চকরিয়া সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ আ ক ম গিয়াস উদ্দিন স্যারের স্মরণে

বিবিসি একাত্তর বিবিসি একাত্তর

প্রকাশক বিবিসি একাত্তর

প্রকাশিত: ১:৪৫ পূর্বাহ্ণ, জুন ১৮, ২০২০

ঝিনুক জোবাইদা
আঠারোজুনকুড়িকুড়ি

১৯শে জুন ১৯৬০ ইংরেজিতে
আলহাজ্ব মাস্টার আজিজুর রহমান
আলহাজ্ব পারভীন আরা বেগম এর ঘরে জন্ম নেয়া শিশুটি চকরিয়া সরকারী কলেজ থেকে সাড়ে চৌত্রিশ বছরের শিক্ষকতা জীবন থেকে অবসরে যাচ্ছেন ১৮ জুন ২০২০ সালে। কি ভীষণ মিল! মাঝে কেটে গেলো বর্ণালি স্বর্নালি দিনগুলো।
আ ক ম গিয়াস উদ্দিন স্যার।
ইসলামের ইতিহাসও সংষ্কৃতি থেকে সর্বোচ্চ লেখাপড়া শেষ করেন, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়
থেকে।
প্রভাষক পদে ১০.৪.৮৬
অধ্যক্ষ পদে ২৩.১১.২০১১

বিনামার গ্রামে চকরিয়া পৌর এলাকা জন্ম নেয়া আ ক ম গিয়াস উদ্দিন, বেড়ে উঠেন চকরিয়ার মিষ্টি মধুর আলো হাওয়ায়। মাতামুহরীর জলে হয়ত সাঁতার কেটেছেন, হয়ত নিজেকে সাম্পান ভেবে ভাসিয়ে দিয়েছেন, স্বপ্ন দেখেছেন। স্বপ্ন দেখেছেন দেশ গড়ার।

চকরিয়া সরকারী হাই স্কুল থেকে এসএসসি পাশ করে, ভর্তি হন চট্টগ্রাম সরকারী মহসিন কলেজে। তারপর চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে। শাটল ট্রেনের কু ঝিক ঝিকে নিজের স্বপ্নগুলোকে বিনি সূতায় সেলাই করেছেন নিজের মনে। তখন দূরন্ত তরুণের স্বপ্ন যাত্রা। স্বৈরাচারী শাসকের বিরুদ্ধে রুখে উঠা।
তারপর ঘরে ফেরা।
ঘর মানে নিজের ভিটে বাড়ি নয়, নিজের সবার কাছে। স্বজনের কাছে। চকরিয়া কলেজের কাছে। প্রভাষক হিসেবে যোগ দেন
১০/০৪/৮৬ সালে।
পিছন ফেরার অভ্যাস ছিলো না কখনো। সামনের দিকে আলো ধরতেই হবে প্রত্যয়।
বিয়ে করেন প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষ মরহুম জনাব মরহুম শাহাব উদ্দিন স্যারের কন্যা
স্ত্রী সাফিয়া বেগম শম্পাকে।
(সাবেক ভারপ্রাপ্ত উপজেলা চেয়ারম্যান, চকরিয়া।)
২ ছেলে ১ মেয়ে
বড় ছেলে ঢাবি’র স্নাতকোত্তর
ছোট ছেলে এনএসইউ তে বিবিএ সম্মান পড়ছে।
মেয়ে এইচ এস সিসিটি পরীক্ষার্থী।

নিজের তিন ছেলেমেয়ের সাথে চকরিয়া কলেজকে তিনি নিজের সন্তানসম স্নেহ দিয়ে গেছেন, সাড়ে চৌত্রিশ বছর।এই সাড়ে চৌত্রিশ বছরে হাজার হাজার ছাত্রছাত্রী তাঁর হাত দিয়ে বেরিয়েছে। তারা সারা পৃথিবীর বিভিন্ন জায়গায় প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

আ ক ম গিয়াসউদ্দিন, আপাদমস্তক একজন শিক্ষক, যাঁর অন্তরালে বাস করে একটি কবি মনষ্ক মন। শিক্ষকতা জীবনে তাঁর প্রতিটি অনুষ্ঠানে, শ্রেনীকক্ষে এর প্রমাণ মেলে।

বর্ষার টিপটিপ কিংবা ঝুম বৃষ্টিতে ভিজছে, আজ চকরিয়া সরকারী কলেজ প্রাঙ্গন। প্রিয়জন হারানোর ব্যাথায় সে জরজর।
আকাশের চোখে কালোমেঘ। যিনি অবসরে যাচ্ছেন, তিনি বুঝতে পারছেন, বিচ্ছেদের তীব্র দহন। তবে তাঁর জন্য এই প্রাঙ্গন সবসময় উন্মূখ হয়ে থাকবে। এতোদিনের পরিচয়ে, প্রণয়ে, প্রীতিতে, মায়ায় গড়ে উঠা আঙ্গিনা তাঁরই ছোঁয়ার জন্য ক্ষণ গুনবে।
তারুণ্যের শপথে বলিয়ান হয়ে কাজে নেমেছিলেন।
সার্থকতার পদক কাঁধে নিয়ে আজ তিনি অন্যত্র যাচ্ছেন। আশা করি তাঁর সৌভাগ্যবান হাতের ছোঁয়ায় আবারো জেগে উঠবে আরো একটি স্বপ্নের আবাস।

অভিনন্দন আপনাকে
অভিনন্দন আপনাকে স্যার।
চকরিয়া কলেজকে নিয়ে আমার বড়োবেশী লিখতে ইচ্ছে করে। কেননা আমি চকরিয়া কলেজের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা মরহুম আলহাজ আব্বাস আহমদ চৌধুরী কন্যা। আমি বড়োবেশী ভালোবাসি এই বিল্ডিং কে, এই বিল্ডিং এর প্রতিটি ইটকে। এই ইটের গায়ে লিখা আছে আমার আব্বার সংক্ষিপ্ত নাম, “AAC”
১৯৬৮ সালে তিন মহান জনসেবকের সাথে যুক্ত হয়েছিলেন প্রিন্সিপাল শাহাবউদ্দিন স্যার।
এই চার জনের নাম স্মৃতির মাইল ফলকে লিখা রবে আজীবন।
তাঁরা হলেন ১.প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষ শাহাবুদ্দিন
২.মরহুম আলহাজ আব্বাস আহমদ চৌধুরী
৩. মরহুম আলহাজ আনোয়ার হোসেন চৌধুরী
৪.মরহুম আলহাজ রফিক আহমদ চৌধুরী
তাঁদেরকে শ্রদ্ধায়, সম্মানে স্মরণ করছি।

আ ক ম গিয়াস উদ্দিন স্যার আপনার পরবর্তী পদক্ষেপও সার্থক হোক। আপনার জন দরদী মন মিশে যাক দেশে, সমাজে, পরিবারে।
সবসময় অগ্রনী হোন। দীর্ঘায়ু হোন।
সালাম।

সংগ্রহেঃ এম, রিদুয়ানুল হক, সম্পাদক ও প্রকাশক- বিবিসি একাত্তর