চীনা পণ্য বয়কটে ১৭ বিলিয়ন ডলারের লোকসান হতে পারে ভারতের!

বিবিসি একাত্তর বিবিসি একাত্তর

প্রকাশক বিবিসি একাত্তর

প্রকাশিত: ৪:৩৩ অপরাহ্ণ, জুন ১৯, ২০২০

বিবিসি একাত্তর ডেস্ক

চীন থেকে আমদানি করা সমস্ত পণ্য বর্জন করার ডাক দেয়া হয়েছে ভারতে। তবে সেই আহ্বানে সাড়া দিয়ে সারা দেশে যদি চীনা পণ্য বয়কট করা হয় তবে বড়সড় ক্ষতির মুখ দেখবেন দেশটির ছোট থেকে বড় ব্যবসায়ীরা।

লাদাখে চীনা সেনাবাহিনীর সাথে সংঘর্ষে ভারতীয় সেনাবাহিনীর ২০ জন জওয়ানকে প্রাণ হারাতে হয়েছে। তাই ভারত জুড়ে দাবি উঠেছে, চীন থেকে কোনো পণ্য আমদানি করা যাবে না।

বছরজুড়ে ভারতে প্রায় ৭৪ বিলিয়ন ডলারের চীনা পণ্য আমদানি করা হয়। এবার ড্রাগনের দেশ থেকে আসা সেই পণ্যগুলোর বিক্রি নিষিদ্ধ করার জন্য ই-কমার্স সংস্থাগুলোকে নির্দেশ দেয়ার বিষয়ে কেন্দ্রের কাছে দরবার করলেন ভারতীয় ব্যবসায়ীরা।

চীন থেকে সারা বছর আমদানি করা জিনিসের মধ্যে খুচরা ব্যবসায়ীরা বিক্রি করেন প্রায় ১৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে মূল্যের পণ্য। তার মধ্যে বেশিরভাগই খেলনা, পারিবারিক নিত্যপ্রয়োজনীয় কাজে ব্যবহারযোগ্য জিনিস, বৈদ্যুতিক এবং ইলেকট্রনিক দ্রব্য এবং নানা রকমের প্রসাধনীও।

“আমরা ‘অল ইন্ডিয়া ব্যাপার মন্ডল’ ফেডারেশন, আমাদের সংস্থার সমস্ত সদস্যদের চীনা পণ্য মজুত করতে এবং বিক্রি করা থেকে পরবর্তী নির্দেশ না আসা পর্যন্ত বিরত থাকার পরামর্শ দিচ্ছি। আমরা সরকারকেও অনুরোধ করছি যাতে তারা ই-কমার্স সংস্থাগুলোকে চাইনিজ পণ্য বিক্রি নিষিদ্ধ করার আদেশ দেয়”, সংবাদসংস্থা পিটিআইকে বলেন ওই সংস্থার সাধারণ সম্পাদক ভি কে বনসল।

কনফেডারেশন অফ ওয়েস্ট বেঙ্গল ট্রেডার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি সুশীল পোদ্দারও জানান, তারা তাদের সংস্থার সমস্ত সদস্যদের যতটা সম্ভব চীনা পণ্যের বিক্রি বন্ধ করে দেয়ার অনুরোধ করেছেন। পাশাপাশি কনফেডারেশন অফ অল ইন্ডিয়া ট্রেডার্সের পক্ষ থেকে চীনা পণ্যের আমদানি বয়কটের ডাক দেয়া হয়েছে।

মোট তিন হাজার চীনা দ্রব্যের একটা তালিকা তৈরি করা হয়েছে, যেগুলি বর্জনের আহ্বান জানানো হয়েছে। একই সাথে দাবি করা হয়েছে, আগামী বছরের মধ্যে আমদানি ১৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার কমানোর জন্যে। একই সাথে বলিউড অভিনেতা অমিতাভ বচ্চন, অক্ষয় কুমার এবং ক্রিকেটার মহেন্দ্র সিং ধোনি এবং শচীন টেন্ডুলকারকে অনুরোধ করা হয়েছে কোনো রকম চীনা সামগ্রীর বিজ্ঞাপনে কাজ না করতে।