কক্সবাজার জেলার পেকুয়া উপজেলার টইটং ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হচ্ছেন এডভোকেট মোহাম্মদ এনামুল হক। আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের এ আইনজীবী টইটং ইউনিয়ন থেকে সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে ভোট করবেন এমন আভাস পাওয়া গেছে। সব ঠিক থাকলে আগামী নির্বাচনে বাংলাদেশের সবোর্চ্চ আদালত মহামান্য বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের এ চৌকস ও মেধাবী আইনজীবী টইটং ইউনিয়ন থেকে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। সেই সাথে সন্ত্রাস, মাদক মুক্ত – উন্নয়ন ও শিক্ষা বান্ধব টইটং গড়তে তিনি সর্বস্তরের টইটং ইউনিয়নবাসীকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহবানও করেছেন। এব্যাপারে এডভোকেট মোহাম্মদ এনামুল হক বলেন আসুন আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধ হই। কাজ করি একসাথে, গড়ে তুলি এ টইটং ইউনিয়নকে।
এদিকে এডভোকেট মোহাম্মদ এনামুল হক প্রার্থী হচ্ছেন এ খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়েছে। ইতিমধ্যে তার পক্ষে স্হানীয়রা প্রচার-প্রচারণা চালাচ্ছেন। প্রার্থী হিসাবে এনামুল হকের পোস্টার ও ব্যানার সাঁটাই করা হয়েছে টইটংয়ের সর্বত্র। গেল ঈদুল ফিতরের শুভেচ্ছা পোস্টার টইটংয়ের অলিগলিতে ছেয়ে গেছে। ব্যানারে টইটং এর সর্বস্তরের জনগণের পক্ষে তাকে টইটং ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হিসেবে দেখতে চেয়েছে। এতে করে সীমান্তবর্তী টইটং ইউনিয়নে এ আইনজীবীকে নিয়ে প্রাণচাঞ্চল্য ও উচ্ছ্বাস পরিলক্ষিত করা গেছে মানুষের মাঝে। উদ্দীপনা দেখা গেছে ভোটারদের মধ্যেও। স্হানীয় লোকজন বলেছেন, আমরা চাই টইটংয়ের পরিবর্তন। উন্নয়ন ও পরিবর্তনের জন্য সর্ঠিক নেতৃত্বের প্রয়োজন। এডভোকেট এনামুল হক সবোর্চ্চ শিক্ষিত। টইটং এর মানুষ তাকে নিয়ে এগুতে চান।
মুলত টইটংকে নিয়ে অনেক আগে থেকেই এনামুল হকের পরিকল্পনা। অবহেলিত জনগোষ্ঠীর ভাগ্যন্নোয়ন ও পরিবর্তনের স্বপ্ন ছিল তার। এসবের বাস্তব প্রতিফলন ঘটাতে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে কাজ করছেন এই মেধাবী আইনজীবী। পড়ালেখা ও পেশাগত কারণে এলাকার বাহিরে থাকলেও কখনো এলাকা থেকে বিচ্ছিন্ন ছিলেন না। তার দৃষ্টি ছিল এলাকাকে ঘিরে।
টইটংয়ের মাটি ও মানুষের সাথে ছিল তার নিবিড় সম্পর্ক। দুঃখ-দুর্দশায় খোঁজ খবর নিতেন সবসময়। এমনকি এগিয়ে এসেছেন মানুষের কঠিন সময়ে। নিগৃহীত ও সমাজের পিছিয়ে পড়া মানুষগুলো যে সময় গেছেন তাকে পেয়েছে। শোষিত ও নিষ্পেষিত মানুষগুলোর প্রতিও এনামুল হক অত্যন্ত উদার। যেখানে শোষন বঞ্চনা সেখানে থেমে যাননি তিনি। করেছেন আইনী সহায়তা। তিনি অবসান দেখতে চান সমাজ থেকে অনাচার, অবিচার, জুলুম এবং নিপীড়নের।
এনামুল হক সবোর্চ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত। টইটংকে গড়ে তুলতে কাজ করছেন আগে থেকেই। শিক্ষা বিস্তার ও এর প্রসারে তার প্রশংসনীয় আছে অবদান। অন্ধকারে আলোর প্রদীপ জ্বালিয়ে দিয়েছেন। শিক্ষায় একসময় পিছিয়ে ছিল টইটং। এ নিয়ে গভীর চিন্তা ছিল। কিভাবে শিক্ষা ক্ষেত্রে নিজ জন্মভুমি টইটংকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হয় সে বাসনায় থাকতেন। এক্ষেত্রে সাধনাও কম করেননি। শিক্ষা বিস্তারে এ টইটংয়ে এনামুল হকের অবদানের কথা মানুষ অকপটে স্বীকারও করেছেন।
এডভোকেট এনামুল হকের বাড়ি টইটং ইউনিয়নের বটতলী হাজী ইউসুফ আলী সিকদার (ওয়াজ খাতুন পাড়ায়)। তার বাবার নাম মোহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম। পিতাও একজন সমাজ সেবক ছিলেন। বাবাও মানুষের কাছে পরিচিত জন। ৪ ভাই ৫ বোনের মধ্যে এনামুল হক সিরাজুল হকের ৫ম সন্তান। তার শৈশব কেটেছে টইটংয়ে। ৮ম শ্রেণি পর্যন্ত পড়েন টইটং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও টইটং উচ্চ বিদ্যালয়ে। মাধ্যমিক স্তরেই পড়াশোনা চট্টগ্রাম শহরে। তিনি ১৯৮৮ সালে চট্টগ্রাম আগ্রাবাদ সরকারী কলোনী উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি ও বিএএফ (বাংলাদেশ বিমান বাহিনী) শাহীন কলেজ চট্টগ্রাম থেকে ১৯৯০ সালে এইচএসসি পাশ করেন। এছাড়া চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৯৩ সনে বিএসএস (অনার্স) ও ১৯৯৪ সনে এমএসএস (অর্থনীতি) মাস্টার্স শেষ করেন এনামুল হক। ২০০৮ সালে ঢাকা সেন্ট্রাল ল’ কলেজ থেকে এলএলবি ও ২০১১ সাল দারুল এহসান ইউনিভার্সিটি থেকে এলএলএম পাশ করেন। অতঃপর ২০১২ সালে এডভোকেটশীপ অর্জন করে সেই সময় থেকে আইন পেশায় যুক্ত হন। ২০১৭ সাল থেকে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টে আইনজীবী হিসাবে কর্মরত আছেন এডভোকেট মোহাম্মদ এনামুল হক।
তিনি ২০০২ সালে চট্টগ্রাম মহানগরীর চান্দগাও আবাসিক এলাকায় সিটি মডেল স্কুল এন্ড কলেজ প্রতিষ্ঠা করে দীর্ঘদিন অধ্যক্ষ পদে দায়িত্ব পালন করেন। ২০০৩ সনে প্রতিষ্ঠিত টইটং ইক্করা স্কুল এন্ড কলেজের তিনি একজন প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক সাধারন সম্পাদক। এনামুল হক সেখানে বর্তমানে ভাইস চেয়ারম্যান পদে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্টস্থ সমিতি বন্ধন ২০০৫ এর প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি, কর্ণফুলী সমিতি ঢাকার প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি, বৃহত্তর চট্টগ্রাম কল্যাণ সমিতি ঢাকার আইন সম্পাদক এবং জিয়া মঞ্চ ঢাকা বার ইউনিটের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন। বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্ট কল্যাণ ট্রাস্টের তিনি নির্বাচিত কোষাধ্যক্ষ ছিলেন। এ ছাড়াও গােসাইলডাঙ্গা সমাজসেবা পরিষদ, গােসাইল ডাঙ্গা যুবক গোষ্ঠি, গোসাইলডাঙ্গা ইসলামী পাঠাগার, গোসাইলডাঙ্গা রেনেসাঁ গোষ্ঠী, আগ্রাবাদ ফ্রেন্ডস সোসাইটি প্রতিষ্ঠাসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি চট্টগ্রামস্থ চকরিয়া ছাত্র কল্যান সংস্থার সভাপতি ছিলেন। চট্টগ্রামস্থ পেকুয়া সমিতি, ঢাকাস্থ কক্সবাজার সমিতি, ঢাকাস্থ চকরিয়া – পেকুয়া সমিতি এবং বৃহত্তর চট্টগ্রাম আইনজীবী কল্যাণ সমিতি – ঢাকার আজীবন সদস্যও তিনি। বিএনসিসি সেনা শাখা চট্টগ্রাম কলেজের সবোর্চ্চ পদে ছিলেন। ১৯৯৪ সালে বার্ষিক সামরিক মহড়ায় কর্ণফুলী রেজিমেন্ট থেকে অংশগ্রহণ করে আরএসএম- এর দায়িত্ব পালন করেন। তিনি ১৯৯৩- ৯৫ সালে সেখানে সার্জেন্ট ইন চার্জ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। বর্তমানে তিনি বাংলাদেশ এক্স ক্যাডেট এসোশিয়েশন (BECA) জাতীয় নির্বাহী পরিষদ ঢাকার সাংগঠনিক সচিব। টইটং উন্নয়ন সংগ্রাম পরিষদের তিনি প্রতিষ্ঠাতা সাধারন সম্পাদক ও সভাপতি ছিলেন। বর্তমানে তিনি টইটং চাকরিজীবি কল্যান পরিষদের সভাপতি, বটতলী বায়তুল মামুর জামে মসজিদ পরিচালনা কমিটির সভাপতি, চিটাগং এক্স শাহীন এসোশিয়েশন (CESA)’র সভাপতি, ২৬ তম ব্যাচ চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের যুগ্ম সাধারন সম্পাদক, লইয়ার্স রিক্রিয়েশন ক্লাব ঢাকার যুগ্ম সাধারন সম্পাদক এবং চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন অর্থনীতি ছাত্র সমিতির আইন বিষয়ক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম, সুপ্রিম কোর্ট বার ইউনিটের একজন সক্রিয় সদস্য বটে। বাংলাদেশ তথ্য ও মানবাধিকার ফাউন্ডেশনের আইন উপদেষ্টা, বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড ফোরামের আহবায়ক, আগ্রাবাদ সরকারি কলোনী উচ্চ বিদ্যালয় ৮৮ পরিষদের সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক এবং সারা বাংলা ৮৮ ঢাকা ও চট্টগ্রাম জেলার যুগ্ম সমন্বয়ক এনামুল হক সবোর্চ্চ শিক্ষিত। তাদের পুরো পরিবারই প্রতিষ্ঠিত। দুই ভাই সরকারি চাকুরীজীবি। বোনদের মধ্যেও একজন সরকারী চাকুরীজীবি। স্ত্রী ইয়াসমিন সুলতানা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিক। তাদের ২ মেয়ে ১ ছেলে। তারা বিশ্ববিদ্যালয় ও স্কুলের শিক্ষার্থী।