• সোমবার, ২১ জুন ২০২১, ০৬:৫৮ পূর্বাহ্ন

মোংলায় ফাদার রিগন স্মরণানুষ্ঠান বক্তারা ফাদার রিগন বাঙ্গালীর সাংস্কৃতিক ঐশ্বর্য্যে মুগ্ধ হয়েছিলেন

শেখ রাসেল. মোংলা উপজেলা প্রতিনিধি. / ৯১ Time View
Update : শুক্রবার, ৫ ফেব্রুয়ারী, ২০২১

ইতালি নাগরিক ফাদার মারিনো রিগন বাঙ্গালীর সাংস্কৃতিক ঐশ্বর্য্য মুগ্ধ হয়েছিলেন। তাই তিনি বাংলাদেশকে ভালোবেসে বলেছিলেন মৃত্যুর পর যেন এই দেশেই তাঁকে সমাহিত করা হয়। তাঁর মস্তকে ছিলো রবীদ্রনাথ আর আর ছিলো লালন। বাঙ্গালীর সাহিত্য-সংস্তিক বহির্বিশ্ব তুলে ধরে মুক্তিযুদ্ধ ও বাংলাদেশের অকৃত্রিম বন্ধু ফাদার রিগন অঘোষিত রাস্ট্রদূতর দায়িত্ব পালন করছেন। ৫ ফেব্রুয়ারি শুক্রবার সকাল মুক্তিযুদ্ধের অকৃত্রিম বন্ধু, কবি-সাহিত্যিক-অনুবাদক-শিক্ষানুরাগী ফাদার মারিনো রিগনের ৯৭তম জন্ম বার্ষিকী উপলক্ষে মোংলার সেন্ট পল্স হলরুম ফাদার রিগন শিক্ষা উন্নয়ন ফাউন্ডেশন, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট, সেন্ট পল্স উচ্চ বিদ্যালয় এবং সেবা সংস্থার আয়োজন স্মরণানুষ্ঠান বক্তারা একথা বলেন।
শুক্রবার সকাল ১০টায় স্মরণানুষ্ঠান সভাপতিত্ব করেন ফাদার রিগন শিক্ষা উন্নয়ন ফাউন্ডশন’র সভাপতি সুভাষ চন্দ্র বিশ্বাস। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতা করেন উপজেলা নির্বাহি অফিসার কমলেশ মজুমদার। বিশেষ অতিথির বক্তৃতা করেন শিক্ষাবিদ সুনিল কুমার বিশ্বাস, সহকারি কমিশনার (ভূমি) নয়ন কুমার রাজবংশী, সেন্ট পল্স উচ্চ বিদ্যালয়র প্রধান শিক্ষক মনীদ্র নাথ হালদার ও সেবা সংস্থার নির্বাহি পরিচালক মিনা হালদার। স্মরণানুষ্ঠান স্বাগত বক্তব্য রাখেন সম্মিলিত সাংস্তিক জোটের আহ্বায়ক সাংবাদিক মোঃ নূর আলম শেখ। অনুষ্ঠান সঞ্চালনায় ছিলেন মোংলা সরকারি কলেজের প্রভাষক মনোজ কান্তি বিশ্বাস। স্মরণানুষ্ঠানর আগে সকাল ৯টায় ফাদার মারিনো রিগনের সমাধিতে শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পন করে উপজেলা প্রশাসন, ফাদার রিগন শিক্ষা উন্নয়ন ফাউন্ডেশন, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট, সেন্ট পল্স উচ্চ বিদ্যালয় , বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ’সেবা’সহ বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনর নেতৃবৃন্দ। স্মরণানুষ্ঠান ফাদার মারিনো রিগনর ৯৭তম জন্ম বার্ষিকী উপলক্ষে শিশু চিত্রাংকন ও রচনা প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরন করা হয়। উল্ল্যখ্য ইতালির ভ্যানিস নগরর ভিল্লার্ভিলা গ্রাম ১৯২৫ সালের ৫ ফব্রুয়ারি ফাদার মারিনো রিগন জন্ম গ্রহণ করেন। ১৯৫০ সালে ফাদার রিগন যাজকীয় দায়িত্বে বাংলাদেশে আসেন এবং বিভিন্ন অঞ্চল ঘুরে অবশেষে মোংলার শেলাবুনিয়ায় স্থায়ী আবাস গড়ে তোলেন। সাহিত্যনুরাগী ফাদার রিগন রবীদ্র নাথের ৪৮টি বই এবং লালনের সাড়ে তিনশত গানসহ এদেশের খ্যাতিমান কবিদের অসংখ্য কবিতা ইতালি ভাষায় অনুবাদ করেন। ফাদার রিগন মুক্তিযুদ্ধ বিশেষ অবদানের জন্য ২০১২ সালে বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক মুক্তিযুদ্ধ মৈত্রী সম্মাননা পান। এছাড়া ফাদার রিগনকে ২০০৯ সাল বাংলাদেশর নাগরিকত্ব প্রদান করা হয়। ২০১৭ সালে ফাদার রিগন ইতালিত চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন। পরবর্তীতে সরকারের বিশেষ প্রচেষ্টায় ফাদার রিগনর মরদেহ বাংলাদেশে এনে তাঁর ইচ্ছানুযায়ী মোংলার শেলাবুনিয়া রাস্ট্রীয় মর্যাদায় সমাহিত করা হয়।###


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category