• শুক্রবার, ০৬ অগাস্ট ২০২১, ০৭:৩০ পূর্বাহ্ন

শরণখোলা উপজেলা জুড়ে পানির জন্য হাহাকার!

শেখ রাসেল বাগেরহাট জেলা প্রতিনিধি / ৮২ Time View
Update : বৃহস্পতিবার, ২২ এপ্রিল, ২০২১

বাগেরহাটের শরনখোলায় উপজেলা জুড়ে পানির জন্য হাহাকার চলছে। নদীর পানি লবনাক্ত, গভীর নলকূপগুলো অকেজো, অনাবৃষ্টি, সরকারী পুকুর খননে অনিয়ম, ঘুর্নিঝড় সিড়র পরবর্তী এনজিও ভিত্তিক লোক দেখানো পানির প্রকল্প, এলাকা ভিত্তিক বাজারজাতদের বিশুদ্ধ পানির গুনগত মান প্রশ্নবিদ্ধ, দীর্ঘদিন ধরে পুকুর ও খাল খনন না করা, সরকারী পুকুর, খালবিল ও জলাশয় দখল হওয়া সহ বিভিন্ন কারনে উপজেলার বিভিন্ন এলাকার পুকুরের পানি শুকিয়ে তলানিতে ঠেকেছে। তাই বাধ্য হয়ে স্থানীয়রা দূষিত পানি পান করায় ডায়রিয়া, আমাশয়, চর্মরোগ সহ নানা রকমের পানিবাহিত রোগে আক্রান্ত হচ্ছে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, উপজেলার উত্তর রাজাপুর এলাকার বাসিন্দা মৃত আ. ছত্তার হাওলাদারের স্ত্রী বিধবা ফরিদা বেগম (৪৫) মানুষের বাড়ীতে ঝি এর কাজ করে দিন চলে তার। দিন শেষে খাবার যোগাড় করতে পারলেও পবিত্র রমজান মাসে প্রচন্ড খরতাপের কারনে পানি সংকট যেন এখন তার কাজে জাতীয় সমস্যা হয়ে দাড়িয়েছে। তাই ফেলে রেখে এক কলসী পানি নিতে বুধবার দুপুরে পার্শ্ববর্তী গ্রামের গাজী বাড়ীর সরকারী পুকুরে আসেন। সেখানে বিভিন্ন এলাকার অন্য লোকজনের ব্যাপক ভীড় থাকায় প্রায় ঘন্টা ব্যাপী লাইনে দাড়াতে হয়েছে তাকে কিন্তু পুকুরের পানি কমে যাওয়ায় বাড়ীর মালিক পানি দিতে চান না। যার কারনে ফরিদার মতো উপজেলার বহু নারী-পুরুষ পানি সংগ্রহ করতে শুষ্ক মৌসুমে এখন দিকবিদিক ছুটাছুটি শুরু করেছেন।
উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী মো. মেহেদী হাসান বলেন, শুস্ক মৌসুমে নলকূপের পানি শুকিয়ে যাওয়ার কারনে পন্ড স্যান্ড ফিল্টার (পিএসএফ) ও রেইন ওয়াটার হার্ভেস্টিং এর উপর নির্ভর করতে হয় এ অঞ্চলের মানুষদের। উপজেলার চারটি ইউনিয়নে ১১ শতাধিক পিএসএফ থাকলেও তার অধিকাংশ অকেজো। এছাড়া পুকুরের পানি শুকিয়ে যাওয়ায় অন্য পিএসএফগুলোও ব্যবহারে অনুপোযোগী হয়ে পড়ছে। যার কারণে চরম পানি সংকট চলছে। তবে, আমরা ভ্রম্যমান মোবাইল ট্রিটমেন্ট প্লান্টের মাধ্যমে সাময়িক ভাবে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় বিনামূল্যে খাবার পানি সরবারহ কার্যক্রম শুরু করেছি।
শরণখোলা উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. ফরিদা ইয়াসমিন জানান, ডায়রিয়ায় সহ পানিবাহিত রোগে আক্রান্ত হয়ে ২০এপ্রিল (মঙ্গলবার) ২১জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এ নিয়ে গত ১ এপ্রিল থেকে এ পর্যন্ত শতাধিক রোগী স্বাস্থ্য কমপ্লে¬ক্সে ভর্তি হলেও আক্রান্তের সংখ্যা অনেক বেশি।
উপজেলার উত্তর রাজাপুর গ্রামের বাসিন্দা মো. খলিল গাজী, মো. শাহজাহান শিকারী, মো. জাকির গাজী সহ অনেকে বলেন, রোদ্রের ব্যাপক তাপে তাদের এলাকার খালবিল, পুকুর সব শুকিয়ে গেছে। ৪/৫ মাইল পথ পায়ে হেটে গিয়েও অনেকে পানি পাচ্ছেন না। প্রায় পাঁচ মাস ধরে বৃষ্টির দেখা নাই। মানুষ এখন পানির জন্য ছুটাছুটি করছে। পানির সমস্যার স্থায়ী সমাধানের জন্য সরকারের কাছে জোর দাবী জানান তারা।
রায়েন্দা ইউনিয়নের ১নং উত্তর রাজাপুর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো.জাকির হোসেন খাঁন বলেন, তার ওয়ার্ডের অধিকাংশ পুকুর, খাল ও জলাশয় এখন পানি শুন্য। সাধারন মানুষ ৩/৪ মাইল পথ হেটে পানি আনেন কিন্তু তাও জীবানুমুক্ত নয়। ওই সব দুষিত পানি পান করে অনেকে ইতিমধ্যে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়েছেন।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে, উপজেলা আওয়ামীলীগের এক নেতা বলেন, বিশ্ব ব্যাংকের অর্থায়নে ৩৫/১ পোল্ডারের বেড়িবাঁধ নির্মানে ধীরগতি, জেলা পরিষদের তত্বাবধানে সরকারী পুকুর খননে অনিয়ম, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদারকির অভাবে টিওবয়েল সহ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় সরকারী-বেসরকারী ভাবে স্থাপিত পিএসএফগুলো অকেজো এবং খালবিল ও জলাশয় দখলের প্রতিযোগীতা বেড়ে যাওয়ায় প্রতি বছর শুষ্ক মৌসুম এলে পানির জন্য এ অঞ্চলে হাহাহার দেখা দেয়। কিন্তু তাতেও ঘুম ভাংঙ্গেনা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের। এছাড়া সিড়র পরবর্তী সময়ে গত এক যুগে বিভিন্ন দাতা সংস্থার অর্থায়নে শরনখোলা উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় নির্মিত পানির প্রকল্পগুলো ছিলো অনেকটাই লোক দেখানো ও নিন্মমানের।
এব্যপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সরদার মোস্তফা শাহিন জানান, উপজেলার সর্বত্র পানি সংকটের স্থায়ী সমাধানের জন্য ইতিমধ্যে উর্ধ্বতন কর্তৃপকে লিখিত ভাবে জানানো হয়েছে। ##


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category