• মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২০, ১২:১৯ অপরাহ্ন

সুদে ব্যবসায়ীদের খপ্পরে পড়ে সর্বশান্ত ব্যবসায়ী

গুরুদাসপুর (নাটোর) প্রতিনিধি / ২৩ Time View
Update : মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২০

শহিদুল ইসলাম মেহেদী (২৩)। পেশায় একজন ক্ষুদে ব্যবসায়ী। নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলার নাজিরপুর ইউনিয়নের নাজিরপুর বাজারে ছোট্ট একটি ঘর ভাড়া নিয়ে কাপড়ের ব্যবসা শুরু করেছিলেন ২০১৮ সালে। মেহেদী উপজেলার বিয়াঘাট ইউনিয়নের কুমারখালী গ্রামের মৃত-ফরিদুল ইসলাম মোল্লার ছেলে।
ভুক্তভুগি শহিদুল ইসলাম মেহেদী অভিযোগ করে বলেন, ব্যবসার উন্নতির জন্য প্রতিবেশি মোঃ শাজাহানের ছেলে কাঁচা মালের ব্যবসায়ী মোঃ সাদ্দাম হোসেনের কাছ থেকে অগ্রণী ব্যংক লি.নাজিরপুর শাখা যার সঞ্চয়ী হিসাব নম্বর ০২০০০১১৪৪০১৭৯ চেকের জামানত রেখে মাসিক ১০% সুদে ১ লক্ষ টাকা নিয়েছিলেন। দীর্ঘ এক বছর প্রতি মাসে ১০ হাজার টাকা করে লাভ দিতে গিয়ে একপর্যায় তিনি ব্যবসায় ব্যাপক ভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয়ে পরেন। এক বছরে ১ লক্ষ ২০ হাজার টাকা তিনি লাভ দিয়েছেন। পরে লাভের টাকা না দিতে পারায় স্থানীয় সালিশ মিমাংশায় ঈদের কেনাকাটার পরে আসল ১ লক্ষ টাকার মধ্যে ৬০ হাজার টাকা নগদ দিয়ে বাকী ৪০ হাজার পরে দেওয়ার কথা বলে মিমাংশা হয়েছিলো। তার কিছুদিন পরেই তার বাবা মৃতু বরণ করেন। বাবা মারা যাওয়ার পরে সংসারের যাবতীয় খরচ তাকেই বহণ করতে হয়। সুদের ওপর নেওয়া বাকী ওই ৪০ হাজার টাকা সে আর দিতে পারে না। পরে অভিযুক্ত ব্যক্তি সাদ্দাম হোসেন মেহেদীর কাছে দাবি করেন তার বাবা মারা যাওয়ার আগে ৩ লক্ষ টাকা তার কাছ থেকে নিয়েছিলো। এ জন্য মেহেদীকে বারবার চাপসৃষ্টি করলে দেড় লক্ষ টাকা তাকে প্রদান করেন এবং তার জামানত রাখা চেকটি ফেরৎ চান। এক পর্যায় অভিযুক্ত ব্যক্তি সাদ্দাম হোসেন মেহেদীর চেক ফেরৎ না দিয়ে নাজিরপুর ইউনিয়নের গুপিনাথপুর এলাকার মোঃ ওয়াহেদ আলীর ছেলে তায়জুল ইসলাম(তাজু) কে দিয়ে তার নামে ৯ লক্ষ ৫০ হাজার টাকার একটি প্রতারণা মামলা দায়ের করেছেন বলে তিনি জানান। তিনি সরকারের উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন জানান তার এই মিথ্যা মামলা যেন প্রত্যাহার করে তাকে সুস্থ জীবনে ফিরিয়ে দেওয়া হয়। তাছাড়াও অভিযুক্ত ব্যক্তিরা মামলা করেই খান্ত হয়নি। তাকে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন ভাবে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে আসছে। এরকম ভাবে চলতে থাকলে এবং টাকা না নিয়ে প্রতারণার মামলার স্বিকার হওয়ার কারনে তার জীবনে দুর্দিন নেমে এসেছে। কোন প্রতিকার না পেলে তিনি আত্মহত্যা করার কথাও বলেন।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত সাদ্দাম হোসেন মুঠোফোনে জানান, মেহেদীর সাথে তার কোন আর্থিক লেনদেন হয়নি। তার বাবা বেঁচে থাকাকালিন দু জনের মধ্যে দৈনন্দিন লেনদেন হতো এবং একটি সুসম্পর্ক ছিলো। তিনি মারা যাওয়ার পরেও তার ছেলের সাথে কোন ধরনের আর্থিক লেনদেন হয়নি। মিথ্যা অভিযোগ দিয়ে আমাকে হয়রানী করার চেষ্টা করা হচ্ছে মাত্র।
মামলার বাদী মোঃ তায়জুল ইসলাম জানান, শহিদুল ইসলাম মেহেদী তার কাছ থেকে ৯ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা ধার নিয়ে আজ দিবো কাল দিবো বলে দেয়না। পরে ২০/০২/২০ইং তারিখে উকিল নোটিশ পাঠানো হয়। তারপরও সে টাকা দেয়না। টাকা না পেয়ে বাধ্য হয়ে তার নামে মামলা করতে হয়েছে।#


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category