• শুক্রবার, ১২ অগাস্ট ২০২২, ০২:১৯ অপরাহ্ন
  • [gtranslate]
শিরোনাম
ঠাকুরগাঁও রানীশংকৈলে প্রধান শিক্ষকদের মতবিনিময় ও রিটার্নস সভা অনুষ্ঠিত চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে গৃহবধূর নগ্ন ভিডিও তৈরি করে ফেসবুকে ছেড়ে দেওয়ার হুমকির অভিযোগ বিশ্বে তেলের দাম কমলেও দেশে কেন কমছে না? কারণ জানালেন মন্ত্রী পেকুয়ায় অপহরনের অভিযোগ তুলে অসহায় পরিবারকে হয়রানীর অভিযোগ! পেকুয়ায় পূর্ব শত্রুতার জেরে দোকানীকে হামলা ও ভাংচুরের অভিযোগ গাজায় ইসরাইলি হামলায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৪৭ পিঁপড়ে গোঁ ধরেছে, উড়বেই ইসরাইলি বিমানের জন্য আকাশ উন্মুক্ত করবে না ওমান জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির প্রতিবাদে সমাবেশ থেকে সরকারের পদত্যাগের ডাক বিএনপির শিল্প-কারখানা এলাকাভিত্তিক এক দিন বন্ধ রাখতে প্রজ্ঞাপন জারি

কিল খেয়ে কিল হজমের কাহিনী

বিবিসি একাত্তর ডেস্ক / ৩৬ Time View
আপডেট : বৃহস্পতিবার, ২১ জুলাই, ২০২২

ড. আবদুল লতিফ মাসুম
প্রবাদটি এ রকম- কিল খেয়ে কিল হজম করা। এর মানে হচ্ছে আপনি যদি কোনো না কোনোভাবে এমনভাবে নির্যাতিত বা অপমানিত হন, যা প্রকাশ করলে আরো কষ্ট ও যন্ত্রণার কারণ হতে পারে, তা বেমালুম হজম করে ফেলা। অপমানকে নিরবে নিভৃতে লালন করা। আর লোকচক্ষুর বাইরে চোখের পানি ফেলা। অথবা হৃদয়ে রক্তক্ষরণ নিরবে ধারণ করা। আমাদের সমাজে যারা দুর্বল, যারা প্রতিবাদ করতে ভয় পায়, ভীতু প্রকৃতির লোক, তারা কিল খেয়ে কিল হজম করে। আবার পরিবেশ পরিস্থিতি রাজনীতি, সমাজনীতির অব্যবস্থায় ও অপব্যবস্থায় কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে অপমান সহ্য করতে হয়।

প্রায়শই এ ধরনের ঘটনা পরিবার, পাড়া ও পরিচিত পরিবেশে ঘটে যাচ্ছে। যারা কিল খায় তারা বলতে চায় না আমি কিল খেয়েছি। আর যে কিল দেয় সেও সুযোগ ও কৌশলের ব্যবহার করে নিজে বেমালুম ভালো মানুষ হয়ে যায়। গত সপ্তাহে এ রকম একটি ঘটনা ঘটেছে। সংবাদপত্রে ও গণমাধ্যমে ঘটনাটি প্রকাশের পর মানুষ যখন বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠে, তখন সে জনমতকে কৌশলে মোকাবেলা করার জন্য ওই পথ বেছে নেয়া হয়।

ঘটনাটি এ রকম। রাজশাহীর একজন সংসদ সদস্য একটি বেসরকারি কলেজের অধ্যক্ষকে মারধর করেন বলে সংবাদপত্রে প্রকাশিত খবরে জানা যায়। বাংলাদেশ কলেজ শিক্ষক সমিতির রাজশাহী জেলা শাখার সভাপতি শফিকুর রহমানের অভিযোগ, রাজশাহী-১ (তানোর-গোদাগাড়ি) আসনের সংসদ সদস্য ওমর ফারুক চৌধুরী গোদাগাড়ি উপজেলার রাজাবাড়ি ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ সেলিম রেজাকে চড়-থাপ্পড়-কিল-ঘুষি মেরেছেন। প্রকাশিত খবর অনুযায়ী ওই ঘটনা তদন্তে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ইতোমধ্যেই একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্টার মোল্লা মাহফুজ আর হোসাইনকে আহ্বায়ক করে এ তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। গত ১৩ জুলাই সন্ধ্যায় জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দফতরের পরিচালক মোহাম্মদ আতাউর রহমানের পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা জানানো হয়। ৭ জুলাই রাতে এমপি ওমর ফারুক চৌধুরীর রাজশাহী নগরের থিম ওমর প্লাজার ব্যক্তিগত কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ।

অভিযোগের বিষয় জানতে চাইলে সংসদ সদস্য ওমর ফারুক চৌধুরী সংবাদপত্রকে বলেন, তার ব্যক্তিগত কার্যালয়ে অধ্যক্ষ ফোরামের আলোচনায় আট জন অধ্যক্ষ ও একজন উপাধ্যক্ষ ছিলেন।

আলোচনা চলাকালে স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে তাদের মধ্যে ধাক্কাধাক্কি হয়। এ সময় তিনি তাদের থামিয়ে দেন। থামাতে গিয়ে তাদের কাউকে ধাক্কাও দিতে হয়েছে এমনটি হতে পারে। সেখানে অধ্যক্ষের গায়ে হাত তোলার কোনো ঘটনাই ঘটেনি। এমন কথা অধ্যক্ষ সেলিম রেজাও বলতে পারবেন না। ওমর ফারুক চৌধুরী দাবি করেন ১৫ জুলাই তানোর উপজেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন নির্দিষ্ট ছিল। সম্মেলন সামনে রেখে তার ভাবমর্যাদা নষ্ট করার জন্য এমন অভিযোগ উত্থাপন করা হয়েছে। ঘটনার ব্যাপারে ভুক্তভোগী শিক্ষক সেলিম রেজার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। সাংবাদিকরা তাকে খুঁজে পাননি। অর্থাৎ বিষয়টি চেপে যাওয়ার জন্য বা মুখ না খোলার জন্য তিনি গা ঢাকা দিয়েছেন এমন মনে করা যায়।

বাংলাদেশ কলেজ শিক্ষক সমিতির রাজশাহী জেলার শাখার সভাপতি শফিকুর রহমান অবশ্য বলেছেন, ঘটনার পর তিনি অধ্যক্ষ সেলিম রেজাকে ফোন করেছিলেন। তিনি ঘটনার কথা নিশ্চিত করেছেন।

এরপরে ঘটে আরো নাটকীয় ঘটনা। ওমর ফারুক চৌধুরীর হাতে পিটুনির শিকার সেই অধ্যক্ষ কিল খেয়ে কিল হজম করেন। আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান যে, গণমাধ্যমে যে খবর প্রকাশিত হয়েছে তা সত্যি নয়। এমপি তাকে মারধর করেননি। এর আগে সেলিম রেজা সাংবাদিকের সাথে তার ওপর এমপির হামলা ও মারধরের বিস্তারিত বিবরণ তুলে ধরেছিলেন। সংগতভাবে প্রশ্ন উঠেছে যে, কেন এই কিল হজম করার ঘটনা? প্রকাশিত অভিযোগ মোতাবেক জীবন ও চাকরির নিরাপত্তায় ওমর ফারুক চৌধুরীর চাপে তিনি এই কৌশল গ্রহণ করেছেন। সংবাদ সম্মেলনে এমপি উপস্থিত ছিলেন। আরেক সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত অন্য এক কলেজের শিক্ষক শাক দিয়ে মাছ ঢাকার চেষ্টা করেন। তিনি নিজেই ধাক্কা দেয়ার দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

সংবাদ সম্মেলনে প্রশ্নবাণে জর্জরিত অধ্যক্ষ সেলিম রেজা। মারধর না হলে ঘটনার রাতে চিকিৎসকের কাছে কেন গেলেন! সাংবাদিকরা অধ্যক্ষ সেলিম রেজার বাম চোখের নিচের কালো দাগের ব্যাপারে প্রশ্ন করলে তিনি কোনো উত্তর দিতে পারেননি। এ ছাড়া তার শরীরের বাম হাতের কনুইয়ের নিচে এবং কোমরের নিচের কালো দাগ দেখতে চান গণমাধ্যমকর্মীরা। কিন্তু অধ্যক্ষ সেলিম রেজা সেসব আলামত দেখাতে অস্বীকৃতি জানান। সংবাদ সম্মেলনে প্রকারান্তরে বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে যায় যে, এর আয়োজক হচ্ছেন এমপি মহোদয়। তার নিজের অফিসেই। গরজটা তারই। কেন এই গরজ? উত্তরে বলা যায় ‘ঠাকুর ঘরে কে রে? আমি কলা খাই না’। এমপি সাহেব যদি সত্যি সত্যি অভিযুক্ত না হতেন তাহলে তার নিশ্চুপ থাকাই ছিল বুদ্ধিমানের কাজ। অথচ তিনি এক মিথ্যাকে ঢাকতে গিয়ে শত মিথ্যার আয়োজন করলেন।

সত্য কোনো না কোনোভাবে বেরিয়ে আসে। ওমর ফারুক চৌধুরীর শিক্ষক পেটানোর সত্যতা অবশেষে বেরিয়ে এসেছে। মারধরের পর একজনের সাথে অধ্যক্ষ সেলিমের কথোপকথনের অডিও ফাঁস হয়েছে। ফাঁস হওয়া সেই অডিওতে শোনা যায়, অধ্যক্ষ সেলিম রেজা অকপটে বলছেন, ৭ জুলাই রাতে এমপি ফারুক চৌধুরী তাকে নির্মমভাবে পিটিয়েছেন। রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান আসাদ ১২ মিনিট ১৬ সেকেন্ডের অডিওটির কপি সাংবাদিকদের হাতে তুলে দিয়েছেন। এ সময়ে আসাদ জানান যে, ঘটনার পরপরই অধ্যক্ষ সেলিম রেজা ফোন করে তাকে এ ঘটনা জানিয়েছিলেন।

অন্যদিকে এ তথ্যের প্রতিবাদ করেছেন এমপি মহোদয়। তিনি বলেছেন, সব ঝুট হ্যায়। তার সাথে আবারো সুর মিলিয়েছেন সেই কিল খেয়ে কিল হজম করা অধ্যক্ষ সেলিম রেজা। স্পষ্টত এমপি সাহেবের বিরুদ্ধে অবস্থানকারী আওয়ামী লীগ নেতা আসাদুজ্জামান আসাদ শক্তভাবে সেলিম রেজার পক্ষ নেন। আওয়ামী লীগ নেতা যে অডিও ফাঁস করেছেন তাতে ব্যক্তিগত স্পর্শকাতর বিষয় রয়েছে। এই আওয়ামী লীগ নেতা এমপি এর বিরুদ্ধে নানা ধরনের অভিযোগের প্রমাণ দেন। এমপি সাহেব যে পরোক্ষভাবে সেলিম রেজাকে চাপে রেখেছেন অথবা অন্যের মাধ্যমে নমনীয় হওয়ার মেসেজ দিয়েছেন এ রকম ঘটনার প্রমাণ পাওয়া যায়। যেমন একজন ইউপি চেয়ারম্যান ও যুবলীগ নেতা সেলিম রেজার বাসায় ফলমূল ও খাবার নিয়ে আসেন। সোহেল চেয়ারম্যান এমপি ফারুকের সাথে ফোনে সেলিম রেজার সাথে কথা বলিয়ে দেন। এমপি সেলিম রেজার কাছে ঘটনার জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন। ওই দিন সেলিম রেজা বলেন, যেহেতু এমপি সাহেব দুঃখ প্রকাশ করে ক্ষমা চেয়েছেন,এর ফলে এখন তার বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ নেই। আর এভাবেই কিল খেয়ে কিল হজমের নাটকীয় ঘটনা ঘটে।

এমপি ওমর ফারুক চৌধুরীর কলেজ অধ্যক্ষকে পিটিয়ে আহত করার ঘটনাটি সারা দেশে নিন্দার ঝড় তোলে। স্থানীয়ভাবে জনগণ ওমর ফারুকের এ ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন। সারা দেশে বিভিন্ন রাজনৈতিক সামাজিক ও শিক্ষক সংগঠন ঘটনার নিন্দা করেন। শিক্ষক পেটানোর ঘটনায় এমপি ওমর ফারুক চৌধুরীর সংশ্লিষ্টতা এই প্রথম নয়। এর আগে ২০১৮ সালের ১৯ আগস্ট এমপি উপস্থিতিতে দলীয় ক্যাডাররা গোদা বাড়ি ডিগ্রি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ আবদুর রহমানকে পিটিয়ে গুরুতরভাবে আহত করেন। এ ঘটনায় দায়ের হওয়া একটি মামলা চলমান রয়েছে। তানোর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ আল মামুন জানান, কয়েক বছর আগে তানোর এ কে সরকার ডিগ্রি কলেজের তৎকালীন অধ্যক্ষ অধ্যাপক হাবিবুর রহমানকে আমার সামনেই জুতো দিয়ে মেরেছিলেন এমপি ওমর ফারুক চৌধুরী।

কয়েক মাস আগে তানোর উপজেলা প্রকৌশলী আবদুল্লাহ আল মামুনকে শারীরিকভাবে হেনস্তা করেছিলেন এই এমপি। ওই ঘটনার পর প্রকৌশলী মামুন নিজেই তদবির করে তানোর থেকে সিরাজগঞ্জ জেলায় বদলি হয়ে যান। এ ধরনের বেআইনি কর্মকাণ্ড করলেও এই এমপির বিরুদ্ধে কোনো প্রশাসনিক বা সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। সারা দেশে যেমন ভয়ের সংস্কৃতি বিরাজ করছে, তেমনি এমপির দাপটে মানুষ মুখ খুলতে নারাজ। তবে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় নিয়োজিত তদন্ত কমিটি কাজ করছে বলে জানা গেছে।

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মশিউর রহমান দ্রুত এই তদন্ত কমিটি করে একটি ভালো কাজ করেছেন- এই ভীতির সংস্কৃতির যুগে এটা একটি সাহসী পদক্ষেপ। তবে অবশেষে এই তদন্ত কমিটি অপ্রিয় সত্য প্রকাশ করতে পারবে কি না- সেটা নিয়ে শিক্ষক মহলে সন্দেহ রয়েছে। উল্লেখ্য, দেশের অন্যত্র এ ধরনের তদন্ত কমিটি গঠনের ইতিহাস সুখকর নয়। কোনো সময়ই কোনো কমিটি শক্তিমানের স্বার্থের বিরুদ্ধে সত্যের অবস্থানে দৃঢ় থাকতে পারেনি।

এ ধরনের ঘটনা শুধু রাজশাহীতে ঘটছে না। সারা দেশে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের নেতা কর্মীরা শিক্ষক পেটানোকে তাদের একটি মহৎ! কর্ম মনে করছে। রাজশাহীর রেশ কাটতে না কাটতেই বরিশাল থেকে খবর এসেছে সেখানে একজন প্রধান শিক্ষক আওয়ামী যুবলীগের নেতাকর্মী কর্তৃক প্রহৃত হয়েছেন। গত শুক্রবার বরিশালের উজিরপুর উপজেলার পতিবারি বাজারে এ ঘটনা ঘটে।

প্রধান শিক্ষক উজ্জ্বল কুমার মণ্ডল অভিযোগ করেন যে, যুবলীগ নেতা মনির মিয়া তার ভাই এবং ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মশিউর মিয়া আরো জনত্রিশেক লোক নিয়ে তাকে অপমান অপদস্ত করেন। তারা তার ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানও লুটপাট করে। সেখানে থেকে তারা পাঁচ লাখ টাকা নিয়ে যায় বলে অভিযোগ করেন এই হেডমাস্টার। ওই এলাকার পুলিশের ওসি সংবাদপত্রকে বলেন যে, একটি জলাশয়ের অধিকার নিয়ে বিরোধের প্রেক্ষিতে এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয় চেয়ারম্যান এবং আওয়ামী লীগের সাতলা ইউনিয়ন সাধারণ সম্পাদক এই ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেন।

এটি যে কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের বিশেষত এর মাস্তান এমপিদের হাতে বিগত ১৩ বছরে দেশের শিক্ষকসহ গণ্যমান্য ব্যক্তিরা পিটুনির শিকার হয়েছেন। এরই মধ্যে গত শনিবার জাতীয় সংসদের এলইডি হলে ঘটেছে একই রকম ঘটনা। সেখানে দেবিদ্বার উপজেলা চেয়ারম্যানকে লাঠিপেটা করেন কুমিল্লা-৪ আসনের এমপি রাজী মোহাম্মদ ফখরুল। এমনভাবে গত ১ বছরে অর্ধডজন এমপি মানুষ পিটিয়ে দুর্নাম কুড়িয়েছেন! এর আগে সরকারি কর্মকর্তা দলীয় নেতাকর্মী থেকে সাধারণ মানুষ পিটিয়ে বিভিন্ন সময় গণমাধ্যমে আলোচনায় আসেন বরগুনা-২ আসনের এমপি শওকত হাসানুর রহমান রিমন। মানুষ পিটানোয় অভ্যস্ত এ সংসদ সদস্য গত ২১ মে বরগুনার পাথরঘাটার হরিনঘাটার বাজারসংলগ্ন স্লুইচঘাট এলাকায় সালিসি বৈঠক ডেকে এক মাছ ব্যবসায়ীকে মারধর করেন। ২০২১ সালের ২২ সেপ্টেম্বর সংসদ সদস্যের মোটরসাইকেল বহরকে সাইড না দেয়ায় সাবেক ছাত্রলীগ নেতা ও মাছ ব্যবসায়ী মো: নজরুল ইসলামকে বেধড়ক পেটান একই এমপি শওকত হাসানুর রহমান রিমন। এর আগেও সরকারি কর্মকর্তাকে মারধরের অভিযোগ আছে এমপি রিমনের বিরুদ্ধে।

১৯ মে ঝিনাইদহের কালিগঞ্জ সরকারি মাহতাব উদ্দিন কলেজের দুই সহকারী অধ্যাপককে পেটানোর অভিযোগ উঠে ঝিনাইদহ-৪ আসনের এমপি আনোয়ারুল আজিম আনারের বিরুদ্ধে। অভিযোগে বলা হয়, সংসদ সদস্য আনারুল আজিম আনার কলেজে প্রবেশ করে গণিত বিভাগের সহকারী অধ্যাপক সাজ্জাদ হোসেনকে তুই শিবির করিস বলে চড় থাপ্পড় মারতে থাকেন। শিক্ষকদের কমন রুমে নানা রকম হুমকি ধামকি দিয়ে চলে যান। গত বছরের ১৬ সেপ্টেম্বর ডেমরা সাব রেজিস্ট্রি অফিসে এক দলিল লেখককে ঢাকা-৫ আসনের এমপি কাজী মনিরুল ইসলাম মনু মারধর করেছেন বলে অভিযোগ উঠে।

বর্তমান এমপিদের পাশাপাশি থেমে নেই সাবেক এমপিদের দাপট। মানুষ পিটিয়ে বিখ্যাত হয়েছেন কক্সবাজার-৪ আসনের সাবেক এমপি আবদুর রহমান বদি। এসব ইতিহাস মানুষের অজানা নয়। তারা সেই কবে থেকে কিল খেয়ে কিল হজম করেই যাচ্ছে। তাদের হুঁশ হবে কবে?

শিক্ষকদের এই দুর্গতির ইতিহাস ক্ষমতাসীনদের শাসনকালের মতোই সমরূপ। সমাজে যে শিক্ষকরা সবচাইতে সম্মানের অধিকারী আওয়ামী নেতারা তাদেরই মারধরের প্রথম টার্গেট বানিয়ে নিয়েছেন দেশের সর্বত্র। মানুষের কাছে তিনটি জিনিস খুবই গুরুত্বপূর্ণ। প্রথমত তার জীবন, দ্বিতীয়ত তার সম্মান এবং তৃতীয়ত তার সম্পত্তি। আওয়ামী লীগের লোকেরা প্রমাণ করেছেন যে, এই তিনটির কোনোটিই তাদের কাছে নিরাপদ নয়। যারা ক্ষমতাকে অন্যায়, অত্যাচার ও অনাচারের বাহন মনে করে তাদের ক্ষমতায় থাকার কোনো অধিকার নেই। শিক্ষক সমাজ যদি এত কিছুর পরও রুখে না দাঁড়ান, তাহলে তাদের দুর্ভাগ্যের ইতিহাস আরো সুদীর্ঘ হবে।

লেখক : অধ্যাপক, সরকার ও রাজনীতি বিভাগ
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়
Mal55ju@yahoo.com


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published.

আরো ক্যাটাগরি