• সোমবার, ২৮ নভেম্বর ২০২২, ১২:১৩ পূর্বাহ্ন
  • [gtranslate]

পেকুয়ায় মামলা দিয়ে ৫ ছেলেকে দেশান্তর-বসতবাড়ি হারালো সেই নারী

পেকুয়া প্রতিনিধি / ৮৫ Time View
আপডেট : শুক্রবার, ২৭ মে, ২০২২

কক্সবাজারের পেকুয়ায় ভিটে ও বসতবাড়ি হারালো সেই অসহায় দরিদ্র নারী। মামলায় জড়ানো হল ৫ ছেলেকে। স্বামী-স্ত্রী দম্পতিসহ একই পরিবারের ৭ জন ফৌজধারী মামলার আসামী। গ্রেপ্তার ও হামলার ভয়ে পরিবারের সকল সদস্য হয়েছে এলাকাছাড়া। বাড়িতে তালা ঝুলিয়ে পুলিশের ধরপাকড় এড়াতে আসামীরা সটকে পড়ে। ওই সুবাধে দুবৃর্ত্তরা মামলায় আসামীদের বসতভিটায় হানা দেয়। তারা বসতবাড়ির মালামালসহ সব দ্রব্যাদি নিয়ে যায়। বাঁশের বেড়ার ও ছনের ছাউনির বসতঘরটি গুড়িয়ে ফেলে। এক পর্যায়ে যাতে করে বসতবাড়ির চিহ্ন না পাওয়া যায় সেই কুমানসে তারা বাড়িটি মাটিতে মিশিয়ে ফেলে। বসতভিটায় ছিল বিভিন্ন প্রজাতির অসংখ্য গাছ গাছালি। বৃক্ষরাজির সেই সবুজের বেষ্টুনিগুলিও ভিটা থেকে কেটে সাবাড় করা হয়। উপজেলার রাজাখালী ইউনিয়নের দশেরঘোনায় বসতবাড়ি ও ভিটা জবর দখলের এ তথ্য পাওয়া গেছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গত ২ বছর আগে পূর্ব শত্রæতার জের ধরে দশের ঘোনায় আবদু রহমানের পুত্র আবদুল খালেক প্রকাশ মাছন ও প্রতিবেশী আবুল হোসেনের পুত্র আবু বক্করের মধ্যে মারপিট হয়েছে। ওই ঘটনায় আবু বক্কর পায়ে জখমী হন। ওই ঘটনায় ২০২০ সালের ২০ অক্টোবর পেকুয়া থানায় মামলা রুজু করা হয়। যার নং ০৫/২০। সুত্র জানান, মামলায় আবদু রহমানের পুত্র আবদুল খালেক প্রকাশ মাছনসহ ৫ পুত্রকে আসামী করা হয়। এজাহারে আবদুল খালেকের পিতা আবদু রহমান ও আবদু রহমানের স্ত্রী ছৈয়দা বেগমসহ ৭ জনকে আসামী করা হয়। পুলিশ আসামী ধরতে তৎপর চালান। এতে করে পুলিশের ধরপাকড় এড়াতে পরিবারের ৭ জন সদস্যই বাড়িঘর ছেড়ে দেশান্তর হন। এমনকি জখমীর ঘটনায় আবু বক্করের স্বজনরা ছিলেন প্রতিশোধপরায়ন। তারা ক্ষিপ্ত হয়ে ওই হামলার ঘটনায় আবদুল খালেকসহ ওই পরিবারের সদস্যদের হামলার প্রচেষ্টা চালান। বেগতিক অবস্থা দেখতে পেয়ে আবদু রহমানসহ তার স্ত্রী ৫ সন্তান বাড়িঘর ছেড়ে অজ্ঞাত স্থানে চলে যান। তবে বসতবাড়ি ছিল তালাবদ্ধ। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ওই ঘটনা ও মামলার পরবর্তী উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে আবদু রহমানের বসতবাড়িতে দুবৃর্ত্তরা ঢুকে পড়ে। তারা বসতবাড়িটি গুড়িয়ে ফেলে। এমনকি এর চিহ্ন যাতে না থাকে সেই কুদৃষ্টিতে বসতবাড়িটি মাটিতে মিশিয়ে ফেলে। আবদু রহমানের বসতভিটার পরিধি ছিল সাড়ে ৩ শতক মত। ওই অংশের জায়গা এখন জবরদখলে গেছে। স্থানীয়রা জানান, আবদু রহমানের বসতভিটায় আরেকটি নতুন বাড়ি তৈরী হয়েছে। পশ্চিম অংশে ভিটায় কিছু জায়গা এখনো খালি রয়েছে। তরিয়া খাতুন নামের এক মহিলা আবদু রহমানের ঘরভিটায় একটি কুঁড়েঘর বেঁধে ফেলেছে। এর পশ্চিমে আংশিক জায়গায় জাল দিয়ে ঘেরা রাখা হয়েছে। ভিতরে বর্ষায় কিছু সবজি চারা রোপণ করে। স্থানীয়রা জানান, তরিয়া খাতুন ও আবু বক্কর জায়গাটি ভাগাভাগি করে দখল করে ফেলেছে। এ ব্যাপারে আবদু রহমান জানান, আমি আমার মায়ের প্রাপ্ত অংশে বসবাস করছিলাম। মামলা দিয়ে আমরা স্বামী স্ত্রীসহ ৫ ছেলে আত্মগোপনে রয়েছি। আবু বক্কর, জয়নাল, নুরুল আলম, মনু, তরিয়া খাতুন গং ভাড়াটে লোকজন নিয়ে আমার ঘরটি ভেঙ্গে ফেলেছে। গাছ গাছালি কেটে নিয়ে গেছে। আবদুল খালেক জানান, পৃথিবীতে এ রকম অবিচার আর কোথাও আছে বলে আমার মনে হয়না। মামলা হয়েছে আইনকে আমরা শ্রদ্ধা করি। তারা দা, কিরিচ নিয়ে থাকে। যেতে পারি না নাড়ির টানে সেই বাড়িতে। আবদু রহমানের স্ত্রী ছৈয়দা খাতুন জানান, আমরা নিষ্টুরতার শিকার হচ্ছি। মামলা হয়েছে দোষী, ন্যায় বের করবে আইনে। কিন্তু তারা আমার বাড়িটি কেন গুড়িয়ে ফেলল। আমি এ বিচার চাই। অপরদিকে আবু বক্কর জানান, আমার ডান পা কেটে ফেলা হয়েছে। বর্তমানে পঙ্গু অবস্থায় রয়েছি। কোন কাজ কর্ম করতে পারিনা।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো ক্যাটাগরি