কবি রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহর ২৯তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ

বিবিসি একাত্তর বিবিসি একাত্তর

প্রকাশক বিবিসি একাত্তর

প্রকাশিত: ৪:১৩ অপরাহ্ণ, জুন ২১, ২০২০

রাসেল শেখ মোংলা প্রতিনিধিঃ

আজ ২১ জুন তারুণ্য ও সংগ্রামের দীপ্ত প্রতীক কবি রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহর ২৯তম মৃত্যুবার্ষিকী। প্রতি বছর দিন টি ঘটা করে পালন করা হলেও এবার মৃত্যুবার্ষিকী পালনে ভিন্নতা এনে দিয়েছে করোনার ভায়াবহ ছোবল। দিনটি উপলক্ষে রুদ্র স্মৃতি সংসদ মোংলায় মিঠাখালীতে সীমিত পরিসরে সরকারি নির্দেশনা মোতাবেক স্বাস্থ্যবিধি মেনে পালিত হবে দিনটি। মৃত্যুবার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায়

রুদ্র স্মৃতি সংসদের পরিবারের পক্ষ থেকে এক জরুরি সভায়, সকালে কুরআন খতম, কবির মাজার জিয়ারত, কবির সমাধীতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ এবং বিকেলে দোয়া মাহাফিলের আয়োজনের সিন্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। এবং কবি রুদ্র মোহম্মদ শহিদুলাহর ২৯তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে ২১ জুন রাত ৯টায় আমেরিকা থেকে  “প্রবাস দর্পনের সম্পাদক, রুপচাঁদ দাশ রুপকের সঞ্চলনায় স্মরণাঅনুষ্ঠান হবে ‘ভালো আছি ভালো থেকো’।

অনুষ্ঠানে যুক্ত থাকবেন নাট্যকার নাট্য অভিনেতা মামুনুর রশিদ (ঢাকা), গণসঙ্গীত শিল্পী ফকির আলমগীর (ঢাকা), কথা সাহিত্যিক ইসহাখ খান, মোংলা সস্মিলিত সাস্কৃতিক জোটের আহব্বায়ক নূর আলম শেখ, রুদ্র স্মৃতি সংসদের সভাপতি সুমেল সারাফত, এবং অভীনেত্রী সুমনা সোমা (ঢাকা)।

তারুণ্য ও সংগ্রামের দীপ্ত প্রতীক কবি রুদ্র মুহম্মদ শহিদুলাহ (১৯৫৬-১৯৯১) তার শিল্পমগ্ন প্রতিটি উচ্চারণে তুলে ধরেছেন মাটি ও মানুষের প্রতি আমূল দায়বদ্ধতা। আর যা তাকে দিয়েছে আধুনিক বাংলার অন্যতম কবির স্বীকৃতি।

অকাল প্রয়াত এই কবি তার কাব্যযাত্রায় যুগপৎ ধারণ করেছেন দ্রোহ ও প্রেম, স্বপ্ন ও সংগ্রাম। নিজেকে মিলিয়ে নিয়েছিলেন আপামর নির্যাতিত মানুষের আত্মার সঙ্গে; হয়ে উঠেছিলেন তাদেরই কন্ঠস্বর। ‘জাতির পতাকা আজ খামচে ধরেছে সেই পুরোনো শকুন’-এই নির্মম সত্য অবলোকনের পাশাপাশি ততোধিক স্পর্ধায় তিনি উচ্চারণ করেছেন-‘ভুল মানুষের কাছে নতজানু নই’।

যাবতীয় অসাম্য, শোষণ ও ধর্মান্ধতার বিরুদ্ধে অনমনীয় অবস্থান কবিকে পরিণত করেছে ‘তারুণ্যের দীপ্ত প্রতীক’-এ। একই সঙ্গে তার কাব্যের আরেক প্রান্তর জুড়ে রয়েছে স্বপ্ন, প্রেম ও সুন্দরের মগ্নতা। মাত্র ৩৪ বছরের স্বল্পায়ূ জীবনে তিনি সাতটি কাব্যগ্রন্থ ছাড়াও গল্প, কাব্যনাট্য এবং ‘ভালো আছি ভালো থেকো’ সহ অর্ধ শতাধিক গান রচনা ও সুরারোপ করেছেন। ১৯৯১ সালের ২১ জুন প্রতিবাদী কবি রুদ্র মাত্র ৩৪ টি বসন্ত ছুঁয়ে লক্ষ কবি প্রেমিদের কাঁদিয়ে পাড়ি জমান না ফেরার দেশে।