• বুধবার, ০১ ডিসেম্বর ২০২১, ০১:১৮ অপরাহ্ন
শিরোনাম
পেকুয়ায় দুই হাজতি মেম্বার নির্বাচিত এবারে দুই নারীসহ আমিরাত থেকে ২৬ জন প্রবাসী সিআইপির মর্যাদা পেয়েছেন সাবেক সাংসদ শাহাদাত হোসেন চৌধুরীর জানাজা সম্পন্ন, পারিবারিক কবরস্থানে দাফন কবি হিমেল বরকত’র সাহিত্যে বিপন্ন মানুষের কন্ঠস্বর ঠাঁই পেয়েছে নির্বাচনী সহিংসতা: পেকুয়ায় আ’লীগ নেতার বসতবাড়ি ভাংচুর চকোবি হোস্টেলের সমাপনি ক্লাস আনুষ্ঠানিকভাবে সম্পন্ন ঠাকুরগাঁও নির্বাচন সহিংসতায় বিজিবি’র গুলিতে নিহত ৩ আহত ৫ ঠাকুরগাঁওয়ে তৃতীয় ধাপের ইউপি নির্বাচনে ১৪টি নৌকা ৪টি সতন্ত্র প্রার্থীর জয়লাভ সাবেক সাংসদ এডভোকেট শাহাদাত হোসেন চৌধুরী আর নেই টেকনাফ সমিতি ইউএই’র বার্ষিক কর্মশালা ও মতবিনিময় সভা’২১ অনুষ্ঠিত

ব্যাটিং লজ্জায় বিশ্বকাপ মিশনের সমাপ্তি টাইগারদের

স্পোর্টস ডেস্ক / ৩৬ Time View
Update : মঙ্গলবার, ২ নভেম্বর, ২০২১

সীমাহীন ব্যাটিং ব্যর্থতার লজ্জা। বোলিংয়ে একটু ভালো করলেও হার এড়ানো যায়নি। বিশ্বকাপের সুপার টুয়েলভ পর্বে ব্যর্থতার বলয়েই বাংলাদেশ। মূল পর্বের চতুর্থ ম্যাচেও হেরেছে বাংলাদেশ। মাত্র ৮৪ রানের পুঁজি নিয়ে আসলে লড়াই হয় না। যদিও শুরুতে আশার ছাপ রেখেছিলেন তাসকিনরা। শেষ পর্যন্ত দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে ছয় উইকেটের হারে এক ম্যাচ হাতে রেখে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় ঘণ্টা বাজলো মাহমুদউল্লাহদের।

গাণিতিক যে হিসাব ছিল, তাও শেষ হলো এই ম্যাচে হারের মধ্য দিয়ে। শেষ ম্যাচ অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে, আগামী বৃহস্পতিবার। যে ম্যাচটি রূপ নিলো নিতান্তই আনুষ্ঠানিকতার।

মঙ্গলবার আবুধাবিতে টস হেরে আগে ব্যাট করতে নেমে মাত্র ৮৪ রানে অল আউট হয় বাংলাদেশ। জবাবে দক্ষিণ আফ্রিকা জয়ের বন্দরে পৌঁছায় ১৩.৩ ওভারে। উইকেট পতন হয় মাত্র চারটি। এই জয়ে গ্রুপ ওয়ান থেকে সেমির দৌড়ে এগিয়ে গেল প্রোটিয়ারা।

সহজ জয়ের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে দক্ষিণ আফ্রিকাকে শুরুতে চেপে ধরে বাংলাদেশ। দলীয় ৬ রানে তাসকিনের আঘাত। ইনিংসের প্রথম ওভারের শেষ বল। অফ স্টাম্পের বাইরে পিচ করে বল সিম থেকে অনেকটা ভেতরে ঢোকে তীক্ষ্ণভাবে। হেনড্রিকেসের ডিফেন্স করার চেষ্টা হয় ব্যর্থ, বল লাগে প্যাডে। আঙুল তুলতে সময় নেননি আম্পায়ার। ৫ বলে ৪ রানে আউট হেনড্রিকস।

ডি কক ও ভ্যান ডার ডসন তাও এগিয়ে নিতে থাকেন দলকে। দলীয় ২৮ রানের মাথায় মেহেদীর আঘাত। দারুণ বুদ্ধিদীপ্ত ডেলিভারি। বোল্ড হয়ে যান ডি কক। দলীয় ২৮ রানে দ্বিতীয় উইকেটের পতন। ১৫ বলে তিন চারে ১৬ রান করেন কক। দলীয় ৩৩ রানে তাসকিনের আগুনে ডেলিভারি। শূন্য রানে ফেরেন ফর্মে থাকা এইডেন মারক্রাম। অফ স্টাম্পের বাইরে দারুণ লেংথে গতিময় ডেলিভারি করেন তাসকিন। বল তার ব্যাটের কানায় লেগে যায় স্লিপে, নাঈমের হাতে।

এরপর অবশ্য আর পেছন ফিরে তাকাতে হয়নি প্রোটিয়াদের। ডসন ও বাভুমা জুটি দলকে নিয়ে যান জয়ের খুব কাছাকাছি। ৮০ রানের মাথায় চতুর্থ উইকেট পতন। ২৭ বলে ২২ রান করে নাসুমের বলে শরিফুলের হাতে ক্যাচ দেন ভ্যান ডার ডসন। ম্যাচ শেষ করেন অধিনায়ক বাভুমা ও ডেভিড মিলার। ২৮ বলে তিন চার ও এক ছক্কায় ৩১ রানে অপরাজিত থাকেন বাভুমা। দুই বলে এক চারে ৫ রান করেন মিলার। বাংলাদেশের হয়ে তাসকিন ৪ ওভারে ১৮ রানে নেন দুটি উইকেট। মেহেদী ও নাসুম পান একটি করে উইকেট।

এর আগে টস হেরে আগে ব্যাট করতে নেমে শুরু থেকেই দুর্দশার মধ্যে ছিল বাংলাদেশ। পাওয়ার প্লের মধ্যে হারায় তিন উইকেট। দলীয় রান তখন ২৪। ৩৪ রানে উইকেট পতন ৫টি। সব মিলিয়ে বিশ্রি শুরু বাংলাদেশের।
উইকেটে যথেষ্ট ঘাস থাকলেও দক্ষিণ আফ্রিকা বোলিং আক্রমণের সূচনা করে বাঁহাতি স্পিনার কেশভ মহারাজ। ম্যাচের আগের দিন বাংলাদেশ কোচ রাসেল ডমিঙ্গো ব্যটিং অর্ডারে লিটন দাসকে মিডল অর্ডারে খেলানোর ইঙ্গিত দিলেও শেষ পর্যন্ত ইনিংস ওপেন করেন তিনি। সাথে যথারীতি মোহাম্মদ নাঈম শেখ।

ব্যাট হাতে শুরুটা কিন্তু ভালো। আভাস দিচ্ছিল ভালো কিছুর। উইকেট না হারিয়ে ২২ রান তোলাটা ছিল সুখকর। কিন্তু এক ওভারে রাবাদা দুটি উইকেট নিলে চাপে পড়ে বাংলাদেশ।

চতুর্থ ওভারের পঞ্চম বলে বিদায় নেন মোহাম্মদ নাঈম। রাবাদার লেংথ বল পুল করার চেষ্টা করেন নাঈম। তার প্রথম আগ্রাসী শট এটিই। সেটে ডেকে আনে পতন। ব্যাটের কানায় লেগে সহজ ক্যাচ যায় মিড উইকেটে রিজা হেনড্রিকসের কাছে। ১১ বলে ৯ রান করে আউট নাঈম।

পরের বলে আউট সৌম্য সরকার। যাকে বলে গোল্ডেন ডাক। রাবাদার বলে এলবিডব্লিউ। দুর্দান্ত এক ইয়র্কার ছিল রাবাদার। শেষ মুহূর্তে একটু সুইং করে বলটি ছোবল দেন সৌম্যর প্যাডে। আম্পায়ার যদিও আউট দেননি, বল আগে ব্যাটে লেগেছে মনে করে। তবে রিভিউ নেয় দক্ষিণ আফ্রিকা। দেখা যায়, বল আগে আঘাত করে প্যাডেই। ব্যাট তখনও কাছাকাছিই নেই। নিশানা নিয়ে তো সংশয়ই ছিল না, বল লাগত স্টাম্পেই। রানের খাতা খুলার আগেই সাজঘরে বা হাতি ওপেনার।

শুরুর দুর্দশা কাটাতে পারেননি মিডল অর্ডারের ব্যাটসম্যানরা। ষষ্ঠ ওভারে সাজঘরে ফেরেন মুশফিকুর রহিম। তিন বল খেলেও রানের খাতা খুলতে পারেননি। রাবাদার বলেই ক্যাচ দেন হেনড্রিকসের কাছে।

এতে সৌম্য-মুশফিকের অনাকাঙ্ক্ষিত রেকর্ড হয়ে গেছে। বাংলাদেশের হয়ে টি-টোয়েন্টিতে সবচেয়ে বেশি শূন্য রানে আউটের রেকর্ড এই দুজনেরই। এবার নিয়ে ১০ বার শূন্যতে ফিরলেন সৌম্য সরকার, ৮ বার মুশফিকুর রহিম।

মাহমুদউল্লাহ-আফিফ জুটিতে ভরসা ছিল। কিছু একটা করবেন তারা। তাতেও ভরাডুবি। অষ্টম ওভারে সাজঘরে ফেরেন অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। কাগিসো রাবাদার পর এবার দৃশ্যপটে আনরিক নরকিয়া। তার বাউন্সের কোনো জবাব পেলেন না মাহমুদউল্লাহ। নরকিয়ার ১৪১ কিলোমিটার গতির বল লেংথ থেকে দারুণভাবে লাফিয়ে মাহমুদউল্লাহর গ্লাভসে ছোবল দিয়ে আশ্রয় নেয় স্লিপে মারক্রামের হাতে। ৯ বলে তিন রান করেন টাইগার ক্যাপ্টেন।

এরপর বাজে শটে বিপদ ডেকে আনেন এরপর আফিফ। তিনিও সৌম্যর মতো গোল্ডেন ডাকের শিকার। প্রিটোরিয়াসের বলে বোল্ড তিনি। ওভার তখন ৮.১। প্রথম বলেই ক্রিজ ছেড়ে বেরিয়ে শট খেলার চেষ্টা করেন আফিফ। তাকে বেরিয়ে আসতে দেখেই পা তাক করে বল করেন প্রিটোরিয়াস। স্লগ করে লাইন মিস করেন আফিফ। বল তার প্যাডে লেগে আঘাত করে স্টাম্পে।

পেস সাফল্যের স্রোতে এবার সামিল প্রোটিয়া স্পিনও। তাবরাইজ শামসি নিজের ছাপ রাখেন প্রথম ওভারেই। টি-টোয়েন্টির এক নম্বর বোলার থামিয়ে দেন লিটন দাসের লড়াই। চায়নাম্যান শামসির বলে পা বাড়িয়ে ফ্লিক করার চেষ্টা করেন লিটন। কিন্তু বল হুট করে ডিপ করে টার্ন করে ব্যাটকে ফাঁকি দিয়ে লাগে প্যাডে। এলবিডব্লিউয়ের আবেদনে আঙুল তুলে দেন আম্পায়ার। লিটন রক্ষা পাননি রিভিউ নিয়েও। বরং রিভিউ হারায় দল। ৩৬ বলে লিটনের রান ২৪। বাউন্ডার মাত্র একটি।

দলীয় ফিফটি করতেও ভীষণ লড়াই করতে হয়েছে বাংলাদেশকে। ১২.১ ওভারে পূর্ণ হয় পঞ্চাশ।

সপ্তম উইকেট জুটিতে উইকেটে টিকে থেকে রান তোলার চেষ্টা করেছেন মেহেদী হাসান ও বিশ্বকাপে অভিষেক হওয়া শামীম হোসেন পাটোয়ারি। তাতে খুব বেশি দুজন সফল, তা বলা যাবে না। তবে সবচেয়ে কম রানে অল আউট হওয়ার লজ্জা থেকে মুক্তি মিলেছে এই উইকেটে। দলীয় ৬৪ রানে পড়ে বাংলাদেশের সপ্তম উইকেট। বিশ্বকাপ অভিষেকে ২০ বলে ১১ রান করেন শামীম। শামসির বলে তিনি আউট হন মাহারাজের ক্যাচে।

শেষটাতে চমক আসেনি। দলীয় ৭৭ রানের মাথায় রান আউট পেসার তাসকিন আহমেদ। হিট উইকেটে গোল্ডেন ডাক নাসুম আহমেদ। তার আগে নরকিয়ার বলে কট অ্যান্ড বোল্ড ইনিংস সর্বোচ্চ ২৭ রান করা মেহেদী হাসান।

১৮. ২ ওভারে মাত্র ৮৪ রানে শেষ হয় বাংলাদেশের ইনিংস। বল হাতে দক্ষিণ আফ্রিকার হয়ে তিনটি করে উইকেট নেন রাবাদা ও নরকিয়া। তাবারেজ শামসি দুটি ও পিটোরিয়াস পান এক উইকেটের দেখা।

 


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category