• শুক্রবার, ০৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৩, ০৩:১৬ অপরাহ্ন
  • [gtranslate]
শিরোনাম
খুটাখালীতে তমিজিয়া মাদ্রাসার অধ্যক্ষের বাড়ীতে দুর্ধর্ষ চুরি সাফারী পার্কের সিংহ রাসেলের অকাল মৃত্যূ বিপ্লব ঘটবে অর্থনীতিতে! তাপবিদ্যুৎ কাজের অগ্রগতি ৭৫ শতাংশ – হচ্ছে সমুদ্রবন্দর ও রেললাইন! ঠাকুরগাঁও-৩ আসনে বিজয়ী হলেন জাতীয় পার্টির হাফিজউদ্দীন আহমেদ চকরিয়া ইউপি সদস্যের নেতৃত্বে হামলা ভাংচুর ও মারধর, আহত-৫ টেকনাফ মৌচনী ক্যাম্পের রোহিঙ্গা নুর নাহার এখন বাংলাদেশী পেকুয়ায় কর্মজীবির জায়গায় রাতেই স্থাপনা নির্মাণ পেকুয়ায় দরবার সড়কের বেহাল দশায় চরম দুর্ভোগ! ফাঁসিয়াখালীতে সামাজিক বনায়নের গাছ কর্তনে পাচারকালে জব্দ চকরিয়ায় প্রতিবন্ধির বসতভিটা কেড়ে নিতে প্রবাসী নুরুল আমিনের হুমকি

বৃষ্টির কারণে ভিক্ষা পাননি বৃদ্ধা, শুনে নিজের ভিক্ষার টাকা দিয়ে দিলেন আরেক ভিক্ষুক

ঝিনাইদহ জেলা প্রতিনিধি / ৪১ Time View
আপডেট : বৃহস্পতিবার, ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২২

নিজের ভিক্ষার টাকা অন্য ভিক্ষুকের হাতে তুলে দিয়ে দৃষ্টান্ত সৃষ্টি করলেন শারীরিক প্রতিবন্ধী ভিক্ষুক মামুন হোসেন। বুধবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সকালে এ দৃশ্যটি দেখা যায় ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর কলেজ বাসস্ট্যান্ডের এক চায়ের দোকানে।

সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, কয়েকদিনের গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টিতে মানুষের কাজকর্ম ব্যাহত হচ্ছে। এরপরও আয় রোজগার করতে বৃষ্টি উপেক্ষা করে বাড়ি থেকে বের হয়েছেন অনেকে। এদের মধ্যে দেখা যায় দুইজন ভিক্ষুককে। এদের মধ্যে একজন বৃদ্ধা রাহেলা খাতুন (৭০), আরেকজন শারীরিক প্রতিবন্ধী মামুন হোসেন। মামুন বাসে ভিক্ষা করেন। রাহেলা কোটচাঁদপুর শহরের দোকান আর বাসাবাড়িতে ভিক্ষা করেন।

বুধবার সকাল ৯টায় মামুন বসে ছিলেন কোটচাঁদপুর কলেজ বাসস্ট্যান্ডের বাস কাউন্টারের পাশের চায়ের দোকানে। হঠাৎ ওখানে এসে পৌঁছান বৃদ্ধ রাহেলা খাতুন (৭০)। বৃষ্টিতে তার গায়ের কাপড়ের অধিকাংশ ছিল ভেজা। তিনিও বসেন ভিক্ষুক মামুনের পাশে। এর কিছুক্ষণ পর আলাপচারিতা করতে দেখা যায় ওই দুইজনকে।

একপর্যায়ে মামুন তার পকেট থেকে টাকা বের করে হাত বাড়িয়ে দেন রাহেলার দিকে। নিতে বলেন টাকাগুলো। রাহেলা টাকাটা হাতে নেন। এদিকে এ দৃশ্য দেখেন স্থানীয় অনেকে। হতবাক হন মামুনের এ আত্মত্যাগ দেখে।

মামুন কোটচাঁদপুর উপজেলার তালসার গ্রামের আবুল কালামের ছেলে। ৪ ভাই ২ বোনের মধ্যে মামুন দ্বিতীয় ছেলে। মামুন বিয়ে করেছেন। সংসার জীবনে তিনি দুই সন্তানের জনক।

মামুন বলেন, জন্ম থেকে আমি প্রতিবন্ধী ছিলাম না। ছোটবেলায় পোলিও হওয়ায় আমি প্রতিবন্ধী হয়েছি। এরপর থেকে দীর্ঘদিন ধরে ভিক্ষাবৃত্তি করে জীবিকা নির্বাহ করে থাকি। এ ছাড়া সরকার থেকে প্রতিবন্ধী ভাতাও পেয়ে থাকি।

তিনি বলেন, প্রতিনিয়ত আমি বাসে ভিক্ষা করি। এতে আমার আয় রোজগার খারাপ হয় না। এ কারণে মায়ের বয়সের বৃদ্ধাকে ভেজা অবস্থায় দেখে আমার কষ্ট লেগেছিলো। তিনি আমাকে বলেছিলেন, বৃষ্টির কারণে আজ কোনো ভিক্ষা হয়নি। এ কারণে আমার ভিক্ষা করা কিছু টাকা তাকে দিয়েছি।

রাহেলা খাতুন কোটচাঁদপুর উপজেলার মুরুটিয়া গ্রামের বাসিন্দা। বেশ কয়েক বছর হলো তার স্বামী মারা গেছেন। রেখে গেছেন দুইটি সন্তান। যার একটি মেয়ে। আরেকটি ছেলে। এদের দুইজনই প্রতিবন্ধী বলে নিশ্চিত করেছেন স্থানীয় ইউপি সদস্য ফারুক হোসেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো ক্যাটাগরি