কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার খুটাখালী ইউনিয়নে অতি দরিদ্রদের জন্য কর্মসংস্থান কর্মসূচি (ইজিপিপি+) প্রকল্পে শ্রমিকের উপস্থিতি ও হাজিরা নিয়ে গরমিলের অভিযোগ উঠেছে। ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডে প্রকৃত উপস্থিতির তুলনায় বেশি শ্রমিকের হাজিরা দেখানোর অভিযোগ উঠেছে প্রকল্পের সভাপতি স্থানীয় ইউপি সদস্য নুর মোহাম্মদ পেঠান মুন্সির বিরুদ্ধে।
২০২৬-২৭ অর্থবছরে খুটাখালী ইউনিয়নে ইজিপিপি+ কর্মসূচির আওতায় সাতটি প্রকল্পে মোট ৩৪৪ জন শ্রমিক নিয়োজিত রয়েছেন। এর মধ্যে ৬ নম্বর ওয়ার্ডের ফরেস্ট পাড়া, জয়নগর পাড়া, পূর্ব পাড়া ও সেগুনবাগিচা এলাকার উন্নয়নকাজের জন্য দৈনিক ৪০০ টাকা মজুরিতে ৬৫ জন শ্রমিকের তালিকা উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) কার্যালয়ে জমা দেন ইউপি সদস্য নুর মোহাম্মদ পেঠান।
পিআইও কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ইজিপিপি+ প্রকল্পের কাজ তদারকিতে পিআইও কার্যালয়ের পাশাপাশি সুশীলন নামের একটি বেসরকারি সংস্থা দায়িত্ব পালন করছে। তবে খুটাখালী ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডে প্রকল্পের আওতায় সক্রিয় শ্রমিকের সংখ্যা ৫৫ জন।
পিআইও কার্যালয়ের কার্যসহকারী রাজীব আলী জানান, গত কয়েক দিনে একাধিকবার প্রকল্পের কাজ পরিদর্শনে গিয়ে ৩৫ থেকে ৩৭ জন শ্রমিকের উপস্থিতি পাওয়া গেছে। একদিনের দৈনিক হাজিরা খাতায় ৩৫ জন শ্রমিকের উপস্থিতি থাকলেও পরে ঘষামাজা করে সংখ্যা পরিবর্তনের অভিযোগ ওঠে। এ কারণে হাজিরা খাতাটি জব্দ করে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমানের কাছে জমা দেওয়া হয়।
খুটাখালী ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. সালাহউদ্দিন কাদের অভিযোগ করেন, ইউপি সদস্য নুর মোহাম্মদ পেঠান প্রকল্পের অর্থ আত্মসাতের উদ্দেশ্যে দৈনিক ১৮ থেকে ২০ জন অতিরিক্ত শ্রমিকের উপস্থিতি দেখিয়ে হাজিরা তৈরি করতেন। এতে প্রতিদিন ৬ থেকে ৮ হাজার টাকা আত্মসাতের সুযোগ তৈরি হয় বলে দাবি করেন তিনি। চেয়ারম্যানের নিকট জমা দেওয়া হাজিরা খাতাটি অনুমতি সাপেক্ষে শ্রমিক সর্দারের কাছ থেকে মুচলেকা নিয়ে ফেরত দেওয়া হয় বলেও জানান তিনি।
সালাহউদ্দিন কাদের আরও বলেন, পিআইও কার্যালয়ের তদারকির কারণে এ ধরনের অনিয়মের সুযোগ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ক্ষুব্ধ হয়ে বৃহস্পতিবার (০৮ অক্টোবর) ইউনিয়ন পরিষদে এসে একটি জন্ম নিবন্ধন বিষয়কে কেন্দ্র করে তাঁর সঙ্গে খারাপ আচরণ করেন ইউপি সদস্য নুর মোহাম্মদ। পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও তাঁর বিরুদ্ধে মিথ্যা প্রচারণা চালানো হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে অবহিত করা হয়েছে বলেও জানান প্রশাসনিক কর্মকর্তা।
ইউপি সদস্য নুর মোহাম্মদ পেঠান অর্থ আত্মসাৎ এর জন্য হাজিরা বেশি দেখানোর বিষয় অস্বীকার করে বলেন, এগুলো তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে।