• রবিবার, ০১ অগাস্ট ২০২১, ০২:৫১ পূর্বাহ্ন

স্বার্থান্বেষীর আস্ফালন; বনাম প্রতিবাদীর নিঃস্বার্থ লড়াই! 

বিবিসি একাত্তর ডেস্ক / ২৯৮ Time View
Update : শুক্রবার, ২৫ জুন, ২০২১

মুহাম্মদ ওমর ফারুক
আলোচনা-সমালোচনা, গীবত-প্রতিবাদ এক বিষয় নয়! এই চারটির মধ্যে বিস্তর পার্থক্য আছে। আমরা সোশ্যাল মিডিয়ায় সমাজের নানা অনিয়ম, অসংগতি সহ এবং দায়িত্বশীল কিছু ব্যক্তিদের স্বেচ্ছাচারীতা ও অমূলক কর্মকাণ্ড নিয়ে ইতিবাচক ও নেতিবাচক যে কথাবার্তা বলি অথবা লিখি।
তা কি সমালোচনা বা গীবতের মধ্যে পড়ে? নাকি নৈতিকতার দিক দিয়ে যৌক্তিক প্রতিবাদের মধ্যে পড়ে?
চারটি বিষয় সম্পুর্ন আলাদা, আলাদা ব্যাপার। তাই এগুলো একটু খোলাসা করি।
আলোচনাঃ ব্যক্তি বা কোন প্রতিষ্ঠানের ইতিবাচক যে কোন ধরনের কর্মকাণ্ডের বর্ণনা করা। গল্পগুজবে বলা- বলিতে স্থান পাওয়া বিষয়কে আমরা আলোচনা বলে থাকি।
সমালোচনাঃ কারোর ব্যক্তিগত ব্যাপারে মন্দ দিক গুলো তুলে ধরে বিরূপ মন্তব্য করে আলোচনা করাকে সমালোচনা বলা হয়। ভাই শুনেছেন, অমুকের এমন কাজটি করা মোটেও ঠিক হয়নি। অথবা সে কিন্তু ভাই কাজটা ঠিক করেন নাই। তার উচিত ছিলো কাজটি যথাযথ ভাবে করা। ইত্যাদি ইত্যাদি বর্ণনা করা।
আবার কারও সঙ্গে যখন কথার ও কাজের অথবা কোনো মতের পার্থক্য হয় অথবা কোন প্রতিষ্ঠান কর্তৃক জনহিতকর যে কোন কাজ সার্বজনীন সুফলের চেয়ে কুফল বয়ে আনে তখনই আমরা সমালোচনা করি। সেটা ব্যক্তিগত হতে পারে আবার কোন সেবা প্রতিষ্ঠানের কর্তা বাবুর স্বার্থান্ধ স্বেচ্ছাচারীতাও হতে পারে।
হ্যাঁ সমালোচনার ভালো-মন্দ দুটো দিকই আছে। সমালোচনা যেমন মানুষের ভুল শুধরে দেয় আবার অনেক সময় তা এমন পর্যায়ে চলে যায়, যা মানুষের আত্মবিশ্বাস নষ্ট করে দেয়।
তাই সমাজে চলতে-ফিরতে নানা রকম সমালোচনা শুনতে বা করতে হয়। তা আমরা সচরাচর করতে থাকি।
গীবতঃ কারো অগোচরে কোন গোপন বিষয় বর্ণনা করাকে সাধারণ গীবত বলা হয়ে থাকে। যেমন, ভাই ওমুক কী করেছে জানেন? হেন তেন হাবিজাবি আরকি। থাক, তাকে আবার কিছু বলতে যাবেন না। আমি যে কথাগুলো বললাম তা যেনো তিনি না জানে।অথবা কারো অনুপস্থিতিতে তার কোন ব্যক্তিগত বা পারিবারিক ঘটনার খারাপ দিক গুলো আলাপচারিতা করা।
এতে তার সম্মানের ব্যাঘাত ঘটে। এমন কোন ব্যাপারে আলোচনা সমালোচনা করলে ওই ব্যক্তি গোস্বা হন, বড্ড বেজার হন তাহাই গীবত।
প্রতিবাদঃ প্রতিবাদ এমন একটি বিষয়, যাহা সকলেই করতে পারেনা! পারলেও তা সহজে করেনা।
সাধ্যমতো অন্যায়ের প্রতিবাদ করা প্রতিটি মানুষের ঈমানি দায়িত্ব। সময়মতো যদি অন্যায়ের প্রতিবাদ করা না হয়, তাহলে এর ফল গোটা জাতিকে ভোগ করতে হয়।
তাই সমাজে যে কোনো অন্যায়-অনাচার দেখা দিলে সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে তা প্রতিহত করা আবশ্যক।
কিন্তু আমাদের সমাজে এখন আর অন্যায়ের প্রতিবাদ করেনা। ইহা করতে অনেকে আগ্রহ দেখায় না।
তবে অনেকেই মুখ খোলে কিছু না বললেও মনে মনে সমর্থন করেন, এই গোচের লোকের সংখ্যা নেহায়েত কম নয়।
প্রায়সময় দেখা যায় অনেকেই চোখের সামনে ঘটে যাওয়া হাজারো অন্যায়কে ঠাণ্ডা মাথায় এড়িয়ে চলে। অন্যায়ের প্রতিবাদকে তারা অযথা ঝামেলায় জড়ানোই মনে করেন।
এতে মানুষ নিজেদের অজান্তেই গোটা জাতির ওপর আরো বড় বিপদ ডেকে আনে। ঘরে আরাম করে শুয়ে বসে, আঙ্গুল চুষে চুষে প্রতিবাদ করা যায়না। এগুলোকে টাইম পাস করা বলে।
বর্তমানে সময়ে যে কোন অনিয়ম,অন্যায়, অসংগতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ- প্রতিরোধ শুরু হয় প্রথমে  সোশ্যালমিডিয়ায় আর ভাইরাল হয়ে। তার পর মূলধারার গণমাধ্যমে, সবশেষে বাস্তব জীবনে এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের টনকনড়ে।
চতুর ও স্বার্থান্বেষী কিছু লোক আছে, যারা নানা অনিয়ম, অসংগতি, অপকর্ম করে। আবার লুতুপুতু হয়ে ধানাইপানাই করে মূল ঘটনাকে আড়াল করার জানপ্রাণে নিজেদেরকে সাধু সাবিত্রী সাজার চেষ্টা তদবিরে উঠেপড়ে লেগে থাকেন।
কিছু লোক আছে এসব অপকর্মকে শাকদিয়ে মাছ ঢেকে তাদের পক্ষে বিস্তর সাফাই গেয়ে যায়। এদের সংখ্যাও নিছক কম নয়।
সোশ্যাল মিডিয়ায় আপনি কোনটা করেন,বেছে নিন।
মানুষের রুচি ভিন্ন। মনে করুন একজন খুব আলু খেতে ভালোবাসেন আরেক জন আলুর নাম শুনলেই চটে যান, এমনটি হতে পারে। আবার সত্য কথনে অনেকের গা’ চুলকায়! ভীষণ চুলকায়। যেন সর্বশরীরে এলার্জি, এলার্জিতে ভরপুর!
সমাজে কিছু  প্রতিবাদী মানুষ আছে, এদের খুব  দরকার। এদের প্রতিবাদে অন্তত কিছুটা হলেও অনিয়ম অপকর্ম হ্রাস পায়। অনেক ক্ষেত্রে অন্যায়কারীও নিভৃত হয়। হয়ত মরবেন, কিন্তু তা যেন হয় বীরের মত, কিন্তু কাপুরুষ হয়ে অন্যায়ের কাছে মাথা নোয়াবেন না।
বীরের কাছে মনে হয় যে কাপুরুষ প্রতিবাদ করে না, তার পুরুষত্বই নেই, সে মানুষই নয়, যেন নপুংসক। জন্তু জানোয়ারের মত সবকিছু সয়ে সয়ে বেঁচে থাকাকে জীবন বলে না।
কিন্তু কাপুরুষদের সংখ্যা চিরদিনই বেশি ছিল।  ইতিহাসের প্রায় সকল সময়ে বেশির ভাগ লোক ছিল দাস ও অধীনস্থ। দুনিয়াতে প্রতিবাদী মানুষ চিরদিনই খুব কম ছিল।
প্রতিবাদীরা কোনোদিন লাভ লোকসানের হিসাব করে না। সাধারণত এরা খুব কম মানুষের কাছেই প্রিয় পাত্র হয়ে থাকে। তারা হিসাব করে সম্মানের আর আত্মমর্যাদার। অসম্মানের চেয়ে তারা বরং মরেই যাবে।
হ্যাঁ, প্রতিবাদীদের কলম চলবে। চলতে থাকুক অবিরত। বার বার শাণিত হোক প্রতিবাদের ক্ষুরধার কলমের খোঁচা! ##


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category