• মঙ্গলবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১০:১৯ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
গৌরাঙ্গ চন্দ্র দে’র মুক্তি ও প্রতিমা ভাঙচুর, নির্যাতনের প্রতিবাদে ঠাকুরগাঁওয়ে মানববন্ধন বিক্ষোভ চকরিয়ায় সর্ববৃহৎ নারী উদ্যোক্তা সংগঠন হস্তশিল্প পরিবারের বর্ষপূর্তি পালিত খুটাখালী বাজার পরিচালনা কমিটির সভাপতি জয়নাল, সাধারণ সম্পাদক মিটু আনোয়ারায় ১৫০০পিস ইয়াবাসহ আটক-৩ ট্রাফিক পুলিশের ওপর বিরক্ত হয়ে নিজের মোটরসাইকেলে আগুন নাটোরের সিংড়ায় সরকারি গাছ কাটার অভিযোগ উঠেছে! সিংড়ায় এএসআই সানোয়ার কর্তৃক ব্যবসায়ী কে মারপিটের প্রতিবাদে মানববন্ধন মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের একজন মানবিক কর্মকর্তা গোলদার শাহবাজ পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সাথে রোহিঙ্গা ইস্যুতে আইসিআরসি প্রধানের আলোচনা আরো রাশিয়ান এস-৪০০ কিনবে তুরস্ক : এরদোগান

মাতামুহুরির পানি বঙ্গোপসাগরের অভিমুখে যাবে কিনা ভেবে দেখুন।

বিবিসি একাত্তর ডেস্ক / ১৮৬ Time View
Update : শুক্রবার, ৩০ জুলাই, ২০২১

 এমডি ফরিদুল আলম

প্রায় প্রতিবছর কক্সবাজারের চকরিয়ায় বন্যা পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করে আসছে। বানভাসি মানুষের দুর্ভোগের সীমা থাকে না। এবারও চকরিয়া পৌরসভা, লক্ষ্যারচর, কাকারা, পেকুয়াসহ বিভিন্ন এলাকার লোকজন নিদারুণ কষ্টের শিকার।

চকরিয়া পৌরসভার ৯নং ওয়ার্ডের ১ নং বাঁধটি কালের স্বাক্ষী মাতামুহুরি নদীর বানের জলে বারবার ভেঙে যাবার উপক্রম হয়। গতকালও এর ব্যতিক্রম ঘটেনি। অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের কারণে বাঁধটি আরো ঝুঁকিতে পড়ে যাচ্ছে। আরাকান সড়কের সাথে লাগানো ভাঙারমুখ হয়ে ঘুনিয়া পর্যন্ত যে সড়কটি রয়েছে সেটির মাঝখানে কিছুটা সংস্কার হলেও তা টেকসই না হওয়ায় বন্যার জলে প্রতিবছর ভেঙে যাবার মতো পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়। অথচ এই সড়কটিকে চকরিয়ার রক্ষাকবচ বলা যায়।

এই সড়কটি যদি বন্যার পানিতে ভেঙে যায় তবে দিগরপানখালী, পুকুপুকুরিয়ার রাজধানীপাড়া, ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়ন , পালাকাটা, বুড়িপুকুরসহ চকরিয়ার দক্ষিণভাগের কোন অস্তিত্ব থাকবে না। এমনকি ডুলাহাজারা, মালুমঘাট, খুটাখালী দিকেও। চিংড়ি ঘের, লবন মাঠের কোন অস্তিত্ব থাকবে না। চিংড়ি, লবন চাষীরা ও মাঠে কাজ করে যারা জীবিকা নির্বাহ করেন তাদের দুর্বিষহ জীবন পার করতে হবে। চকরিয়ার দক্ষিণভাগে এমন পরিস্থিতি হলে বর্তমানে বন্যা কবলিত এলাকার জনগণ শান্তিতে থাকবেন মনে করলেও তা কখনো সম্ভব হয়ে উঠবে না। এখন নির্ধারিত এলাকাগুলোতে বন্যায় নিদারুণ কষ্ট, দুর্ভোগ পোহাতে হলেও তখন পুরো চকরিয়া জুড়ে হাহাকার অবস্থা বিরাজ করবে। দক্ষিণভাবে বন্যার পানি ঢুকে গেলে ঠিকই ঘুরেফিরে উত্তরভাগকেও গ্রাস করবে৷ নদী ও পানির চরিত্র এমনই। তখন মাতামুহুরি নদী নিয়ন্ত্রণ ও বন্যা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাহিরে চলে যাবে।
প্রকৃতির ওপর কারো হাত নেই। তবে প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলা করতে হবে কৌশলে ও নিয়ম মেনে। প্রশাসনসহ জনপ্রতিনিধিদের যৌথ উদ্যোগে স্থায়ী সমাধান কিভাবে করা যায় সেদিকে এগুতে হবে।

আমরা ছোটকালে দেখেছি মাতামুহুরি নদী যখন বন্যায় টইটম্বুর অবস্থা তখন কিছু লোক বোট/ নৌকা নিয়ে এসে ১ নং বাঁধ বা ওয়াপদা সড়কটি রাত গভীরে কেটে দেয়ার জন্য কোদাল, খুন্তিসহ প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি নিয়ে আসতেন। এলাকার লোকজনের বাধার মুখে তারা ফিরে যেতেন। বিভিন্ন এলাকার শতশত লোকজন ১ নং বাঁধ রক্ষার জন্য সারারাত মাটি ফেলে পাহারা দিতেন। তারা কখনো চিন্তা করেননি বাঁধ ভেঙে দিলে বা ভেঙে গেলে তাঁদের বাড়িঘর স্রোতে ভাসিয়ে নিয়ে অস্তিত্ব থাকবে না। এখন অন্তত স্থিরাবস্থায় থেকে পরবর্তীতে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে।

আমাদের মনে রাখতে হবে লুসাই পাহাড় হতে উৎপত্তি লাভ করা মাতামুহুরি নদীর পানি লামা আলীকদম হয়ে চকরিয়ার অভিমুখ হয়ে বঙ্গোপসাগরের দিকে পতিত হয়েছে। ১ নং বাঁধ যদি ভেঙে যায় তবে মাতামুহুরি নদীর পানি বঙ্গোপসাগরে না গিয়ে পুরো চকরিয়া সাগরগর্ভ ধারণ করতে পারে। যাঁরা ক্ষুদ্র স্বার্থে ১ নং বাঁধ ভাঙার জন্য চিত্তের গভীরে আল্লাহকে ডাকছেন তাদের জন্যও তা সুখকর হবে মনে হয় না। তখন আপনার এলাকাটি সাগরে ব্যঙ পড়লে যা হয় সে অবস্থা হবে। তখন কালের স্বাক্ষী মাতামুহুরির পানি বঙ্গোপসাগরের অভিমুখে যাবে কিনা ভেবে দেখুন।
কয়েকদিন ধরে চাকরিয়ায় বন্যা দুর্গত মানুষ অসহনীয় কষ্টে রয়েছেন। জনপ্রতিনিধি, সমাজসেবক ও স্বেচ্ছাসেবীরা বিভিন্নভাবে বন্যা কবলিত অসহায় মানুষকে সহযোগীতার হাত বাড়িয়ে দেয়া যেমনি মানবিকতার বহিঃপ্রকাশ তেমনি প্রসংশার দাবী রাখে।

সৃষ্টিকর্তা সবাইকে হেফাজতে রাখুন। করোনা ও ডেঙ্গু দুটোই বাড়ছে। সাবধান থাকুন সবাই।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category