• বুধবার, ০১ ডিসেম্বর ২০২১, ১২:৫৪ অপরাহ্ন
শিরোনাম
পেকুয়ায় দুই হাজতি মেম্বার নির্বাচিত এবারে দুই নারীসহ আমিরাত থেকে ২৬ জন প্রবাসী সিআইপির মর্যাদা পেয়েছেন সাবেক সাংসদ শাহাদাত হোসেন চৌধুরীর জানাজা সম্পন্ন, পারিবারিক কবরস্থানে দাফন কবি হিমেল বরকত’র সাহিত্যে বিপন্ন মানুষের কন্ঠস্বর ঠাঁই পেয়েছে নির্বাচনী সহিংসতা: পেকুয়ায় আ’লীগ নেতার বসতবাড়ি ভাংচুর চকোবি হোস্টেলের সমাপনি ক্লাস আনুষ্ঠানিকভাবে সম্পন্ন ঠাকুরগাঁও নির্বাচন সহিংসতায় বিজিবি’র গুলিতে নিহত ৩ আহত ৫ ঠাকুরগাঁওয়ে তৃতীয় ধাপের ইউপি নির্বাচনে ১৪টি নৌকা ৪টি সতন্ত্র প্রার্থীর জয়লাভ সাবেক সাংসদ এডভোকেট শাহাদাত হোসেন চৌধুরী আর নেই টেকনাফ সমিতি ইউএই’র বার্ষিক কর্মশালা ও মতবিনিময় সভা’২১ অনুষ্ঠিত

‘সিসি ক্যামেরার ফুটেজ নিয়ে প্রশ্নের অবকাশ নেই’

বিবিসি একাত্তর ডেস্ক / ৪৭ Time View
Update : বৃহস্পতিবার, ২১ অক্টোবর, ২০২১

সিসি কামেরায় ধরা পড়া যুবকই কুমিল্লার পূজামণ্ডপে পবিত্র কোরআন রেখেছেন বলে ডয়চে ভেলেকে জানিয়েছেন কুমিল্লার পুলিশ সুপার (এসপি) ফারুক আহমেদ। তিনি চ্যালেঞ্জ করে বলেছেন, সিসি ক্যামেরার ফুটেজ নিয়ে প্রশ্নের অবকাশ নেই। কিন্তু প্রশ্ন উঠেছে এই ঘটনায় ওই যুবক ইকবাল হোসেনের (২৫) স্বার্থ কী? নিশ্চয়ই এর পেছনে কোনো শক্তিশালী চক্র আছে। এসপি এর জবাবে বলেন, ‘ইকবালকে গ্রেফতার করতে পারলে আমরা এসব জানতে পারব।’

বুধবার পুলিশের পক্ষ থেকে সিসি ক্যামেরার ফুটেজ প্রকাশ করা হয়। আর বলা হয়, পাশের দারোগাবাড়ি মসজিদ থেকে থেকে তিনি কোরআন এনে ১২ অক্টোবর দিবাগত রাত ৩টার পর কোনো এক সময় নানুয়াদিঘীর পাড় মণ্ডপে ঢোকার পথে হনুমানের মূর্তির কাছে রাখেন।

বৃহস্পতিবার সিসি ক্যামেরার আরো একটি ফুটেজ প্রকাশ করা হয়েছে। তাতে দেখা যায়, এক ব্যক্তি দারোগাবাড়ি মসজিদ থেকে পবিত্র কোরআন নিয়ে বের হচ্ছেন। ফুটেজ কিছুটা আবছা। পুলিশ বলছে, তিনি ইকবাল। মসজিদ থেকে ওই কোরআন নিয়েই তিনি মণ্ডপে রাখেন।

ইকবালের ছোট বোন সুলতানা বেগম জানান, ‘ভিডিও ফুটেজে যাকে দেখা গেছে তিনি আমার ভাই ইকবাল। তবে ১০ বছর ধরে ভাই পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন। তিনি বিবাহিত ও এক মেয়ে আছে। ইকবাল রংমিস্ত্রির কাজ করতেন। ১০-১২ দিন আগে সর্বশেষ তাকে এলাকার লোকজন দেখেছেন। আমরা পাঁচ ভাই বোন। ইকবাল সবার বড়।’

তিনি আরো বলেন, ইকবাল মাদকাসক্ত ও মানুষের সাথে নানা ঝামেলা করতেন। এ কারণেই তাকে পরিবার থেকে বের করে দেয়া হয়। তবে তিনি দারোগাবাড়ি মসজিদে যেতেন। সেখানে থাকতেন। তিনি অপরাধী হলে তাকে যেন শাস্তি দেয়া হয়।

তবে সুলতানার কথা, তিনি কেন এই পাগলামি করলেন! তার কী স্বার্থ থাকতে পারে? আপনাদের কাছে অনুরোধ, তার জবানবন্দি নেন। কারা তাকে দিয়ে এই কাজ করাল, আপনারা বের করেন।’ তিনি জানান, তার মামা তাজির ইসলাম ও ছেটো ভাই ছোটনকে পুলিশ ধরে নিয়ে গেছে, ইকবালের খোঁজ জানতে। কিন্তু ওই ঘটনার পর পরিবারের সাথে ইকবাল আর কোনো যোগাযোগ করেননি।

কুমিল্লার লেখক ও গবেষক আহসানুল কবির বলেন, কারণ ছাড়া বৃষ্টিও পরেনা। ইকবাল কারণ ছাড়া এটা করবে কেন? আর তার কী স্বার্থ থাকতে পারে কিছু টাকা-পয়সা পাওয়া ছাড়া। এটা স্পষ্ট যে তাকে কোনো কুচক্রী মহল ব্যবহার করেছে। আর তারা পরিকল্পিতভাবে এটা করেছে। সেটা না হলে এই ঘটনা কুমিল্লায়ই শেষ হয়ে যেত। দেশের অন্যান্য জায়গায় ছড়িয়ে পড়ত না। তার মতে, নেপথ্যে যারা আছেন তাদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনতে হবে। যদি তা করা না হয়, তাহলে একই ধরনের ঘটনা বারবার ঘটতেই থাকবে। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষায় দেশের মানুষের সামনে তাদের চেহারা উন্মোচন করা দরকার।

কুমিল্লার এসপি ফারুক আহমেদ বলেন, আমরা এখন পুরোপুরি নিশ্চিত যে ইকবালই মণ্ডপে পবিত্র কোরআন শরিফ রেখেছিলো। আমরা সিসি ক্যামেরার ফুটেজ ও অন্যান্য তথ্য প্রমাণের ভিত্তিতে এটা নিশ্চিত হয়েছি। পাশের মসজিদ থেকে সে কোরআন আনে। এখন আমরা তাকে গ্রেফতারের চেষ্টা করছি।

ফুটেজ পেতে এত দেরি ও তাকে এখনো গ্রেফতার করা যায়নি কেন, জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমরা সর্বাত্মক চেষ্টা করছি। আশা করি অচিরেই তাকে গ্রেফতার করতে পারব।

এ দিকে সিসি ক্যামেরার যথার্থ নিয়ে প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, মোট ১২টি সিসি ক্যামেরার ফুটেজ আমরা জব্দ করেছি। আপনারা চাইলে তা আমার অফিসে এসে দেখে যেতে পারেন। দেখলে আর প্রশ্নের অবকাশ থাকবে না। আর ক্যামেরাগুলো একটি নির্দিষ্ট সময় পর দিক পরিবর্তন করে, মুভ করে। এটা বুঝতে এখন আর এক্সপার্ট হতে হয় না। যে কেউ পুরো ফুটেজ দেখলেই বুঝতে পারবে। এগুলো মুভিং ক্যামেরা। এখনো লাগানো আছে। যে কেউ গিয়ে দেখতে পারেন। ছবি তো আর মিথ্যে কথা বলে না।

এর সাথে প্রভাবশালী কোনো পক্ষ জড়িত থাকতে পারে কি না- জানতে চাইলে তিনি বলেন, এটা তো তাকে গ্রেফতারের পর বিস্তারিত তদন্তে জানা যাবে।

এ দিকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে প্রেস ব্রিফিংয়ে বলেছেন, ওই ব্যক্তি (ইকবাল) মোট তিনবার পাশের মসজিদে রাত ৩টার দিকে গিয়েছেন। আমাদের অভিজ্ঞ বিশ্লেষকেরা দীর্ঘক্ষণ ধরে এটা (ফুটেজ) এনালাইসিস করে নিশ্চিত হয়েছে যে ওই ব্যক্তি মসজিদ থেকে কোরআন এনে রেখেছেন।

৯ মামলায় গ্রেফতার ৪৬
কুমিল্লার ঘটনায় এ পর্যন্ত মোট নয়টি মামলায় ৪৬ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে মণ্ডপ থেকে ফেসবুক লাইভ যিনি করেছেন সেই ফয়েজ ও তার এক সহযোগী আছেন।

এ দিকে পুলিশ সদর দফতর জানিয়েছে, এ পর্যন্ত সাম্প্রদায়িক হামলার ঘটনায় সারাদেশে ৭২টি মামলায় ৪৫০ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আর এসব মামলায় আসামি করা হয়েছে কয়েজ হাজার মানুষ।

সূত্র : ডয়েচে ভেলে


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category