• মঙ্গলবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১১:১৩ অপরাহ্ন

লাল পিঁপড়ার ডিম সংগ্রহ; উচ্চ দামে বিক্রি

জিয়াউল হক জিয়া,চকরিয়াঃ / ১১১ Time View
Update : মঙ্গলবার, ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২১

কক্সবাজার উত্তর বনবিভাগের চকরিয়াস্থ ফুলছড়ি-ফাঁসিয়াখালী রেঞ্জের আওতাধীন বনের গাছের ডালে বাসা বেঁধে থাকা লাল পিঁপড়ার ডিম সংগ্রহে নেমেছে এক শ্রেণীর লোক। যার পিঁপড়ার ডিম সংগ্রহ পূর্বক উচ্চ দামে বিক্রি করে হাজার-হাজার টাকা আয় করে চলছে।যাদের কারণে আজ বনের ভিতরেও পিঁপড়ার জম ঢুকায়, সৌন্দর্য্য বর্ধণ লাল পিঁপড়ার বিস্তার ক্রমান্বয়ে ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। এতে হুমকির মুখে পড়েছে জীববৈচিত্র্য।

সোমবার (১৩ সেপ্টেম্বর) রাত ৭টার মালুমঘাট ষ্টেশনের যাত্রী চাউনীর উত্তর পাশে লাল পিঁপড়ার ডিম সংগ্রহকারী দুই যুবকের সাথে দেখা হয়।কাগজের পলিথিন মোড়িয়ে নেওয়া জিনিষগুলো কি জিজ্ঞেসা করলাম। তারা বলল,লাল পিঁপড়ার ডিম।এমন কথাশুনে বাড়ল কৌতুহল!তখন তাদের বলে প্যাকেট খুলে দেখলাম, সাদা বর্ণের ছোট-ছোট ডিমে। ছবি উঠাতে চাইলাম। দিলনা ছবি উঠাতে। তাই প্যাকেটযুক্ত ছবি নিলাম।

ডিম সংগ্রহকারী দুই ব্যক্তির নাম কথার কৌশলে জেনে নিলাম।একজনের নাম গিয়াস উদ্দিন আরেক জনের নাম আব্দুল জলিল। তাদের বাড়ী চকরিয়ার সীমান্তবর্তী পার্বত্য লামার ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নে হায়দারনাশী এলাকায় বলে জানাল।

প্রশ্ন করলাম পিঁপড়া গুলো খুবই ভয়ংকর।কামড়ালে জ্বলে-পুড়ে। কিভাবে ধরা হল। বর্ণনায় তারা বলেন, এই পিঁপড়ার বাসাটি ভেঙে প্রথমে একটি পরিপাটি প্লাস্টিক বস্তায় রাখি। তখন কিছু পিঁপড়া এলোমেলো হয়ে চলে যায়। সেখান থেকে জালের উপরে রেখে ঝাঙ্গা দিলে ডিমগুলো নিচের ঝুঁড়িতে পড়ে। তখন এইগুলো নষ্ট না হওয়ার মত করে প্যাকেট ভরে নিয়ে যায়। প্রশ্ন করলাম এসব নিয়ে কি করবে? তারা বলল,কেজি হিসেবে বিক্রি করি।কেজি কত? তারা বলল হাজার টাকার উপরে।কারা ক্রয় করে এসব! তারা বলল, বড়-বড় ব্যবসায়ী, রাজনৈতিক নেতা ও সরকারীর বড়-বড় অফিসারেরা ক্রয় করে। এসব ক্রয়ে কি করবে তারা? পিঁপড়ার ডিমের সাথে সুগন্ধিযুক্ত একটি মেডিসিন আছে। যা ডিমের সাথে মিক্স করে,বড়শি দিয়ে নদী, খাল, ডি তে মাছ ধরে।আচ্ছা!এখন এগুলো কোথায় থেকে সংগ্রহ করা হল?উত্তরে বলেন, ফুলছড়ি রেঞ্জের বড় বাগান নামক বন থেকে ডিমগুলো সংগ্রহ করেছি। একাজ করে আমাদের আরো কয়েকজন লোক আছে।তারা আপনা-আপনি বলে উঠল, এসব পিঁপড়ার ডিম সংগ্রহ করা খুবই কঠিন।কারণ পিঁপড়ার ডিম সংগ্রহের সময় যদি বনবিভাগের কর্মকর্তারা দেখে, আমাদেরকে গ্রেফতার করবে।তাই কৌশল অবলম্বনে সারাদিনের সংগৃহিত ডিম অন্ধকার সময়ে নিয়ে যাচ্ছি।সংগ্রহকারী আরো জানান,লাল পিঁপড়ার ডিম নেওয়াটা গুরুতর অন্যায়।আমাদের জন্য এই পিঁপড়া বংশহীন হয়ে পড়বে।

এলাকার সচেতন ব্যক্তিদের মতে,পিঁপড়ার ডিম সংগ্রহ করে সংসার চালানো যাবে না।নিশ্চয়ই তারা বনের ভিতরে কোথায় কি রকমের গাছ আছে।বাগানটিতে যেতে কোন পথ ব্যবহার করতে হবে।হয়তো তারা এসব লোকেশন নির্ণয় করে।না হয় মাঝে-মাঝে শুনা যায় গাছ কাটা গেছে।কিন্তু চুরের সন্ধান মিলেনা কেন?

এবিষয়ে ফুলছড়ি রেঞ্জের ভারপ্রাপ্ত রেঞ্জ কর্মকর্তা ও সহকারী বন-সংরক্ষক দীপক চন্দ্র দাশ বলেন, অনুমতি বিহীন গহীন বনে ঢুকাও অপরাধ।তাছাড়া তারা গাছের ডালে থাকা লাল পিঁপড়ার ডিম সংগ্রহ করার কারণে পিঁপড়াটির বংশ বিস্তার ধ্বংস করছে।যেটি বন আইন মোতাবেক দন্ডনীয় অপরাধে গণ্য। তাদের জন্য বন থেকে একটি প্রাণী বিলুপ্ত হয়ে যাবে। বড় বিষয় হল, এই পিঁপড়ার মৃত ডিমগুলো ছোট-বড় অনেক প্রাণীর উত্তম খাবারও বটে। অবশ্যই বনকর্মীরা বনের লাল পিঁপড়ার ডিম সংগ্রহকারীদের কে ভবিষ্যতে দেখলে সঙ্গে-সঙ্গে আটক করা নিদের্শ দেওয়া হবে।বিষয়টি আজই সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদেরকে জানিয়ে দেব। এছাড়া আমি নতুন জয়েন্ট করেছে বলে জানিয়েছেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category