• মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬, ০৫:৩৬ অপরাহ্ন
Headline
মারা গেছেন চকরিয়ার মাতামুহুরী সাংগঠনিক উপজেলা জাতীয় পার্টির সাবেক সভাপতি টিপু সুলতান সংরক্ষিত নারী আসনে ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের মনোনয়নপত্র জমা আবাসিক মেডিকেল অফিসার হিসেবে পদোন্নতি পেলেন ডা. মিসকাত আইন অমান্য করে পরীক্ষার হলে এমপি, করলেন ফেসবুক লাইভও পড়েছে মানবিকে কিন্তু প্রবেশপত্রে বাণিজ্য! মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছে সন্ধি উন্নয়ন ও ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠা করতে টইটংয়ে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হচ্ছেন আইনজীবী এনামুল হক সিংড়ায় হাম-রুবেলা টিকাদান কর্মসূচির উদ্বোধন বাবাও এমপি, শ্বশুরও এমপি! ভাগ্যক্রমে নিপুণ রায় চৌধুরীও এমপি মনোনীত! কক্সবাজার থেকে সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়ন পেলেন এড. শামীম আরা স্বপ্না! সংরক্ষিত নারী আসনে ৩৬ প্রার্থীকে মনোনীত করেছে বিএনপি!

পড়েছে মানবিকে কিন্তু প্রবেশপত্রে বাণিজ্য! মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছে সন্ধি

নিজস্ব প্রতিনিধি / ৩৫ Time View
Update : মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল, ২০২৬

কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে এসএসসি পরীক্ষার মাত্র এক দিন আগে চরম বিপাকে পড়েছেন মোছা. জারিন তাসনিন সন্ধি নামের এক পরীক্ষার্থী। গত দুই বছর ধরে মানবিক বিভাগে পড়াশোনা করে পরীক্ষার ঠিক আগের দিন তিনি জানতে পারলেন, দাপ্তরিকভাবে তিনি বাণিজ্য বিভাগের শিক্ষার্থী।

রোববার (১৯ এপ্রিল) দুপুরে বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা এসএসসি পরীক্ষার প্রবেশপত্র হাতে দিলে বিষয়টি জানতে পারেন। এ ঘটনায় ওই শিক্ষার্থী মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন। সন্ধি উপজেলার উত্তর চাঁদপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের হয়ে এ বছর এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার কথা তার।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, সন্ধি জোতমোড়া নিম্ন মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয় থেকে অষ্টম শ্রেণি পাস করেন। এরপর ওই বিদ্যালয়ের নিয়ম অনুযায়ী নবম ও দশম শ্রেণিতে মানবিক বিভাগে পড়াশোনা চালিয়ে যান। দশম শ্রেণির বার্ষিক পরীক্ষায় ৮০৭ নম্বর পেয়ে মানবিক বিভাগ থেকে তিনি প্রথম স্থানও অধিকার করেছিলেন। কিন্তু রোববার প্রবেশপত্র হাতে পেয়ে দেখেন, সেখানে তার বিভাগ উল্লেখ করা হয়েছে ‘ব্যবসায় শিক্ষা’ বা বাণিজ্য।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বিছানায় তার মানবিকের বইগুলো ছড়ানো। চোখেমুখে হতাশা নিয়ে সন্ধি বলেন, ‘এক দিন পর (২১ এপ্রিল) পরীক্ষা। এতদিন মানবিকে পড়েছি, প্রথম হয়েছি। অথচ প্রবেশপত্র দিল বাণিজ্যের। স্যারকে বললে তিনি বলেন আমি নাকি স্কুলে যাই না। এখন আমার পক্ষে বাণিজ্যের বই পড়া সম্ভব না।’

সন্ধি আরও জানান, নবম শ্রেণির শুরুর দিকে মাসখানেক তিনি বাণিজ্য বিভাগে ছিলেন। পরে পারিবারিক কারণে বিভাগ পরিবর্তন করে মানবিকে চলে যান। শিক্ষকদের তা জানালেও তারা নথিপত্রে তা সংশোধন করেননি বলে তার অভিযোগ।

এ বিষয়ে উত্তর চাঁদপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ আলী মুঠোফোনে বলেন, ‘যে বিভাগে রেজিস্ট্রেশন হয়েছে, সেই বিভাগেরই কার্ড এসেছে। শিক্ষার্থী যদি কমার্সে ভর্তি হয়ে মানবিকে পড়াশোনা করে, তার দায় আমার নয়। কাল বোর্ডে যাব, দেখা যাক কী হয়।’ তবে তিনি ওই শিক্ষার্থীর রোল বা রেজিস্ট্রেশন নম্বর তাৎক্ষণিক জানাতে পারেননি।

অন্যদিকে, জোতমোড়া নিম্ন বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ‘মেয়েটি শুরুতে কমার্সে ক্লাস করেছে এবং রেজিস্ট্রেশনে স্বাক্ষরও করেছে। বিষয়টি নিয়ে শিক্ষা কর্মকর্তা ও বোর্ডে কথা বলা হচ্ছে।’

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা নাজমুল হক জানান, বিকেল পর্যন্ত প্রধান শিক্ষক তাকে এ বিষয়ে কিছুই জানাননি। তবে বিষয়টি নিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) সঙ্গে আলোচনা চলছে।

তার পরিবার জানিয়েছে, বাবা-মা হারানো এতিম এই শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ এখন অনিশ্চয়তার মুখে। মানবিক বিভাগের প্রবেশপত্র না পেলে কালকের পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করা তার পক্ষে অসম্ভব হয়ে পড়বে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category

ফেসবুকে আমরা