পার্লামেন্টে নোটিশ দেব এবং হামলাকরীদের নাম উল্লেখ করব

নেত্রকোনার পূর্বধলায় তেলের পাম্পে জ্বালানি নিতে গিয়ে হামলার শিকার হয়েছেন নেত্রকোনা-৫ (পূর্বধলা) আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) মাছুম মোস্তাফা । এ সময় তার গাড়িতে দুর্বৃত্তরা হামলা চালিয়ে ভাঙচুরের পর কিছুক্ষণ অবরুদ্ধ করে রাখে বলে জানা গেছে।

শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) সন্ধ্যায় উপজেলার শ্যামগঞ্জ-বিরিশিরি সড়কের গিরিপথ ফিলিং স্টেশনে এ ঘটনা ঘটে।

হামলার প্রতিবাদে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন মাছুম মোস্তাফা। তিনি বলেন, `একজন পার্লামেন্ট সদস্যের কি মর্যাদা তারা যদি জানত, তাহলে এভাবে আক্রমণ করত না। পার্লামেন্ট সদস্যের অধিকার ক্ষুন্ন হয়েছে। আগামী সংসদে আমি এই ঘটনার বিষয়ে স্পিকার, প্রধানমন্ত্রী ও সরকারি দলের দৃষ্টি আকর্ষণ করে নোটিশ দেব। এই সন্ত্রাসীদের নাম সেখানে উল্লেখ করব, ইনশাল্লাহ।‘

তিনি অভিযোগ করে বলেন, `বিএনপির সন্ত্রাসী বাহিনী সম্পূর্ণ পরিকল্পিতভাবে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিকে হত্যা করার উদ্দেশে আক্রমণ চালায়। আমরা আতকাপাড়া পাম্পে নামাজের বিরতি দিই। গাড়ি রেখে পাম্পে নামাজরত ছিলাম। আমরা তখন মসজিদে মাগরিবের নামাজ পড়তেছি। এই সময় পূর্বধলা থেকে গিয়ে বিএনপির সন্ত্রাসী বাহিনী আমাদের গাড়ির ওপর আক্রমণ করে। এবং আমাকে হত্যা করার জন্য তারা চেষ্টা চালায় দেশীয় অস্ত্র নিয়ে। তারা মসজিদের দরজা ভাঙার জন্য অনেক চেষ্টা চালায়। কিন্তু মুসল্লিদের কারণে সেটা তাদের পক্ষে সম্ভব হয়নি। মসজিদের মুসল্লিরা দরজা বন্ধ করে দিয়ে আমাকে বাঁচানোর চেষ্টা করেন। আমি তখন মসজিদের ভেতর থেকে এসপি সাহেবকে ফোন দিই এবং ৯৯৯-এ ফোন দিই। পুলিশের সহযোগিতায় আমাকে সেখান থেকে উদ্ধার করা হয়। সেখানে আমার যে ভাইয়েরা ছিলেন তাদের উপরেও তারা আক্রমণ করেছে।‘

অভিযোগ করে তিনি আরও বলেন, `গতকালকে আপনারা দেখেছেন, পরিবেশ নষ্ট করার জন্য তারা লাঠিসোঁটা নিয়ে উত্তেজনাকর স্লোগান দিয়ে বাজারে মিছিল করে। `ধর ধর শিবির ধর, ধরে ধরে জবাই কর‘। `জামাত শিবিরের আস্তানা পূর্বধলায় হবে না‘। এই ধরনের মিছিল তারা সেখানে করেছে। গতকালকেই তারা এই ধরনের মব সৃষ্টি করার চেষ্টা করেছে।‘

তিনি বলেন, `আমরা সব সময় বিএনপি নেতৃবৃন্দের সঙ্গে যোগাযোগ করেছি। আবু তাহের তালুকদারসহ বিভিন্ন নেতৃবৃন্দের সঙ্গে আমরা যোগাযোগ করেছি শান্তিপূর্ণ পরিবেশ পূর্বধলায় বিরাজ করার জন্য। যাতে করে কোনো ধরনের সাংঘর্ষিক পরিবেশ সৃষ্টি না হয়। কিন্তু আমরা এত যোগাযোগের পরেও ওনারা সেই ধরনের পরিবেশ সৃষ্টি না করে, পরিকল্পিতভাবে আজকে আমার ওপরে নিন্দাজনক হামলা চালান। আমরা এই হামলার তীব্র নিন্দা জানাই। এটা কোনো গণতান্ত্রিক আচরণ নয়। এটা সন্ত্রাসী আচরণ। সন্ত্রাস আর গণতন্ত্র একসঙ্গে চলতে পারে না।‘

জামায়াত দলীয় সূত্রে জানা গেছে, নেত্রকোণার পূর্বধলায় শুক্রবার সন্ধ্যায় এমপি মাছুম মোস্তাফা গিরিপথ ফিলিং স্টেশনে একটি ব্যক্তিগত গাড়ি নিয়ে যান। তখন পাম্পের মালিকের সঙ্গে কথা বলে সেখানে একটি কক্ষে নামাজ পড়তে যান। এর কিছুক্ষণ পর ১৫টির মতো মোটরসাইকেলে ২০ থেকে ২৫ জন যুবক পাম্পে এসে মোটরসাইকেলে তেল নিতে চান। এ সময় তারা সেখানে হট্টগোল সৃষ্টি করেন। একপর্যায়ে তারা মাছুম মোস্তফার গাড়িটি ভাঙচুর করেন। মাছুম মোস্তফা নামাজ শেষ করে ঘর থেকে বের হলে বিক্ষুব্ধ যুবকরা তাকে ধাওয়া করে সেখানে অবরুদ্ধ করে রাখেন।

খবর পেয়ে ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তাসনীন জাহান ও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা দিদারুল ইসলাম ঘটনাস্থলে গিয়ে মাছুম মোস্তফাকে উদ্ধার করেন।

হামলার অভিযোগের বিষয়ে পূর্বধলা উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আবু তাহের তালুকদার সাংবাদিকদের বলেন, `বিএনপির কোনো লোকজন এমপির গাড়িতে হামলা করেনি। এমপির গাড়ি নিয়ে তার লোকজন পাম্পে তেল নিতে গিয়েছিল। পাম্প বন্ধ থাকায় পাম্পের লোকজনের সঙ্গে কথা কাটাকাটির ঘটনা ঘটে। আমাদের লোকজনের বিরুদ্ধে মিথ্যে অভিযোগ করা হয়েছে।‘

পূর্বধলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দিদারুল ইসলাম বলেন, পেট্রোল পাম্প থেকে তেল নিতে গেলে কিছুলোক এমপির গাড়িতে হামলা করেছে। এলাকার পরিস্থিতি শান্ত। এ বিষয়ে কেউ এখনো লিখিত অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে আমরা আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করব।