত করে যেটা করা দরকার সেটাই আমরা করব। আর উনি যদি মামলা করেন সেটিও আমরা ইনভেস্টিগেশন (তদন্ত) করব’।

‘মুসা বিন শমসের দাবি করেছেন তিনি অনেক সম্পদের মালিক, আপনাদের কাছে কী মনে হয়েছে’ সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে ডিবির এ যুগ্ম কমিশনার বলেন, ‘আমার কাছে মনে হয়েছে উনি অন্তঃসারশূন্য। ওনাকে একটি ভুয়া লোক মনে হয়েছে। তার কিচ্ছু নাই। গুলশানে ৮৪ নম্বর রোডে তার স্ত্রীর নামে একটি বাড়ি রয়েছে। বাংলাদেশে তার নামে আমরা কোনো কিছু পাই নাই’।

‘উনি বলেছেন, এ দেশে যা উন্নয়ন হয়েছে সবটাই উনি করেছেন। উনি খামখেয়ালির বশে যে কথা বলেছেন সেটি কাদের মাঝি সবখানে বিক্রি করেছে’।

এর আগে দুদকে দেহরক্ষী নিয়ে আসলেও মঙ্গলবার তাদের দেখা যায়নি, এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে হারুন বলেন, ‘আমরা ইতিমধ্যে বলে দিয়েছি, এটার মধ্যে কোনো বডিগার্ড নিয়ে আসা যাবে না। আর উনার যে বাস্তব অবস্থা দেখলাম, এক উনি অসুস্থ আর দ্বিতীয়ত উনি অন্তঃসারশূন্য। ওনার কোনো কিছুই নাই। এর জন্য টাকা লাগে সে টাকাও নাই। উনি মুখরোচক গল্প বলে’।

‘মুসা বিন শমসের প্রতারণার শিকার হয়েছেন বলে দাবি করেছেন, জিজ্ঞাসাবাদে ডিবির কী মনে হয়েছে’ এ প্রশ্নে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমরা কয়েক ঘণ্টা কথা বলেছি। ওনাকে আমার কাছে রহস্যময় মানুষ মনে হয়েছে। উনাকে বারবার জিজ্ঞাসা করেছি আব্দুল কাদের একটি নাইন পাস লোক। তাকে আপনি এত বড় কোম্পানির অ্যাডভাইজার বানালেন। সে আপনাকে ১০ কোটি টাকার চেক দিল, আপনি তাকে ২০ কোটি টাকার চেক দিলেন। তিনি বলেন লাভসহ দিয়েছি। এক মাসে কেউ কি ১০ কোটি টাকায় ১০ কোটি টাকা লাভ দেয়? অর্থাৎ উদ্দেশ্য কী ছিল আমরা জানি না। উনি দেখেছেন কাদের মাঝি অনেক বড় বড় লোকের সাথে কথা বলেছেন। কিন্তু বাস্তবে দেখলাম তার সঙ্গে (কাদের) অজস্র কথোপকথন আছে। উনি তাকে বাবা-সোনা ডাকেন এবং তার ছেলের চেয়েও তার সাথে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক’।

হারুন বলেন, ‘ওনার (মুসা) অফিসে টানানো ৮২ মিলিয়ন ডলারের মালিক মুসা বিন শমসের। এ বিষয়ে আমরা জিজ্ঞাসাবাদ করলে তিনি বলেন, ঘটনা সত্য। আমার সুইস ব্যাংকে টাকাটা আছে। আমি বললাম, আপনার সুইস ব্যাংকে টাকা ৮২ মিলিয়ন, এর কাগজ কাদেরের ওখানে থাকে কেন? উনি (মুসা বিন শমসের) বলেন, আমার ৮২ মিলিয়ন ডলার আছে। আমার একটি কলমের দাম ১০ কোটি টাকা। ঘড়ির দাম ৮ কোটি টাকা। আমার জুতার দাম ১০ কোটি। তিনি টাঙ্গাইলে তিন লাখ একর জমির মালিক। গাজীপুরে এক হাজার একর জমির মালিক। উনি আমাদের সামনে বললেন’।

তবে মুসা বিন শমসের সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমাকে ডিবির জয়েন কমিশনার হারুন সাহেব ডেকেছিলেন। একটা ফ্রড লোক আব্দুল কাদের, সে এডিশনাল সেক্রেটারি বইলা কার্ড ছাপিয়ে আমার অফিসে গিয়েছে। আমার সাথে বিভিন্ন সময় ছবি তুলেছে এবং সে মাঝে মাঝে আমার সামনে বসে বড় বড় লোকদের সাথে কথা বলত। যেমন আইজিপি, আর্মির জেনারেল আরো মানুষজনের সাথে কথা বলত। আমার বিশ্বাস করাল, যে সে এডিশনাল সেক্রেটারি। পরে প্রমাণিত হলো সে এডিশনাল সেক্রেটারি না। সে একটি ফ্রড। পরে তাকে বের করে দিলাম আমি’।

তিনি বলেন, ‘এই কাদেরের ব্যাপারেই আমাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে। আমি যা বলার ছিল স্পষ্ট বলে দিয়েছি। তারা সন্তুষ্ট। সে জন্মগতভাবেই একটা মিথ্যাবাদী। আমিও প্রতারণার শিকার হয়েছি। আমি ভিকটিম (ভুক্তভোগী) হিসেবে কাদেরের বিরুদ্ধে মামলা করব’।

কাদেরর সাথে ছবির বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমার কাছে কেউ গেলে ধরো তোমাদের অনেক সিনিয়ররা, অনেক এডিটর বা নিউজ এডিটর এরা আমার সাথে যেয়ে ছবি তোলে। এখন ছবি তুলতে চাইলে তো আমি না করতে পারি না। এখন আমার ছবি নিয়ে যদি কেউ প্রতারণা করে সেটার দায় দায়িত্ব তো আমি নিতে পারি না’।

কাদেরের কাছে কী পরিমাণ টাকা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমি সব স্টেটমেন্ট ডিবির জয়েন কমিশনার হারুন সাহেবের কাছে দিয়েছি। ওনারা ধৈর্য নিয়ে আমার সব কথা শুনেছেন। আমরা বিস্তারিত আলাপ করেছি। পরে এই ডিসিশন (সিদ্ধান্ত) হয়েছে ওর বিরুদ্ধে ডিবি তো করবেই, আমরাও একটা মামলা করব’।

কাদেরের সাথে ২০ কোটি টাকা লেনদেনের চেক পাওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘ফেরত দিয়ে দিছি।’

ডিবি জানায়, সম্প্রতি গ্রেফতার কাদের নিজেকে মুসা বিন শমসেরের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের অ্যাডভাইজার হিসেবে পরিচয় দিতেন। এ ছাড়া প্রতারক কাদেরের সাথে কিছু লেনদেন ও কথোপকথনের সূত্র ধরে তাদের মুখোমুখি করে জিজ্ঞাসাবাদ করে ডিবি।

এর আগে রো দুপুরে ডিবি কার্যালয়ে মুখোমুখি করা হয় মুসা বিন শমসেরের ছেলে জুবি মুসা ও কাদেরকে।

তখন জুবি মুসা দাবি করেন, তার বাবার বয়স হয়েছে। তিনি মনখোলা মানুষ। কাদের এ সুযোগ নিয়েছেন। যখন বিষয়টি তাদের পরিবার জানতে পারে তখন থেকে কাদেরের সাথে তার বাবার সম্পর্ক ছিন্ন হয়।

গত ৭ অক্টোবর রাজধানীর কারওয়ান বাজার, মিরপুর এবং গুলশান এলাকায় অভিযান চালিয়ে অস্ত্র ও প্রতারণার বিপুল আলামতসহ গ্রেফতার করা হয় কাদেরকে।

এ সময় তার তিন সহযোগীকেও গ্রেফতার করা হয়। তারা হলেন কাদেরের দ্বিতীয় স্ত্রী শারমিন চৌধুরী ছোঁয়া, অফিস ম্যানেজার শহিদুল আলম ও আনিসুর রহমান। কাদেরের আদি বাড়ি নোয়াখালীর সুবর্ণচরে। তার বাবা জীবিকার সন্ধানে সন্দ্বীপে পাড়ি জমিয়েছিলেন। মাছ ধরে ও মাঝির কাজ করে জীবিকা উপার্জন করতেন।

ডিবি জানায়, এমন ভূমিহীন ভাসমান আবদুল কাদেরের ঢাকা এবং ঢাকার বাইরে রয়েছে কোটি কোটি টাকার সম্পদ। এর মধ্যে গুলশান-১ নম্বরের জব্বার টাওয়ারের প্রায় ৬ হাজার স্কয়ার ফুট আয়তনের অফিস রয়েছে। কারওয়ান বাজারেও রয়েছে আরো একটি অফিস।

মিরপুর-৬ নম্বরে বসবাস করলেও একাধিক ফ্ল্যাট, গাজীপুরে বাগানবাড়ী, বহুতল ভবন রয়েছে কাদেরের। ডাচ্-বাংলা ব্যাংক, মার্কেন্টাইল ব্যাংক, আইএফআইসি ব্যাংক, সোনালী ব্যাংক ও সিটি ব্যাংকসহ আরও কয়েকটি ব্যাংকে রয়েছে তার একাধিক অ্যাকাউন্ট।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category