• সোমবার, ২৯ নভেম্বর ২০২১, ০৫:৫৭ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
ঠাকুরগাঁও শীতের দাপটে ছিন্নমুল ও নিম্ন আয়ের মানুষের ভোগান্তি গুয়াপঞ্চক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি হলেন হাসানুর রশীদ চাতরী ইমাম হোসাইন (রাঃ) সুন্নী সমাজ কল্যাণ পরিষদের ১১তম মাহফিল সম্পন্ন বদরখালীতে চশমা প্রতীকের গণজোয়ার গণতন্ত্র সম্মেলনে দাওয়াত না পাওয়া নিয়ে চিন্তার কিছু নেই : পররাষ্ট্রমন্ত্রী লিটনের প্রথম টেস্ট শতক নাসিরনগরে সাপ আতংক নিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার প্রেস ব্রিফিং রামানন্দ খাজুরা ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে সতন্ত্র প্রার্থী মুকুল হোসেন পেকুয়ায় ৬ষ্ঠ শ্রেণীর স্কুল ছাত্রী নিখোঁজ উজানটিয়ায় জনসমুদ্র চশমার পথসভা, সুষ্ঠু ভোট নিয়ে শংকা

বিচ্ছেদ পরবর্তী মোহরানা মামলা ও জমি বিক্রির জেরঃ মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর তথ্য দিয়ে এক নিরীহ প্রাইমারী শিক্ষিকা হয়রানীর অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক,চকরিয়া / ১৫১ Time View
Update : বুধবার, ১০ ফেব্রুয়ারী, ২০২১

বিচ্ছেদ পরবর্তী মোহরানা মামলা দায়ের ও নিজ নামীয় সম্পত্তি বিক্রয়ের জের ধরে মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও নানা ধরণের বিভ্রান্তিকর তথ্য দিয়ে বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ করে রোজিনা আক্তার নামে এক নিরীহ প্রাইমারী শিক্ষিকাকে হয়রানীর অভিযোগ উঠেছে তার পূর্বের স্বামী ও শশুড়ের বিরুদ্ধে। শুধু তাই নয় তারা ওই শিক্ষিকাকে চাকুরীচ্যুত ও সামাজিকভাবে হেয় করতে সরকারী বেসরকারী ২৭টি দপ্তরে অভিযোগ দায়ের করেছেন। হয়রানীর শিকার ওই শিক্ষিকা বর্তমানে চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলার আশিয়া ফারুক রিজিয়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক হিসেবে কর্মরত রয়েছেন।

হয়রানীর শিকার প্রাইমারী শিক্ষিকা রোজিনা আক্তার বলেন, কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার ডুলাহাজার ইউনিয়নের পূর্ব মাইজপাড়া গ্রামের হামিদুল হকের ছেলে তামজীদ মোহাম্মদ শাহেদের সাথে গত ২০১৩ সালের ৫ এপ্রিল ইসলামী শরীয়ত মোতাবেক পারিবারিকভাবে আমার বিয়ে হয়। পরবর্তীতে আমি ২০১৩ সালে আমার স্বামীর ঠিকানায় ভোটার হয়ে এনআইডি (জাতীয় পরিচয়পত্র) কার্ড গ্রহন করি। বিয়ের সময় তামজীদ মোহাম্মদ শাহেদ ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক উখিয়া কোর্টবাজার শাখায় জুনিয়র অফিসার (ক্যাশ) হিসেবে কর্মরত ছিলেন। বিয়ের পর আমার স্বামী আমাকে চট্টগ্রামের একটি ভাড়া বাসায় তুলেন। সেখানে আমাদের দাম্পত্য জীবন সুখেই কাটছিলো। রোজিনা আক্তার বলেন, চট্টগ্রাম সিটি বিশ^বিদ্যালয় কলেজ থেকে উদ্ভিদ বিদ্যা বিষয়ে ¯œাতক ডিগ্রী পাশ করার পর ২০১৪ সালে আমি টেকনাফ উপজেলার সাবরাং উচ্চ বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষকা হিসেবে এক বছর চাকুরী করি। আমার স্বামী তামজীদ মোহাম্মদ শাহেদ ফার্স্ট সিকিউরিটি ব্যাংকে চাকুরীকালীন সময় ব্যাংকে গ্রাকদের বিদ্যুৎ বিলের টাকা জমা নিয়ে জালিয়াতির অভিযোগে ২০১৫ সালের ২০ ডিসেম্বর চাকুরীচ্যুত হন। পরে তিনি বেকার হয়ে পড়েন।

ভোক্তভোগী শিক্ষিকা রোজিনা আক্তার বলেন, সাবরাং উচ্চ বিদ্যালয়ে চাকুরীকালীন আমার জমানো টাকা এবং ২০১৬ সালে পূবালী ব্যাংক পটিয়া শাখা থেকে ৪ লাখ টাকা লোন নিয়ে ডুলাহাজারা আমার শশুড় বাড়ির পাশে আমার নামে ক্রয়কৃত জমির উপর ৫ কক্ষ বিশিষ্ঠ একটি সেমিপাকা বাড়ি নির্মাণ করি। ওই বাড়িতেও আমাদের দাম্পত্য জীবণ মুটামোটি সুখেই কাটছিলো। তিনি আরও বলেন, ২০০৮ সালে অনুষ্ঠিত প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় সহকারী শিক্ষক পদে লিখিত পরীক্ষায় অংশ গ্রহন করে ২০১০ সালে ঘোষিত ওই পরীক্ষার ফলাফলে আমি উত্তীর্ণ হই। পরবর্তীতে চুড়ান্ত নিয়োগ প্রক্রিয়ার পর ২০১৬ সালে আমি চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলার আশিয়া ফারুক রিজিয়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক হিসেবে চাকুরীতে যোগদান করি। তারপর থেকে অধ্যাবধি পর্যন্ত আমি আমার কর্মস্থলে নিষ্ঠ ও সততার সাথে কর্তব্য পালন করে যাচ্ছি।

শিক্ষকা রোজিনা আক্তার বলেন, সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চাকুরীতে যোগদান করার পর আমার বেকার স্বামী টাকার জন্য বিভিন্ন সময় আমাকে গালিগালাজ ও মারধর করে নির্যাতন চালাতেন। তারপরও একদিন দাম্পত্য জীবনে সুখ ফিরে আসবে এই আশায় সকল অত্যাচার নির্যাতন সহ্য করে আমি স্বামীর সংসার করি। এক সময় আমার বেকার স্বামীর অত্যাচার নির্যাতনের মাত্রা সহ্যের সীমা ছাড়িয়ে গেলে প্রাণহানির শংকায় আমি ২০১৭ সালের ৭ ডিসেম্বর আমার স্বামী তামজীদ মোহাম্মদ শাহেদকে আনুষ্ঠানিকভাবে ডিভোর্স দিয়ে আলাদা হয়ে যাই। পরবর্তীতে তামজিদ মোহাম্মদ শাহেদ সন্ত্রাসী দলবল নিয়ে পটিয়ায় আমার বাসা থেকে আমাকে তুলে নিতে চাইলে বিষয়টি আমি স্থানীয় পটিয়া থানা পুলিশকে অবহিত করি। তখন থানা থেকে পুলিশ আসার পূর্বেই কৌশলে তারা পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় আমি আমার ডিভোর্সী স্বামী ও তার অজ্ঞাতনামা সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে পটিয়া থানা একটি সাধারণ ডায়েরী (জিডি) করি। যার নম্বর -৪৫৫/১৭। পরবর্তীতে আমি আমার ভোটার সরকারী যথায়ত নিয়মের মাধ্যমে ২০১৮ সালে চকরিয়া থেকে আমার পৈত্রিক পুরানো বাড়ি পটিয়া উপজেলার কুলাগাঁও এলাকায় স্থানান্তর করি। বিয়ের পর শশুড় বাড়ির ঠিকানায় প্রথম ভোটার হওয়া এবং পরবর্তীতে তা নিজ পৈত্রিক ঠিকানায় স্থানান্তর ছাড়া আর কোথাও আমি ভোটার হইনি। তারপর থেকে আমি ৫২ নং এনায়েত বাজার, কতোয়ালী, চট্টগ্রাম এলাকায় আমার পৈত্রিক খরিদা বসতবাড়িতে বসবাস করে আসছি।

হয়রানীর শিকার শিক্ষিকা রোজিনা আক্তার বলেন, আমি আমার স্বামী তামজীদ মোহাম্মদ শাহেদকে ডিভোর্স দেয়ার পর থেকে বিভিন্ন সময় আমার মোহরানার পাওনা আদায়ের জন্য তার কাছে ধর্ণা দিয়েছি। কিন্তু তিনি পরিশোধের আশ^াস দিয়ে তিনটি বছর ধরে আমার সাথে প্রতারণা করে যাওয়ায় ২০২১ সালের জানুয়ারী মাসে মোহরানা, খোরপোষ ও অন্যান্য পাওনাধি আদায়ের জন্য ডিভোর্সী স্বামী তামজীদ মোহাম্মদ শাহেদকে আসামী করে চট্টগ্রামের মাননীয় প্রথম সিনিয়র সহকারী জজ ও পারিবারিক আদালতে মামলা দায়ের করি। পরবর্তীতে নিরাপত্তার অভাবে আমার পারিশ্রমীকের টাকা দিয়ে ডুলাহাজারায় তিলে তিলে গড়া জমি ও বসতবাড়ি অন্যদের কাছে বিক্রি করে দেয়ায় এবং আমার নামীয় অন্যান্য সম্পত্তি সমুহ যাতে ভোগ দখল করতে না পারি সেজন্য আমার সাবেক স্বামী ও শশুড় নানান ধরণের চক্রান্ত শুরু করে।

শিক্ষিকা রোজিনা আক্তার বলেন, মোহরানা মামলা দায়ের ও নিজ নামীয় জমি বিক্রির পর থেকে আমার সাবেক স্বামী তামজীদ মোহাম্মদ শাহেদ ও তার পিতা হামিদুল হক বিভিন্নভাবে হুমকী দিয়ে আসছেন। তারই সূত্র ধরে তারা মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও নানা ধরণের বিভ্রান্তিকর তথ্য সরবরাহের মাধ্যমে আমাকে সহকারী শিক্ষক পদ থেকে চাকুরীচ্যুত ও ২০১৮ সালে নতুনভাবে বিয়ে করা নতুন স্বামীর সংসার ভাঙ্গার জন্য সরকারী বেসরকারী ২৭টি দপ্তরে মিথ্যা অভিযোগ দায়ের করেছেন। ওইসব অভিযোগের বাদি তামজীদ মোহাম্মদ শাহেদের পিতা হামিদুল হক হলেও আবেদনে মোবাইল নম্বর দেওয়া হয়েছে ছেলে শাহেদের। এমনকি আমার সাবেক স্বামী ও তার পিতা বিভিন্ন দপ্তরে করা অভিযোগের কপি বিভিন্ন গণমাধ্যমে সরবরাহ করে তা প্রকাশের মাধ্যমে আমি ও আমার পরিবারকে সামাজিকভাবে হেয় করে চলেছেন।

শিক্ষিকা রোজিনা আক্তার বলেন, গত ২২ বছর পূর্বে বাবা ও ১৬ বছর পূর্বে মা’কে হারিয়ে আমরা তিন ভাইবোন এতিম অবস্থায় নানা ও খালার বাড়িতে থেকে বড় হয়েছি। সেখান থেকে খেয়ে না খেয়ে নিকট আতœীয়দের সহায়তায় লেখাপড়া করা অবস্থায় জীবনকে প্রতিষ্ঠিত করা জন্য চাকুরীর সন্ধানে ছুটে চলেছি। তারই সূত্র ধরে এইচএসসি পাশ করার পর পরই সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পদে আবেদন করি। ২০০৮ অনুষ্ঠিত ওই পরীক্ষায় যথারীতি অংশ নিয়ে মহান আল্লাহ’র রহমতে ২০১০ সালে ঘোষিত ফলাফলে আমি কৃতিত্বের সাক্ষর রাখি। তারপর থেকে জীবণ সংগ্রামের দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়েছি। কিন্তু বর্তমানে আমার সাবেক স্বামী ও তার পিতা ষড়যন্ত্রমুলকভাবে আমাকে চাকুরীচ্যুত এবং স্বামীর সংসার থেকে বিচ্ছেদের জন্য উঠে পড়ে লেগেছে। বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিনিধি পরিচয় দিয়ে আমাকে হুমকি ধমকি প্রদানের পাশাপাশি আমার নতুন শশুড় বাড়ির ঠিকানাতেও তারা মিথ্যা তথ্য সরবরাহ করছে। ফলে বিষয়টি নিয়ে আমি খুবই উদ্বিগ্ন ও হতাশায় ভুগছি। শিক্ষক রোজিনা আক্তার বলেন, ছোট বেলা থেকে মা-বাবা হারা একজন এতিম শিক্ষক হিসেবে আমি এই ষড়যন্ত্রকারীদের বিচার মহান সৃষ্ঠিকর্তার কাছেই দিলাম।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category