• শুক্রবার, ০৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৩, ০৪:২১ অপরাহ্ন
  • [gtranslate]
শিরোনাম
খুটাখালীতে তমিজিয়া মাদ্রাসার অধ্যক্ষের বাড়ীতে দুর্ধর্ষ চুরি সাফারী পার্কের সিংহ রাসেলের অকাল মৃত্যূ বিপ্লব ঘটবে অর্থনীতিতে! তাপবিদ্যুৎ কাজের অগ্রগতি ৭৫ শতাংশ – হচ্ছে সমুদ্রবন্দর ও রেললাইন! ঠাকুরগাঁও-৩ আসনে বিজয়ী হলেন জাতীয় পার্টির হাফিজউদ্দীন আহমেদ চকরিয়া ইউপি সদস্যের নেতৃত্বে হামলা ভাংচুর ও মারধর, আহত-৫ টেকনাফ মৌচনী ক্যাম্পের রোহিঙ্গা নুর নাহার এখন বাংলাদেশী পেকুয়ায় কর্মজীবির জায়গায় রাতেই স্থাপনা নির্মাণ পেকুয়ায় দরবার সড়কের বেহাল দশায় চরম দুর্ভোগ! ফাঁসিয়াখালীতে সামাজিক বনায়নের গাছ কর্তনে পাচারকালে জব্দ চকরিয়ায় প্রতিবন্ধির বসতভিটা কেড়ে নিতে প্রবাসী নুরুল আমিনের হুমকি

লবণাক্ততায় ব্যাহত চাষাবাদ, অনাবাদি না রাখার তাগিদ প্রধানমন্ত্রীর

নিজস্ব প্রতিনিধি / ৬৩ Time View
আপডেট : মঙ্গলবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২২

বদরুল ইসলাম বাদল
          দেশ আজ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ।এই অর্জনের কৃতিত্বের দাবীদার কৃষক সমাজ।এই ভূমিযোদ্ধারাই আমাদের দেশের  অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি । অথচ  চালিকাশক্তির কৃষকরা দুর্ভোগ, অবজ্ঞা,   অবহেলার  স্বীকার  সবচেয়ে বেশি।করোনা পরবর্তী “মরার উপর খাড়ার ঘা” রূপে রাশিয়া ইউক্রেন যুদ্ধে বিশ্বে ভয়াবহ মন্দার আশংকায় চিন্তিত অর্থনীতিবিদগন। অবশ্য এই মন্দার তালিকায় বাংলাদেশের নাম না থাকলেও মন্দার  প্রভাব সব দেশের মত এখানে ও আসতে পারে,এমন মনে করে অর্থনৈতিক বিশ্লেষক মহল। আবার অনাবৃষ্টি খরা,বন্যা সহ নানাবিধ প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের পরেও একমাত্র  কৃষকরাই ভরসা, কম জমিনে বেশী ফসল ফলিয়ে বৈশ্বিক মন্দার মোকাবেলা করার।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন,” বিশ্ব সংকটের কারণে দেশ যাতে কোন সংকটের সম্মুখীন না হয়,সেই জন্য আমাদের সবাইকে সজাগ থাকতে হবে। দেশের এক ইঞ্চি জমিও যেন অনাবাদি না থাকে।দেশের প্রতিটি নাগরিকের উচিত তার জমি থেকে কিছু না কিছু উত্পাদন করা”। কিন্তু  চকরিয়ায় উপকূলীয় অঞ্চলে ফসলি ভূমি লবণ পানিতে বন্দী হওয়ায় ক্ষেতের  ফসল নষ্টের শংকায়  সাধারন মানুষ সহ কৃষকরা।তাদের  আর্তচিৎকার,আহাজারি শুনবার মত যেন কেউ নেই।এই মৌসুমে পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত না হওয়ার কারণে চাষাবাদ নিয়ে সংকটে চাষিরা।আবার খাল-বিলের পানিও ক্ষেতে ব্যবহারের উপযুক্ত নয়। ঢেমুশিয়া খাল সহ জলমহালে ইজারাদাররা  চিংড়ি চাষের জন্যে লবণ পানি ঢুকিয়ে রাখে। দীর্ঘদিন পর্যন্ত লবনাক্ত পানি অবস্থান করার কারণে মাটিও  লবনাক্ত হয়ে যায়।আর লবণাক্ত মাটিতে ধান গাছের স্বাভাবিক বৃদ্ধিকে সাংঘাতিক ভাবে  বাধাগ্রস্ত করে। পরিবেশ বিজ্ঞানী ড,দিলীপ কুমার দত্তের মতে, মাটির লবনাক্ততা পানির লবনাক্ততার উপর নির্ভর করে, পানির লবনাক্ততা বৃদ্ধি পেলেই মাটির লবনাক্ততা বৃদ্ধি পায়”।মিষ্টি পানির প্রবাহ কম হলে ঐ লবনাক্ততা সারা বছর মাটি এবং মাটির দ্বিতীয় স্তরে স্থায়ী হয়।পর্যাপ্ত বৃষ্টি হলে নদী সমূহের পানি  লবনাক্ততা মোটামুটি ফসলের সহনীয় পর্যায়ে চলে আসে।কিন্তু এবছর পর্যাপ্ত বৃষ্টি আসে নাই।কখন বর্যা মৌসুম এসেই বিদায় হয়েছে কৃষক বুঝতেই পারেনি। শুরুতে সল্প বৃষ্টির পানিতে কৃষক বীজতলা তৈরি করে।ধানের চারা তৈরি করে। তারপর জমি তৈরী করতে পর্যাপ্ত বৃষ্টি পায়নি।।উপকূলীয় জনপদের জনপ্রিয় ব্যক্তিত্ব, পশ্চিম বড় ভেওলা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান, মাতামুহুরি (সাং) উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি জনাব সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী বাবলা সাহেব  চকরিয়া উপজেলাধীন উপকূলীয় সাত ইউনিয়নের কৃষকদের আর্তচিৎকার এবং আহাজারি দেখে প্রতিকার নিয়ে প্রশাসনের নজরে আনেন। সামাজিক  মাধ্যমে বাবলা সাহেবের স্ট্যাটাস থেকে জানা যায় , “বর্যা মৌসুমে পর্যাপ্ত বৃষ্টি না হওয়ায় কৃষকরা নিজেদের পুকুর, ডুবা,জলাশয় ইত্যাদির পানি দিয়ে চাষাবাদের প্রাথমিক কাজ শেষ করেছেন। এ সময় ঢেমুশিয়া খালের পানি লবনাক্ত থাকায় ঐ পানি চাষের অনুপযোগী ছিল।কয়েকদিন  (গত সপ্তাহ) ধরে বৃষ্টি হওয়ায়  চাষাবাদের নিচু জমি ডুবে গেছে। ঢেমুশিয়া খালের ইজারাদাররা নিজেদের স্বার্থে সুবিধার জন্য অতিরিক্ত পানি বের না করার ফলে অতিকষ্টে চাষকরা ধান পানিতে ডুবে নষ্ট হতে চলেছে”। জনপদের সচেতন মানুষের দাবী,ফসলিজমি বেষ্টিত খালে   ইজারাদাররা লবনাক্ত পানি ঢুকিয়ে ইজারার শর্ত ভঙ্গ করেছে।কৃষকদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে মাননীয় সাংসদ  এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মহোদয় চকরিয়া, পানি বের করার তাত্ক্ষণিকভাবে ব্যবস্থা গ্রহণ করেন।কিন্তু প্রশাসনের মানুষ চলে যাবার  পর একটি সুইসগেইট খোলা রেখে বাকি সুইসগেইট বন্ধ করে রাখে। জনপ্রতিনিধি এবং এলাকার মানুষের ধারণা  অতিরিক্ত পানি বের না হলে উপকূলীয় ঢেমুশিয়া, পশ্চিম বড় ভেওলা এবং  কোনাখালী ইউনিয়নের কৃষকদের অপূরনীয় ক্ষতি হবে। তাই  চেয়ারম্যান বাবলা সাহেব  এলাকাবাসীর বৃহত্তর স্বার্থে একসাথে সব সুইসগেইট খোলা রেখে দ্রুত পানি বের করার জন্য প্রশাসনের সার্বক্ষণিক  নজরদারি রাখার দাবি জানান। ভুক্তভোগি ইউনিয়নের জনসাধারণ এবং  কৃষক তাদের ফসল  লবনাক্ততা এবং জলাবদ্ধতা থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য  মাননীয়  জেলাপ্রশাসক কক্সবাজার সহ সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষের জোরালো ভূমিকা আশা করছে।

আমাদের ভুলে গেলে চলবে না যে,”কৃষক বাচঁলে দেশ বাচঁবে”। প্রাকৃতিক দুর্যোগ দেশে  লেগেই আছে। জনসংখ্যার চাপ, অপরিকল্পিত নগরায়ন, যেখানে সেখানে স্থাপনা নির্মাণ, নদীভাঙ্গন ইত্যাদিতে কৃষিজমি কমে যাচ্ছে প্রতিদিন।স্বাধীনতার পর থেকে বর্তমান সময় কাল পর্যন্ত জমির পরিমাণ কমেছে ৩০ শতাংশ। কিন্তু মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কৃষিতে ভর্তুকি এবং কৃষকদের নানাবিধ সুযোগ দেয়ার ফলে উতপাদন ৪ গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। বঙ্গবন্ধু সরকারের কৃষক উন্নয়ন ভাবনায় সোনার বাংলা বিনির্মানে পথযাত্রা অনেক দুর এগিয়ে গেছে প্রধানমন্ত্রীর হাত ধরে।   তার মধ্যে গুটিকয়েক   লোভাতুর ইজারাদার অবাধে লবণ পানি ঢুকানোয় মাটির লবনাক্ততায় জমি  চাষের অনুপযোগী হয়ে পড়লে কৃষকগণ এলাকা ছেড়ে চলে যেতে বাধ্য হবে।পাশাপাশি খেয়াল রাখতে হবে যে,বৈশ্বিক উষ্ণতা ও সমুদ্র পৃষ্ঠের  উচ্চতা বৃদ্ধির ফলে জোয়ারের পানি অনুপ্রবেশ ঘটছে এবং ভূগর্ভস্থ পানিতেও লবনাক্ততা বৃদ্ধি পাচ্ছে।পরিকল্পিত ভাবে লবনাক্ত পানি ঢুকানোর ফলে আরও লবনাক্ততা বাড়ছে ।তাতে অত্র এলাকার অনেক জমি অনাবাদি রয়ে যাবে।  তাই এলাকাবাসী ঢেমুশিয়া খালের ইজারা চুক্তি  বাতিল করতে  প্রশাসনের কাছে আর্জি জানাচ্ছে।  ইজারাদাররা কৃষকের স্বার্থ দেখে না।খাল উম্মুক্ত রাখতে পারলে  ফসলি জমি ক্ষতিগ্রস্ত হবে না।সকল সুইসগেইট একসাথে খোলা হলে পানির স্রোতের সাথে লবনাক্ত পানি দ্রুত বেরিয়ে যাবে। সোডিয়াম ক্লোরাইড  মিশ্রিত পানি স্বাভাবিক ভাবে স্বাদু পানির চেয়ে কিছুটা ভারি হয়।তাই অল্প স্রোতে খালের তলানিতে জমে থাকা পানি বের হবার নয় । তাই সকল সুইসগেইট খোলা  রেখে  পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করতে সরাসরি জেলা প্রশাসকের হস্তক্ষেপ কামনা করছে সচেতন কৃষক এবং ইজারা না দেয়ার জন্য জেলা প্রশাসকের প্রতি আবেদন জানাচ্ছেন
ভুক্তভোগী জনসাধারণ।
জয় বাংলা।
———
লেখক -বদরুল ইসলাম বাদল
কলামিস্ট ও সমাজকর্মী
সদস্য, বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশন কেন্দ্রীয় কমিটি।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো ক্যাটাগরি