ক‌রোনায় বিপর্যস্ত মানু‌ষের জীবনযাত্রা ও অর্থনী‌তি

বিবিসি একাত্তর বিবিসি একাত্তর

প্রকাশক বিবিসি একাত্তর

প্রকাশিত: ৬:২৬ অপরাহ্ণ, জুন ২৫, ২০২০

ক‌রোনা প‌রি‌স্থি‌তে সমগ্র বিশ্ব স্থবির হ‌য়ে আ‌ছে। বিশ্ব অবস্থান কর‌ছে এক সঙ্কটময় অবস্থায়। শুধুই সঙ্কট নয় ম‌নে হ‌চ্ছে পৃ‌থিবী তার সভ্যতার অ‌স্তিত্ব হারা‌তে ব‌সে‌ছে। এ যেন এক বিভী‌ষিকাময় প‌রি‌স্থি‌তি। চার‌দি‌কে আতঙ্ক বিরাজ কর‌ছে। তবুও থে‌মে নেই মানু‌ষের জীবনযাত্রা। প্রতি‌নিয়তই মানুষ‌কে সঙ্কটের এ মুহূ‌র্তে নি‌জের জীবন‌কে বা‌জি রে‌খে জী‌বিকার তা‌গি‌দে ছু‌টে চল‌ছে। এক বেলা খাবা‌রের নিশ্চয়তা যা‌দের আ‌ছে আবার যা‌দের নেই উভ‌য়ের কা‌ছে একই কথা। যেখা‌নে মৌ‌লিক চা‌হিদার এক‌টিরই নিশ্চয়তা নেই এ ভঙ্গুর অর্থ‌নৈ‌তিক ব্যবস্থায় সেখা‌নে বাকি চা‌হিদাগু‌লোর কী ক‌রে আশা কর‌ছে মানুষ?

‌ক্রিয়া প্রতি‌ক্রিয়ার খেলাটা বড় অদ্ভূত। হয়‌তো খুব সহ‌জে মে‌নে নেয়া যায় না। ত‌বে অনুসন্ধান কর‌লে দেখা যাবে এটা যেন এক রূঢ় ব‌স্তবতা। কারণ আমরা প্র‌ত্যে‌কে জে‌নে হোক না জে‌নে হোক আত্মঘাতী অ‌নেক কিছুই কর‌ছি প্র‌তি‌নিয়ত। তার ম‌ধ্যে অ‌নে‌কে ভে‌বে চি‌ন্তে ক‌রে, অ‌নে‌কে সাম‌নে যখন যা সহ‌জে পায় তাই করে। অথচ সব‌কিছু যাচাই করা হয় তার ফল অনুযায়ী। গোলাপ ফুল গাছ যতই সুন্দর হোক তা‌তে ফুল না ধর‌লে তার সে সৌন্দ‌র্যের কো‌নো মূল্য নেই। কারণ তার সৌন্দ‌র্যের ব‌হিঃপ্রকাশ ঘ‌টে ফুলের দ্বারা। মাই‌ক্রোবা‌লো‌জি আজ কতটা হুম‌কিজনক তা আজ‌কের ‘ক‌রোনা’ই প্রমাণ ক‌রে দি‌চ্ছে। ক‌থিত উন্নত গ‌বেষণার ফলাফল এ‌টি।

মাই‌ক্রোবাই‌লো‌জির উন্নয়‌নে পৃ‌থিবী যখন দা‌বি কর‌ছে যে পৃ‌থিবী এখন এক নতুন দিগ‌ন্তে পৌঁ‌ছে‌ছে। অথচ সে পৃ‌থিবী‌ এখন মাই‌ক্রোর করাল গ্রা‌সে ধ্বংস হবার প‌থে। ‘ক‌রোনা’ মাইক্রোবাই‌লো‌জিরই তৈ‌রি। যা এখন অচল ক‌রে ফে‌লে‌ছে পু‌রো পৃ‌থিবী‌কে। এর অন্যতম কারণ হ‌লো এসব বা‌য়োল‌জিস্ট নি‌জে‌দের‌কে এখন বি‌ক্রি ক‌রে দি‌য়ে‌ছে পুঁজির কা‌ছে। কারণ প্রাকৃ‌তিক বিপর্যয়গু‌লো খুব সহ‌জে আমা‌দের নিয়ন্ত্রণে চ‌লে আসে না তার পাশাপা‌শি সমাধান নির্ণয় করাও খুব সময় সা‌পেক্ষ হয়। বিশ্ব এখন অর্থ‌নৈ‌তিক উন্নয়‌নের জোয়া‌রে ভে‌সে চল‌ছে তেম‌নি ক‌থিত জ্ঞা‌নের জগতটাও আজ অর্থের কা‌ছে বি‌ক্রি হ‌য়ে গে‌ছে। তাই গ‌বেষকরা যার বি‌নিম‌য়ে বি‌ত্তের বন্যা বহা‌নো যায় তাই কর‌তে প্রস্তুত। তাই‌ তো স্পে‌নের গ‌বেষক অর্থ‌কে পার্থক্যের মানদণ্ড হি‌সে‌বে ধ‌রে‌ছেন।

‘ক‌রোনা’ প্রতি‌রো‌ধের যেসব ব্যবস্থা এ পর্যন্ত গ্রহণ করা হ‌য়ে‌ছে। সবই কো‌নো না কোনো বহুজা‌তিক পণ্য কোম্পা‌নির সহায়তা ছাড়া করা সম্ভব হ‌চ্ছে না। এসব কোম্পা‌নি অর্থ‌কে পুঁজি‌তে রূপান্তর ছাড়া কো‌নো‌কিছুই ভাব‌তে পা‌রে না। তা‌দের কা‌ছে পুঁজিই জীবন পুঁজিই মরণ। আর তারা গ‌ড়ে উঠেছে পুঁ‌জিবাদী শিক্ষা‌কে কেন্দ্র ক‌রে। যেখা‌নে নেই কো‌নো মনুষ্যত্ব। আ‌ছে শুধু ভোগ আর ভোগ। অথচ এ শিক্ষা‌কে আজ ভাবা হ‌চ্ছে মু‌ক্তির এক মাত্র ও কেবলমাত্র পথ ভাব‌ছে এ নীল গ্রহে বসবাসকারী মানুষগু‌লো। মনুষ‌্যত্বের শিক্ষার জন্য প্র‌য়োজন নেই কো‌নো সি‌লেবাস, প্রতিষ্ঠান কিংবা নির্ধা‌রিত পাঠ্যপুস্তক। প্রয়োজন শুধু স‌দিচ্ছা আর নি‌জে‌কে প্রকৃত মানুষ হি‌সে‌বে গ‌ড়ে তোলার মন মান‌সিকতা।

ভাইরা‌সের উৎপ‌ত্তি যতটা অত‌ঙ্কিত ক‌রে‌ছে তার চে‌য়ে বে‌শি বা‌ণি‌জ্যিক কোম্পা‌নির অর্থ‌নৈ‌তিক ভয়ানক থাবা আতঙ্ক ক‌রে‌ছে বিশ্ববাস‌ি‌কে। প‌ণ্যের চা‌হিদা ও উৎপাদ‌নের দোহাই দি‌য়ে হা‌তি‌য়ে নি‌চ্ছে কো‌টি কো‌টি টাকা। কেউই এ বিপ‌দে কা‌রো পা‌শে নেই শুধু আ‌ছে ‌নি‌জে‌কে রক্ষা করার বাসনায় ব্যস্ত। অথচ এ ভাইরা‌সের থাবা থে‌কে কেউই মুক্ত নয়। এ‌টি‌কি পুঁ‌জিবা‌জের অর্থকে উলট পালট করার নতুন কো‌নো খেলা নয়‌তো? য‌দি তাই হয় ত‌বে জীবন রক্ষা আমা‌দের জন্য খুবই হুম‌কিস্বরূপ। তাই শুধু ‘ক‌রোনা’ নয় পৃ‌থিবীর সা‌র্বিক প‌রি‌স্থি‌তি নি‌য়ে ভাবার এখনই উৎকৃষ্ট সময়। ভ‌বিষ্যত্যের অস্তিত্ব বহুদূর বর্তমা‌নের সমস্যা সমাধা‌নের চেষ্টা করাই এখন আমা‌দের কর্তব্য।

‘ক‌রোনা’র চে‌য়ে অদৃশ্য অসংখ্য ভাইরাস আমা‌দের ঘি‌রে রে‌খে‌ছে। হতাশা, ক্রোধ, অনাস্থা, অ‌বিশ্বাস, হিংসা, দ্বন্দ্ব উৎপন্ন করার মন মান‌সিকতার ম‌তো বহু ভাইরাস বিদ্যমান র‌য়ে‌ছে আমা‌দের মা‌ঝে। যার উৎপন্ন উৎস হ‌লো অ‌নিয়‌ন্ত্রিত তথ্য-প্রযু‌ক্তি ও শিক্ষার না‌মে সা‌র্টি‌ফি‌কেট প্রদান। আইন দ্বারা কা‌লে কা‌লে মানুষ‌কে খুব কমই নিয়ন্ত্রণ করা গে‌ছে। মানুষ‌কে সফলভা‌বে নিয়ন্ত্রণ কর‌তে সক্ষম হ‌য়ে‌ছে গঠনমূলক জ্ঞান ও তার সুষ্ঠু চর্চা। যখনই এখা‌নে অভাব উৎপন্ন হ‌য়ে‌ছে তখনই পৃ‌থিবী প‌তিত হ‌য়ে‌ছে ধ্বং‌সের মু‌খে। নে‌মে এ‌সে‌ছে মানু‌ষের জীব‌নে অনিশ্চয়তা, নিরাপত্তাহীনতা, অশা‌ন্তির ম‌তো ভয়াবহ ভাইরাস। যা‌কে পুনরায় নিয়ন্ত্রণ কর‌তে জীবনবা‌জি রে‌খে এ‌গি‌য়ে এ‌সে‌ছেন বহু মহৎ হৃদ‌য়ের জ্ঞানবান মানুষ। এখনই সিদ্ধান্ত নেবার সময় জ্ঞান না ভোগ হ‌বে জীব‌নের পা‌থেয়? ক‌রোনার করাল গ্রা‌সে আজ বিপদগ্রস্ত হ‌য়ে প‌ড়ে‌ছে সভ্যতা।

আধু‌নিক সমা‌জের মানুষগু‌লোর চেনা এক চ‌রিত্র হ‌লো যখন সে যা চাই‌বে তা পাওয়ার উদগ্রীব হ‌য়ে প‌ড়ে। সে এক‌টি মুহূ‌র্তের জন্য এর ভালো-মন্দ ‌দিকগু‌লো যাচাই না ক‌রে পদ‌ক্ষেপ নেয়া শুরু ক‌রে। অপর আ‌রেক শ্রে‌ণির লোক আ‌ছে যারা খুব বে‌শি ভাবুক। তারা ভাবে‌তে এমন এক জায়গায় পৌঁছায় যেখা‌নে কো‌নো মীমাংসা নেই। অথচ তা‌দের মাথায় এটা খে‌লে না জীবন হ‌লো এক ভারসাম্যপূর্ণ ব্যবস্থা। যার হিসা‌বে চুল প‌রিমাণ এদিক সে‌দিক হ‌লে বিপর্যয় সৃ‌ষ্টি হওয়া অনিবার্য। একেবা‌রে ভাবনা ছাড়া কাজ করাটা যেমন অনু‌চিত তেম‌নি অতি‌রিক্ত ভে‌বে অল‌সের মত জীবনযাপন করাটা অনু‌চিত। ‘ক‌রোনা’ নয় শুধু এর চে‌য়ে উন্নত ভাইরাসও মুহূর্তে মনুষ্যত্বের কা‌ছে হার মান‌তে বাধ্য। মনুষ‌্যত্বের শিক্ষাই পা‌রে ‘ক‌রোনা’র ম‌তো ভয়াবহ ভাইরাস‌কে নির্মূল কর‌তে। ক‌রোনার এ সঙ্কটকালীন মুহূ‌র্তে মানব জীবন বিপর্যস্ত। সাম‌নে হাতছা‌নি দি‌য়ে দাঁড়ি‌য়ে আছে নতুনত্ব।