• শুক্রবার, ০৬ অগাস্ট ২০২১, ০৬:১৬ পূর্বাহ্ন

সুন্দরবনের দুর্নীতিবাজ বন কর্মকর্তার জয়নালের বদলী!

শেখ রাসেল বাগেরহাট জেলা প্রতিনিধি / ৫৮ Time View
Update : শুক্রবার, ২৫ জুন, ২০২১

অবশেষে সুন্দরবনের দুর্নীতিবাজ বন কর্মকর্তা জয়নালকে বদলী করা হয়েছে। প্রধাণ বন সংরক্ষক মোঃ আমির হোসেন চৌধুরী স্বাাক্ষরিত আদেশ পত্রে পুর্ব সুন্দরবনের শরনখোলা রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক (এসিএফ) মোঃ জয়নাল আবেদীনের এ বদলীর বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে ।

অপরদিকে, দুর্নীতিবাজ বন কর্মকর্তার বদলীর খবর সুন্দরবন সংলগ্ন এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে নির্যাতিত পেশাজীবি সহ জন সাধারনের মাঝে অনেকটা স্বস্তি ফিরে এসেছে।
বনবিভাগ সুত্র জানায়, প্রধান বন সংরক্ষক স্বাক্ষরিত ৭০৬ নং স্বারকের এক আদেশ পত্রে (এসিএফ) মোঃ জয়নাল আবেদীনকে আগামী সাত কর্ম দিবসের মধ্যে নবাগত সহকারী বন সংরক্ষক (এসিএফ) ৩৮তম বিসিএস বনক্যাডার মো.সামছুল আরিফিনের নিকট দায়িত্ব বুঝিয়ে দিতে বলা হয়েছে।

স্থানীয় পেশাজীবিদের কয়েক জন বলেন, জয়নাল আবেদীন ২০১৮ সালে এসিএফ হিসেবে সুন্দরবনের শরনখোলা রেঞ্জে যোগদান করার কয়েক মাস পর থেকে বন সংলগ্ন সোনাতলা, বকুলতলা, শরনখোলা, বগী, তেরাবেকা, চালিতাবুনিয়া, গাবতলা সহ বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দা ও সুন্দরবনে বন্যপ্রানী এবং বনজ সম্পদ পাচারকারী চক্রের সদস্য তানজের বয়াতী, আলম, জামাল গাজী, চান্দু, গাউস ও বাঘ শিকারী হাবিবুর রহমান ওরফে বাঘ হাবিব সহ একাধিক অসাধু ব্যক্তিদের সাথে গভীর সখ্যতা গড়ে তুলে নানা অপকর্মে জড়িয়ে অর্থ বানিজ্যে মেতে ওঠেন। যার ফলে তার সময়ে ব্যাপক ভাবে বাঘ, হরিন সহ বন্যপ্রানী নিধনের পাশাপাশি বিষ প্রয়োগে সুন্দরবনের নিষিদ্ধ এলাকায় অবাধে মাছ শিকারের মহোৎসব শুরু হয়।

শরনখোলা বাজারের মৎস্য ব্যবসায়ী মোঃ এসএম মাহাবুব সেলু, মোঃ পলাশ মাহমুদ ও মোঃ ফেরদৌস হোসেন সহ কয়েক জন বলেন , এসিএফ জয়নালের দায়িত্ব কালে আমরা নানা ভাবে হয়রানির শিকার হয়েছি। তিনি অসাধু ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে মোটা অংকের অর্থিক সুবিধা নিয়ে তাদেরকে বনের নিষিদ্ধ এলাকায় মাছ ধরার সুযোগ তৈরী করে দিয়েছেন। তার কথা না শোনায় বৈধভাবে নদী ও সমুদ্র হতে মাছ আহরন করতে গেলেও অনেক ক্ষেত্রে অনুমতি পাইনি।
শরনখোলা প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারন সম্পাদক মো. মিজানুর রাকিব বলেন, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারী মাসে তিনি ঢাকার কয়েক জন সিনিয়র সাংবাদিক নিয়ে ভ্রমন ও সুন্দরবনের উপর প্রতিবেদন করার উদ্দেশ্যে সুন্দরবনের শরনখোলা রেঞ্জে প্রবেশ করেন। বিষয়টি টের পেয়ে এসিএফ জয়নাল আবেদীন তার কয়েকজন বনরক্ষীকে দিয়ে তাদেরকে নাজেহাল করেন এবং সুন্দরবন থেকে জোর পুর্বক বের করে দেন এবং তাদের জমা দেওয়া সরকারী রাজস্বের টাকা ফেরৎ দেননি এসিএফ জয়নাল।

সুন্দরবন সুরক্ষা কমিটি (সিএমসির) সহ ব্যবস্থাপনা কমিটির সহ সভাপতি ও উপজেলা কৃষকলীগের সভাপতি মো. আব্দুল ওয়াদুদ আকন বলেন, এসিএফ হিসেবে মো. জয়নাল আবেদীন ছিলেন অযোগ্য ও দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা। তিনি শরনখোলা রেঞ্জে যোগদান করে পেশাজীবিদের সাথে খারাপ আচরন করায় অধিকাংশ ব্যবসায়ীরা তার উপর নাখোশ হয়ে পড়ে। এছাড়া তার বিভিন্ন অনিয়ম অনেক বনকর্মীরা পছন্দ না করায় তাদের সাথে সর্বদা দুর্ব্যবহার করতেন তিনি।
শরণখোলা উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান ও আওয়ামীলীগ নেতা মো. হাসানুজ্জামান পারভেজ বলেন, সুন্দরবনের ইতিহাসে শরনখোলা রেঞ্জে জয়নাল আবেদীনের মতো এতো বড় দুর্নীতিপরায়ন কোন কর্মকর্তা আর কেউ আসে নাই। তিনি আমার কাছেও মোটা অংকের উৎকোচ দাবি করেন। এতে আমি রাজি না হওয়ায় সুন্দরবনে মৎস্য ব্যবসার কাজে ব্যবহৃত আমার একটি ট্রলার সহ শ্রমিকদের আটক করে গত বছর একটি মিথ্যা মামলা দিয়ে জেল হাজতে পাঠান এসিএফ জয়নাল। সেখানে ট্রলার শ্রমিকদের সাথে আমাকেও আসামী করা হয়। যার কারনে আমি চরম হয়রানির শিকার হয়েছি। তাছাড়া গত তিন বছর ধরে জয়নাল সুন্দরবনের শরনখোলা রেঞ্জের গোটা এলাকায় তার অধীনস্থ কর্মীদের ব্যবহার করে লুটপাট চালিয়েছে। এছাড়া বনজ ও প্রানী সম্পদ পাচারকারী চক্রের সদস্যদের সাথে সখত্যা গড়ে তুলে মৎস্য ভান্ডার লুট সহ বন্যপ্রানী নিধনেও তিনি পরোক্ষভাবে জড়িত ছিল। এমনকি সুন্দরবন উন্নয়নের নামে শরনখোলা রেঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় নানা উন্নয়নমুলক প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে গিয়ে দায়সারা কাজ করে সরকারী লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে কোটি পতি বনে গেছেন এসিএফ জয়নাল। সম্প্রতি সুন্দরবনের দাসের ভাড়ানী এলাকায় আগুন লাগারর পর দন্ডমুন্ডের কর্মকর্তা জয়নাল ঘটনাস্থলে যান দুইদিন পর। ওই দায়িত্বহীন কর্মকর্তার অন্তরিকতার অভাবে বনের অনেক এলাকা পুড়ে বহু গাছপালার ক্ষতি হয়। ওই দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তার বদলীর খবরে সুন্দরবনের উপর নির্ভশীল জনগোষ্ঠী অনেকটা আনন্দিত। তবে, এসিএফ জয়নালের পাশাপাশি তার নানা অপকর্মের সহযোগী ইঞ্জিনম্যান শামীম, বোর্টম্যান আনিস, বোর্টম্যান তৈয়ব পাটোয়ারী, বিএম মাহবুব দীর্ঘদিন ধরে শরণখোলা রেঞ্জে চাকরি করায় দুর্নীতির শিকড় পাকাপুক্ত করেছেন। তাদেরকেও দ্রুত শরনখোলা রেঞ্জ কার্যালয় থেকে অপসারন করা জরুরী। এ জন্য তিনি বনবিভাগের উর্ধতন কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
মোঃ জয়নাল আবেদীন বদলীর বিষয়টি স্বীকার করলেও তার বিরুদ্ধে ওঠা সকল অভিযোগ কাল্পনিক বলে দাবি করেন।

পুর্ব সুন্দরবন বিভাগের ডিএফও মুহম্মদ বেলায়েত হোসেন জানান, শরনখোলা রেঞ্জের সহকারী বনসংরক্ষক (এসিএফ) হিসেবে মোঃ সামছুল আরিফিনকে পাঠানো হয়েছে এবং মোঃ জয়নাল আবেদীনকে বাগেরহাট জেলা অফিসে পদায়ন করা হবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category