• শুক্রবার, ১২ অগাস্ট ২০২২, ০২:৪৭ অপরাহ্ন
  • [gtranslate]
শিরোনাম
ঠাকুরগাঁও রানীশংকৈলে প্রধান শিক্ষকদের মতবিনিময় ও রিটার্নস সভা অনুষ্ঠিত চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে গৃহবধূর নগ্ন ভিডিও তৈরি করে ফেসবুকে ছেড়ে দেওয়ার হুমকির অভিযোগ বিশ্বে তেলের দাম কমলেও দেশে কেন কমছে না? কারণ জানালেন মন্ত্রী পেকুয়ায় অপহরনের অভিযোগ তুলে অসহায় পরিবারকে হয়রানীর অভিযোগ! পেকুয়ায় পূর্ব শত্রুতার জেরে দোকানীকে হামলা ও ভাংচুরের অভিযোগ গাজায় ইসরাইলি হামলায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৪৭ পিঁপড়ে গোঁ ধরেছে, উড়বেই ইসরাইলি বিমানের জন্য আকাশ উন্মুক্ত করবে না ওমান জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির প্রতিবাদে সমাবেশ থেকে সরকারের পদত্যাগের ডাক বিএনপির শিল্প-কারখানা এলাকাভিত্তিক এক দিন বন্ধ রাখতে প্রজ্ঞাপন জারি

নির্বাচনমুখী রাজনীতিতে বেড়েছে কূটনৈতিক তৎপরতা

বিবিসি একাত্তর ডেস্ক / ৩৩ Time View
আপডেট : শুক্রবার, ১৫ জুলাই, ২০২২

মঈন উদ্দিন খান
নির্বাচনমুখী রাজনীতিতে কূটনৈতিক তৎপরতা অনেকটাই বেড়ে গেছে। বিগত দুটি ‘বিতর্কিত’ জাতীয় নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে আগামী নির্বাচন যাতে সুষ্ঠু, অবাধ ও অংশগ্রহণমূলক হতে পারে, সেই ‘পরিবেশ’ তৈরির লক্ষ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ বাংলাদেশে নিযুক্ত বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকরা বেশ সোচ্চার ভূমিকায় রয়েছেন। নির্বাচন কমিশন থেকে শুরু করে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সাথে তারা এখন নিয়মিতই বৈঠক করছেন। এসব বৈঠকে আগামী নির্বাচন নিয়ে বিভিন্ন পক্ষের ভাবনাগুলো তারা বোঝার চেষ্টা করছেন। একই সাথে সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানে যেকোনো সহযোগিতারও আশ্বাস দিচ্ছেন তারা।

২০২৩ সালের ডিসেম্বর অথবা ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে অনুষ্ঠিত হতে পারে দ্বাদশ জাতীয় নির্বাচন। রাজনৈতিক দলগুলো ওই নির্বাচন সামনে রেখে দলীয় এজেন্ডা প্রস্তুত করছে। বিরোধী দলগুলো ‘নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকার’ ছাড়া নির্বাচনে না যাওয়ার ঘোষণা দিয়ে আন্দোলনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। অন্যদিকে সরকারি দল বিরোধীদের হুমকি-ধমকি পাত্তা না দিয়ে নির্বাচনে জিতে টানা চতুর্থবারের মতো ক্ষমতায় আসার পরিকল্পনা আঁটছে।

তবে বিগত দুটি জাতীয় (২০১৪ ও ২০১৮) নির্বাচন নিয়ে দেশ-বিদেশে নানামুখী বিতর্ক তৈরি হওয়ায় আগামী নির্বাচন নিয়ে জল্পনা-কল্পনার শেষ নেই। নির্বাচন অনুষ্ঠান নিয়েও এক ধরনের অনিশ্চয়তার কথা বলা হচ্ছে কোনো কোনো মহল থেকে। বিএনপির নেতৃত্বে বিরোধী দলগুলো আন্দোলনে নামতে মোক্ষম সময়ের অপেক্ষায় রয়েছে। আগামী নির্বাচনকে তারা ‘চ্যালেঞ্জে’ ছেড়ে দিতে চায় না। আন্দোলনের মধ্য দিয়ে সরকার পতনের হুঁশিয়ারিও দেয়া হচ্ছে। এমন একটি অবস্থায় নির্বাচন সামনে রেখে কূটনৈতিক তৎপরতাও বেশ বেড়েছে।

বাংলাদেশের আগামী নির্বাচন নিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যে তাদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে। দেশটি আগামীতে একটি সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন আশা করছে। গত ৫ জুলাই মার্কিন দূতাবাসের ভেরিফাইড ফেসবুকে এক পোস্টে বলা হয়, ‘গণতন্ত্র হলো শান্তি, সমৃদ্ধি এবং নিরাপত্তাকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে মানবতার সবচেয়ে স্থায়ী উপায়। আর গণতন্ত্রের ভিত্তি হলো নির্বাচন। আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে বাংলাদেশের জনগণ স্বাধীনভাবে তাদের নেতা নির্বাচন করবে বলে যুক্তরাষ্ট্র প্রত্যাশা করে।’ এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত পিটার ডি হাস নতুন সিইসি কাজী হাবিবুল আউয়ালের সাথে বৈঠককালেও সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচনের ওপর জোর দেন। গত ৩ জুলাই বাংলাদেশে নিযুক্ত ইউরোপীয় ইউনিয়নের হাইকমিশনের নেতৃত্বে অর্গানাইজেশন ফর ইকোনমিক কো-অপারেশন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টভুক্ত (ওইসিডি) ১৪টি দেশের রাষ্ট্রদূতরা প্রধান নির্বাচন কমিশনারসহ ইসি সদস্যদের সাথে মতবিনিময় করে আগামী নির্বাচন নিয়ে তাদের অবস্থান তুলে ধরেন। ওই বৈঠক শেষে প্রতিনিধিদলের পক্ষে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন বাংলাদেশে নিযুক্ত সুইজারল্যান্ডের রাষ্ট্রদূত নাথাল চুয়ারড।

বাংলাদেশের আগামী নির্বাচন বিষয়ে নাথাল চুয়ারড বলেন, ‘নাগরিকদের ভোটাধিকার নিশ্চিত, দেশের গণতন্ত্র আরো কার্যকর ও শক্তিশালী করা এবং অংশগ্রহণমূলক ও সহিংসতামুক্ত নির্বাচনী পরিবেশ সৃষ্টির মাধ্যমে গণমাধ্যম ও সুশীল সমাজের কার্যকর ভূমিকা নিশ্চিতে সহায়ক অবস্থা তৈরি এবং সব অংশীজনের যথাযথ অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে আমরা নির্বাচন কমিশনকে যেকোনো প্রকার সহযোগিতা দিতে প্রস্তুত। গণতান্ত্রিক ধারা আরো শাণিত করার মধ্য দিয়ে নাগরিকদের আকাক্সক্ষা প্রতিফলন ঘটাতে সহায়তা করতে চায় ওইসিডির সদস্য দেশগুলো।

ওই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন কানাডার হাইকমিশনার লিলি নিকোলসও। তিনি পরে নিজের অফিসিয়াল টুইটার অ্যাকাউন্টে লিখেন, ‘বাংলাদেশে অবাধ, সুষ্ঠু, অন্তভুক্তিমূলক নির্বাচন নিশ্চিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় স্পষ্টতই নজর রাখছে।’

কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক সূত্রগুলোর মতে, কূটনৈতিক পার্টিগুলোতেও এখন মূল আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়াচ্ছে আগামী নির্বাচন। এসব পার্টিতে অংশ নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর নেতারাও নিজ নিজ অবস্থান তুলে ধরছেন।

চলতি সপ্তাহে ঢাকায় জাতিসঙ্ঘের আবাসিক সমন্বয়ক জিন লুইস এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত চার্লস হোয়াটলি বিএনপি নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। এসব বৈঠককে বিএনপির তরফ থেকে সৌজন্য সাক্ষাৎ বলা হলেও দেশের রাজনৈতিক অবস্থা ও আগামী নির্বাচন প্রসঙ্গও আলোচনায় উঠে এসেছে বলে জানা গেছে। আগামী নির্বাচনে বিএনপির অবস্থানও তুলে ধরা হয় এসব বৈঠকে। বিএনপির নেতারা মনে করেন, মাঠের আন্দোলনের পাশাপাশি কূটনৈতিক সংযোগও বেশ গুরুত্বপূর্ণ। এ কারণে তারা প্রভাবশালী দেশগুলোর সোচ্চার ভূমিকা প্রত্যাশা করে।

অন্য দিকে আওয়ামী লীগও তাদের মিত্র দেশগুলোর সাথে সংযোগ রক্ষা করে চলছে। র্যাব ও পুলিশের ৭ কর্মকর্তার ওপর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার প্রভাবও তারা কাটিয়ে উঠার চেষ্টা করছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published.

আরো ক্যাটাগরি