• শুক্রবার, ২০ মে ২০২২, ১২:৫৩ অপরাহ্ন
শিরোনাম
বানিয়ারছড়ায় গুদী’র নামে চাঁদা আদায় বন্ধের নির্দেশ দেন ইউএনও কাকারায় ব্রীজ থেকে পড়ে যুবকের মৃত্যূ মাতামুহুরী নদীতে পড়ে মানসিক ভারসাম্যহীন বৃদ্ধার মৃত্যু ঠাকুরগাঁও রানীশংকৈলে ভুমিসেবা সপ্তাহ পালিত চকরিয়ায় নোবেল হত্যা মামলার আসামি আরিফকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ চকরিয়ায় অগ্নিকান্ডে ৩টি বসতঘর পুড়ে ছাই; পুড়েনি কুরআন শরীফ চকরিয়ায় বোরো ধানের বাম্পার ফলন; কৃষকরা সোনালী ধান ঘরে তুলে নিচ্ছে পেকুয়ায় মার্কেট থেকে সংযোগ বিচ্ছিন্ন, ফক্সি কাগজপত্রের তথ্য ফাঁস, বিদ্যুতের ম্যানেজারের বিরুদ্ধে জিডি চকরিয়ায় বঙ্গবন্ধু ও বঙ্গমাতা জাতীয় গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট’র বালক-বালিকা ফাইনাল খেলা অনুষ্ঠিত দূর্ঘটনা এড়াতে মহাসড়কের দুইপাশের শোলেডার ভরাট হবেতো?

সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনে সুশীল সমাজের উপস্থিতির গুরুত্ব ঢাকা ও লন্ডনের

বিবিসি একাত্তর ডেস্ক / ৮৫ Time View
Update : শুক্রবার, ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২১

অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের গুরুত্ব, জবাবদিহিমূলক শাসন ব্যবস্থার উন্নয়নে সুশীল সমাজের উপস্থিতি ও মতপ্রকাশ ও ধর্মীয় স্বাধীনতার বিষয়ে একমত হয়েছে বাংলাদেশ এবং যুক্তরাজ্য।

শুক্রবার ঢাকায় ব্রিটিশ হাইকমিশন জানিয়েছে, এফসিডিও এর বার্ষিক মানবাধিকার প্রতিবেদনে উঠে আসা বাংলাদেশের মানবাধিকার সম্পর্কিত ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের প্রভাব, বিধিবহির্ভূত আটক, বিধিবহির্ভূত বিচারপ্রক্রিয়া, এবং বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড নিয়ে যুক্তরাজ্য উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।

৯ সেপ্টেম্বর যুক্তরাজ্য সরকারের ফরেন কমনওয়েলথ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অফিসে (এফসিডিও) চতুর্থ বারের মত বার্ষিক যুক্তরাজ্য ও বাংলাদেশ সরকারের মধ্যে কৌশলগত সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়।

যুক্তরাজ্য-বাংলাদেশ কৌশলগত সংলাপের নেতৃত্বে ছিলেন ব্রিটিশ ফরেন কমনওয়েলথ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অফিসের পার্মানেন্ট আন্ডার সেক্রেটারি স্যার ফিলিপ বার্টন কেসিএমজি ওবিই ও বাংলাদেশের পররাষ্ট্র সচিব মাসুদ বিন মোমেন।

ফরেন কমনওয়েলথ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অফিসে (এফসিডিও)-এর দক্ষিণ এশিয়া ও কমনওয়েলথ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী, উইম্বলডনের লর্ড তারেক আহমেদ বাংলাদেশের পররাষ্ট্র সচিব মাসুদ বিন মোমেনকে স্বাগত জানান।

লর্ড আহমদ বলেন, ‘আজ বাংলাদেশের পররাষ্ট্র সচিব মাসুদ বিন মোমেন ও আমি যুক্তরাজ্য ও বাংলাদেশের মধ্যেকার দৃঢ় সম্পর্ক নিয়ে কথা বলেছি। আমরা উভয়েই জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং ভবিষ্যতে আমাদের দু’দেশের মধ্যে বাণিজ্যকে আরো শক্তিশালী করার সুযোগ নিয়ে আলোচনা করেছি।’

রাখাইনে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর সহিংসতার শিকার হয়ে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গা শরণার্থীদের আশ্রয় প্রদানে যুক্তরাজ্য বাংলাদেশের প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করে। রোহিঙ্গাদের স্বেচ্ছায়, নিরাপদে, মর্যাদার সাথে প্রত্যাবাসনের লক্ষ্য নিয়ে যুক্তরাজ্য ও বাংলাদেশ তাদের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করে।

যুক্তরাজ্য ও বাংলাদেশে কোভিড-১৯ চলাকালীন যারা প্রিয়জনকে হারিয়েছেন, তাদের প্রতি গভীর সমবেদনা প্রকাশ করেন এই সংলাপে অংশগ্রহণকারী সদস্যরা। দেশব্যাপী কোভিড-১৯ টিকাদান কর্মসূচি বিশেষ করে কোভেক্স থেকে প্রাপ্ত টিকার মাধ্যমে পরিচালনার জন্য যুক্তরাজ্য বাংলাদেশকে অভিনন্দন জানায়।

সংলাপে রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক সম্পর্ক, বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক ইস্যু, বাণিজ্য, অর্থনৈতিক ও উন্নয়ন অংশীদারিত্ব, নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষাসহ যুক্তরাজ্য ও বাংলাদেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়।

যুক্তরাজ্য ও বাংলাদেশ উভয় পক্ষ ২০১৯ সালের পর প্রথমবারের মতো সশরীরে সাক্ষাতের সুযোগকে স্বাগত জানিয়ে সংলাপ শুরু করেন। বাংলাদেশের স্বাধীনতার ৫০ বছর পূর্তির বছরে অনুষ্ঠিত এবারের কৌশলগত সংলাপ যুক্তরাজ্য-বাংলাদেশের কূটনৈতিক সম্পর্ককে আরো দৃঢ় করেছে। উভয় দেশের প্রতিনিধিরা যুক্তরাজ্য ও বাংলাদেশের মধ্যে গভীর সামাজিক, সাংস্কৃতিক এবং প্রবাসী সংযোগ ও কমনওয়েলথের সদস্যপদের কারণে মানুষের সাথে মানুষের সুদৃঢ় সম্পর্কের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

সংঘাত প্রতিরোধ, সন্ত্রাসবাদ মোকাবেলা, নিয়ম ভিত্তিক আন্তর্জাতিক শৃঙ্খলা সমর্থনসহ বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় একে অপরকে সহযোগিতা করতে যুক্তরাজ্য ও বাংলাদেশ সম্মত হয়েছে।

দ্বিপাক্ষিক সামরিক সহযোগিতার বিষয়ে উভয় দেশই প্রশিক্ষণ, পেশাগত সামরিক শিক্ষা ও ইন্সট্রাকশনাল এক্সচেঞ্জসহ যৌথ সহযোগিতাকে স্বাগত জানায় এবং এই বছরের শেষের দিকে একটি প্রতিরক্ষা বিষয়ক সংলাপ উদ্বোধনের আশা ব্যক্ত করেন।

জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় যুক্তরাজ্য ও বাংলাদেশ বিশ্বের সকল দেশকে আরো দৃঢ় পদক্ষেপ নেয়ার প্রয়োজনীয়তার কথা পুনর্ব্যক্ত করেছে। গ্রিনহাউস গ্যাসের নিঃসরণ কমাতে বাংলাদেশের প্রচেষ্টার প্রশংসা করে যুক্তরাজ্য। আগামী বছরগুলোতে কার্বন নির্গমন হ্রাস ও ২০৫০ সালের মধ্যে নেট-জিরো নির্গমনসহ একটি নিট জিরো টার্গেট ও কয়লা শক্তির ব্যবহার পর্যায়ক্রমে বন্ধ করা জন্য বাংলাদেশের নেতৃত্বকে আরো উত্সাহিত করে। বিভিন্ন উৎস থেকে আন্তর্জাতিক জলবায়ু অর্থায়ন নিশ্চিত করতে যুক্তরাজ্যের পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছে বাংলাদেশ।

২০২০ সালের জানুয়ারিতে উদ্বোধন হওয়া ইউকে-বাংলাদেশ ক্লাইমেট পার্টনারশীপের জন্য উভয় দেশই কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে।

২০২৬ সালের মধ্যে স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে বের হয়ে উন্নয়নশীল দেশ হওয়ার জন্য জাতিসঙ্ঘর সুপারিশ লাভ করায় বাংলাদেশকে অভিনন্দন জানিয়েছে যুক্তরাজ্য। এই উত্তরণকে সফল করতে সাহায্য করতে ও বাংলাদেশ যেন তাদের রফতানিভিত্তিক প্রবৃদ্ধি বজায় রাখতে পারে তাই যুক্তরাজ্য ২০২৯ পর্যন্ত তাদের দেশের বাজারে বাংলাদেশের জন্য শুল্কমুক্ত ও কোটা মুক্ত প্রবেশাধিকার অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করে।

বাংলাদেশ মধ্যম আয়ের দেশের মর্যাদা লাভ করলে উভয় দেশ তাদের উন্নয়ন অংশীদারিত্বের ভবিষ্যৎ রূপ নিয়ে আলোচনায় বসবেন বলে সম্মত হয়েছেন।

বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম ক্রমবর্ধমান বিনিয়োগকারী হিসেবে যুক্তরাজ্য ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইউকে-বাংলাদেশ ট্র্যাড অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট ডায়লগের উদ্বোধনকে স্বাগত জানিয়েছে। বাংলাদেশে ব্যবসার পরিবেশের উন্নতির গুরুত্ব এবং বাজার প্রবেশাধিকার বাধা হ্রাস করার উপর যুক্তরাজ্য জোর দিয়েছে।

উভয় দেশের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় অভিবাসন ও সম্পর্কের গভীরতাকে যুক্তরাজ্য ও বাংলাদেশ স্বাগত জানায়। চলাচল ও অভিবাসন বিষয়ক একটি পার্টনারশীপ গঠনে যুক্ত হতে উভয় দেশ সম্মত হয়েছে। যুক্তরাজ্য তাদের নতুন পয়েন্টভিত্তিক অভিবাসন ব্যবস্থায় প্রদত্ত সুযোগগুলো উল্লেখ করে। দুই দেশের মধ্যে উচ্চশিক্ষা বিষয়ক অংশীদারিত্ব বৃদ্ধি করতে যুক্তরাজ্য বাংলাদেশকে `ক্রস বর্ডার উচ্চশিক্ষা আইন’ বাস্তবায়নের অনুরোধ জানায়।

সূত্র : ইউএনবি


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category