তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, ফ্যাসিবাদ একটি মানসিক রোগ, যা মূলত ক্ষমতার অপব্যবহার ও জবাবদিহিতার অভাব থেকে জন্ম নেয়।
তিনি বলেন, ‘ক্ষমতার মধ্যে এমন কিছু ভাইরাস থাকে, যার বিরুদ্ধে রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় আগে থেকেই ‘অ্যান্টিভাইরাস’ বা ‘ভ্যাকসিনেশন’ করা না থাকলে তা সমাজ ও রাষ্ট্রকে ফ্যাসিবাদের দিকে ধাবিত করে।’
বুধবার (১৫ এপ্রিল) বাংলাদেশ ফটো জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশন মিলনায়তনে ফটো সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময়কালে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘ক্ষমতার প্রভাব-প্রতিপত্তি মানুষকে এক ধরনের রোগে আক্রান্ত করে ফেলতে পারে, যদি সেখানে সজাগ দৃষ্টি না থাকে।’
তিনি আরো বলেন, ‘বর্তমান সরকার এই ভাইরাসের ব্যাপারে খুবই সতর্ক। এ কারণে সরকার গঠনের আগেই প্রধানমন্ত্রী এমপি-মন্ত্রীদের সরকারি সুবিধা না নেয়ার ব্যাপারে কঠোর বার্তা দিয়েছেন।’
তথ্যমন্ত্রী গণমাধ্যমের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, ফ্যাসিবাদ প্রতিরোধে সবচেয়ে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে সচেতন ও দায়িত্বশীল গণমাধ্যম।
অতীতের অপরাধ, নির্যাতন ও অন্যায়ের বিচার নিশ্চিত করতে ক্ষতিগ্রস্তদের আইনি প্রক্রিয়ায় অভিযোগ জানানোর আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, অন্যথায় এসব অভিযোগ কেবল রাজনৈতিক বক্তব্যে সীমাবদ্ধ থেকে যাবে এবং ভবিষ্যতে নতুন করে ফ্যাসিবাদের ঝুঁকি তৈরি হবে।
সাংবাদিকদের মর্যাদা ও অধিকার প্রসঙ্গে জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, ‘গণমাধ্যমকে একটি শিল্প হিসেবে বিবেচনা করে সেখানে আইন অনুযায়ী নিয়োগ ও সুনির্দিষ্ট বেতন কাঠামো নিশ্চিত করতে কাজ করছে সরকার। ওয়েজবোর্ড সংক্রান্ত সমঝোতার মাধ্যমে সংবাদকর্মীদের সম্মানজনক স্যালারি (বেতন) ও মর্যাদা নিশ্চিত করা হবে।’
বাংলাদেশ ফটো জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি এ কে এম মহসীনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিএফইউজে)-এর মহাসচিব কাদের গনি চৌধুরী, অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক বাবুল তালুকদার এবং ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন (ডিইউজে)-এর সভাপতি শহিদুল ইসলাম।
এছাড়া মতবিনিময় সভায় বাংলাদেশ সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ আবদুল বাছির (বাছির জামাল), তথ্য অধিদফতরের প্রধান তথ্য অফিসার ইয়াকুব আলী, ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) সাবেক সভাপতি মুরসালিন নোমানী, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের (ডিইউজে) সহ-সভাপতি রাশেদুল হক ও যুগ্ম সম্পাদক দিদারুল আলম দিদারসহ সাংবাদিক নেতারা উপস্থিত ছিলেন।