• মঙ্গলবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১০:৫৭ অপরাহ্ন

সড়ক দুর্ঘটনা নিয়ন্ত্রণে কঠোর শাস্তির বিকল্প নেই

বিবিসি একাত্তর ডেস্ক / ২৩৩ Time View
Update : রবিবার, ১৫ আগস্ট, ২০২১

এমডি ফরিদুল আলম

সড়ক দুর্ঘটনা কিছুতেই থামানো যাচ্ছে না! ছোটকাল থেকেই দেখে আসছি চট্টগ্রাম- কক্সবাজার সড়কটিতে নিয়মিত সড়ক দুর্ঘটনা কেড়ে নিচ্ছে বহু প্রাণ। এই ধারাবাহিকতা থেমে নেই! বিশেষ করে চট্টগ্রামের লোহাগড়া চুনতি হয়ে চকরিয়ার ফাঁসিয়াখালী ভেন্ডি বাজার পর্যন্ত সড়ক দুর্ঘটনা মাত্রাতিরিক্ত দৃশ্যমান। আজ থেকে প্রায় ছয় / সাত বছর পূর্বে চট্টগ্রামের লোহাগড়া চুনতিতে রাত সাড়ে এগারোটার দিকে আমি, আমার মেজ ভাই, ভগ্নিপতিসহ ভয়ংকর সড়ক দুর্ঘটনার মুখোমুখি হই। মাইক্রোবাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গড়াতে গড়াতে একেবারে নীচে গিয়ে একটি গাছের সাথে আটকে পড়ে। গাছে আটকে না গেলে হয়তো নীচে জলাধারে গিয়ে পড়তো । মাইক্রোবাসটি চূর্ণ বিচূর্ণ হলেও আল্লাহর অশেষ রহমতে সেদিন বেঁচে গিয়েছিলাম ।

আমি মাইক্রোবাসটির সম্মুখ সীটে অর্থাৎ ড্রাইভারের পাশে থাকলেও দুর্ঘটনা শেষে নিজেকে মাইক্রোবাসের শেষের দিকে আবিস্কার করি। আশপাশের স্থানীয় অসংখ্য লোকজন সাধ্যমতো আমাদের উদ্ধারে জড়ো হতে দেখা যায়। তখন মাইক্রোবাসটি উল্টো অবস্থায় ছিলো। নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে যখন উল্টে যাচ্ছিল তখন মৃত্যুর পূর্বে যে চিন্তা আসে মুহূর্তেই তাই হয়েছিল। চকরিয়ার মালুমঘাট মেমোরিয়াল খ্রিস্টান হাসপাতালে ভর্তি হলেও চেকআপ ও কিছু মেডিসিন দিয়ে ডাক্তার রিলিজ দেন। উল্লেখ্য যে, সেদিন আমার বড়ভাই স্বপরিবারে গ্রামের বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দিলে পথিমধ্যে ঢাকা চট্টগ্রাম মহাসড়কে মিরসরাইয়ে সড়ক দুর্ঘটনায় পতিত হন। মূলতঃ উনাদের নিতে এসেই যাবার পথে আমরাও সড়ক দুর্ঘটনার মুখোমুখি হই।

আজ আমাদের চকরিয়ায় গ্রামের বাড়ির অদূরে কক্সবাজার চট্টগ্রাম প্রধান সড়কে এক সড়ক দুর্ঘটনায় একই পরিবারেরসহ মোট সাতজনের জীবন নিভে গেলো ! যা সত্যি হৃদয় বিদারক। হাইয়েস গাড়িটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একেবারেই পুকুরে পড়ে যায়! স্থানীয়দের সহায়তায় দুর্ঘটনা পতিতদের হাসপাতালে নেয়া হলেও সবাই ঘটনাস্থলে মারা যান বলে জানা যায়।
সড়ক দুর্ঘটনায় অধিকাংশ চালকরা নিরাপদ স্থানে সরে যাবার ঘটনা প্রায় শুনা যায়। এতগুলো যাত্রী সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারালেও কেনো চালকরা অক্ষত থাকেন তা আশ্চর্যের বিষয় বটে! আজকের চকরিয়ার সড়ক দুর্ঘটনায়ও চালককে পালিয়ে যেতে শুনা যায়। আমরা যখন সড়ক দুর্ঘটনার মুখোমুখি হয়েছিলাম তখনও চালক সুস্থ নিরাপদভাবে রাস্তার ওপরে দাঁড়ানো অবস্থায় ছিলেন। তবে কি চালকরা গাড়ি চালানোয় সচেতন নন? নাকি অধিকাংশ সড়ক দুর্ঘটনায় তারা বেঁচে যান বলেই গাড়ি চালানোয় তেমন গুরুত্ব দেন না? নাকি আইনের ফাঁকফোকরে লঘু শাস্তি মনে করে তাদের গাড়ি চালানোয় মনোযোগ নেই? এমন প্রশ্ন রয়েই যায়!
চালকদের যথাযথ প্রশিক্ষণের অভাব, অদক্ষতা, মাত্রাতিরিক্ত গতিতে গাড়ি চালানোও সড়ক দুর্ঘটনার কারণ! তাছাড়া হেলপার, সুপারভাইজারকেও অনেকসময় গাড়ি চালাতে শুনা যায়।

এ দেশে সড়ক দুর্ঘটনা নিয়ন্ত্রণ করতে হলে প্রয়োজনে আইনের ধারা পরিবর্তন ছাড়া বিকল্প নেই। প্রতিটি সড়ক দুর্ঘটনার মূল কারণগুলো উদঘাটন করে যথাযথ শাস্তির ব্যবস্থা না করলে সড়ক দুর্ঘটনা হ্রাস করা সম্ভব নয়। এখনো রাস্তাঘাটে ফিটনেসবিহীন গাড়ি দৃশ্যমান। এইসব লক্কর-ঝক্কর গাড়িগুলো রাস্তায় দেখা মাত্রই মালিক ও চালক উভয়কেই শাস্তির আওতায় আনা জরুরি।।

দুর্ঘটনায় পতিত গাড়ির চালকের পাশাপাশি মালিককে কঠোর শাস্তি ও জরিমানার আওতায় আনা গেলেই নিঃসন্দেহে সড়ক দুর্ঘটনা নিয়ন্ত্রণে আসবে। নয়তো এই সড়ক দুর্ঘটনা রোধ করা কঠিন হয়ে পড়বে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category