• রবিবার, ০১ অগাস্ট ২০২১, ০৪:০৪ পূর্বাহ্ন

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মেরুদণ্ড ভেঙ্গে যাচ্ছে!

এম, রিদুয়ানুল হক / ৩৫৪ Time View
Update : বৃহস্পতিবার, ১৭ ডিসেম্বর, ২০২০

এম, রিদুয়ানুল হক (এম,এ)

প্রথমে বলে রাখছি, শিক্ষক বাঁচলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বাঁচবে। আর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বাঁচলে শিক্ষার্থী বাঁচবে। শিক্ষার্থীরা বাঁচলে দেশ বাঁচবে। কারণ আজকের শিক্ষার্থীরাই আগামীদিনের কর্ণধার।

মহামারি করোনা ভাইরাস পরিস্থিতিতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছুটি আরও বাড়তে পারে। শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একাধিক সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

এ শিক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, শিগগিরই সিদ্ধান্ত আসতে পারে। তবে কত দিন ছুটি বাড়ছে সে বিষয়ে এখনই বলা যাচ্ছে না।’
এদিকে গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, করোনা পরিস্থিতিতে এখনই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলার সুযোগ নেই। নতুন করে ছুটি বাড়ানোর চিন্তা করা হচ্ছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সাথে কথা বলে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। শিগগিরই সিদ্ধান্ত আসছে।

এখন প্রশ্ন হলো “করোনা” কী শুধু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্য? যদি এমনই হয় তাহলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মেরুদণ্ড ভেঙ্গে যাওয়ার সম্ভাবনা বেশি। বিশেষকরে দেশের হাজার হাজার বেসরকারি শিক্ষকদের আহাজারিতে আকাশ-বাতাস প্রকম্পিত হবে।

দেশের সবই উন্মুক্ত, শুধু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ। কেউ খুশিতে হাসছে আবার কেউ আত্মগোপনে কাঁদছে। এর জন্য কিন্তু কেউ দায়ী নয়, শুধুমাত্র দায়ী অভিশপ্ত মহামারী করোনা। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ, বেতনও বন্ধ। এমনকি কোচিংও বন্ধ। ইনকামের কোনো পথও খোলা নেই। এমতাবস্থায় বর্তমানে দারিদ্রতার পেষণে বাকরুদ্ধ বেসরকারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক কর্মচারীরা।

সরকারি ও এমপিও শিক্ষকরা ঠিক সময়ে বেতন পেয়ে আসছে। কিন্তু বেসরকারি ও নন এমপিও শিক্ষক কর্মচারীরা আজ বেতন পাওয়া তো দূরের কথা, নিজের সামান্য অর্জিত জমিটুকুও বিক্রি করে কোনো রকমের সংসার চালিয়ে যাচ্ছেন। আবার যাদের জমিও নেই তাঁরা স্ত্রীর জমানো স্বর্ণ বিক্রি করে সংসার সুখে রাখার চেষ্টা করছেন। কিন্তু বর্তমানে স্বর্ণ বিক্রির টাকাও শেষ। এখন তাঁদের জীবন অন্ধকারে নিমজ্জিত। বর্তমানে এমন অসংখ্য শিক্ষক আছেন, যারা পুরো বছরই কোনো বেতন পাননি। বেতন পাবে কি করে, প্রতিষ্ঠান তো বন্ধ।

বিশ্ব ব্যাপী কোভিট১৯ করোনা মহামারীর প্রকোপে বন্ধ হওয়া হাজার হাজার বেসরকারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক/কর্মচারীরা খুবই অসহায় আর মানবেতর জীবন যাপন করছেন। সরকারের ঘোষিত বেসরকারী প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক/কর্মচারীদের প্রণোদনা দেয়ার কথা থাকলেও অনেক প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা তা পায়নি, এমনকি সরকারী কোন অনুদান পর্যন্ত তাদের কপালে জুড়েনি। এখন তারা না পারছে কারো কাছে চাইতে আর না পারছে সইতে। এমতাবস্থায় যদি বেসরকারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান না খুলে দেওয়া হয় তাহলে অসহায়ত্ব আর আর্তনাদে হাজার হাজার শিক্ষকের জীবন বিপন্ন হবে। এখানে বলা বাহুল্য যে, কওমি লাইনের অনেক প্রতিষ্ঠান খোলা আছে বা খুলে দিয়েছে। তাহলে ওখানে কি করোনায় সংক্রমিত হবেনা? যতসব জ্বালা শুধু বেসরকারী শিক্ষকদের কপালে।

করোনার আঘাত যখন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে লেগেই আছে, তখন সরকারের একান্ত উচিত বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারীদের পাশে দাঁড়ানো। না হয় মানুষ গড়ার কারিগর ঐ শিক্ষকরা আর্থিকভাবে লাঞ্ছিত হবে, সমাজে হেয় প্রতিপন্ন হবে। এমনকি তাদের পেশা পরিবর্তন করার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে। ইতিমধ্যে অনেক বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক তাদের পেশা পরিবর্তন করে রিক্সা চালাচ্ছেন, রাজমিস্ত্রীর কাজ করছেন, চায়ের দোকানে রুটি বানাচ্ছেন, রাস্তার পাশে হকারের দোকান বসিয়েছেন, ভ্যান গাড়ি করে শাক সবজি বিক্রি করছেন ইত্যাদি ইত্যাদি। আবার অনেকে নিজের লজ্জার কথা চিন্তা করে অন্য পেশায় যুক্ত না হয়ে বাড়িতে বসে বসে চোখের পানি ঝরাচ্ছেন।

যারা শিক্ষার্থীদের মুখে হাসি ফোটানোর জন্য নিজের মেধা দিয়ে কঠোর পরিশ্রম করেছেন ঐ সকল শিক্ষকদের চোখে পানি আসবে, এটা কখনো মেনে নেয়া যায় না।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, শিক্ষামন্ত্রীসহ উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে বিনীত আবেদন, বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারীদের দিকে একটু নজর দিন। শিক্ষক বাঁচলে, শিক্ষা ব্যবস্থা বাঁচবে। প্রয়োজনে শর্ত সাপেক্ষে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার ব্যবস্থা করুন। ছুটি আরো বাড়ালে, শিক্ষকদের আহাজারি আরো বেড়ে যাবে। প্লিজ, বেসরকারি শিক্ষকদের কান্না থামান।

উল্লেখ্য যে, মহামারি করোনাভাইরাস পরিস্থিতিতে শিক্ষার্থীদের সুরক্ষিত রাখতে গত ১৭ মার্চ থেকে সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করে সরকার। এরপর ছুটি বাড়ানো হয় কয়েক দফা। সর্বশেষ ১৯ ডিসেম্বর পর্যন্ত ছুটি বাড়ানোর হয়েছিল।

এম, রিদুয়ানুল হক
শিক্ষক, সংবাদকর্মী ও লেখক

 


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category