চকরিয়া পৌর সদরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এবং ব্যস্ততম সড়ক ‘বায়তুশ শরফ রোড’ এখন স্থানীয় সাধারণ মানুষ ও মুসল্লিদের জন্য এক জীবন্ত নরকে পরিণত হয়েছে। একসময়ের সচল সড়কটি এখন খানাখন্দ, কাদা-পানি আর ময়লা-আবর্জনার এক বিশাল ভাগাড়। অথচ এই চরম জনদুর্ভোগ দেখার যেন কেউ নেই! প্রশাসনের এমন উদাসীনতাকে স্থানীয়রা দেখছেন ‘চোখ থাকিতে অন্ধ’ হওয়ার শামিল হিসেবে।
সড়ক নাকি ময়লার ভাগাড়?
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, পুরো সড়ক জুড়ে সৃষ্টি হয়েছে ছোট-বড় অসংখ্য গর্তের। সামান্য বৃষ্টিতেই সেসব গর্তে পানি জমে ডোবার আকার ধারণ করে। তার ওপর সড়কের আশেপাশে যত্রতত্র ফেলে রাখা হচ্ছে বাজারের উচ্ছিষ্ট ও পচা ময়লা-আবর্জনা। পচা আবর্জনার দুর্গন্ধে পুরো এলাকার বাতাস ভারী হয়ে উঠেছে। নাক চেপেও এই সড়ক দিয়ে হাঁটা দায় হয়ে পড়েছে পথচারীদের।
থমকে গেছে মুসল্লি ও সাধারণ মানুষের চলাচল
এই সড়কের পাশেই অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী বায়তুশ শরফ মসজিদ। প্রতিদিন শত শত ধর্মপ্রাণ মুসল্লি এই পথ ব্যবহার করে নামাজ আদায় করতে যান। পবিত্র হয়ে মসজিদে যাওয়ার পথে কাদা-পানি আর ময়লা মাড়িয়ে যাওয়া এখন নিত্যদিনের ভোগান্তি। স্থানীয় জনসাধারণের পাশাপাশি স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী ও ব্যবসায়ীরা প্রতিনিয়ত এখানে এসে চরম বিপাকে পড়ছেন। সামান্য অসতর্কতায় ঘটছে ছোটখাটো দুর্ঘটনা, নষ্ট হচ্ছে জামাকাপড় ও পবিত্রতা।
ক্ষুব্ধ এক মুসল্লি জানান, “পবিত্র হয়ে আল্লাহর ঘরে নামাজ পড়তে বের হই, কিন্তু রাস্তায় এসে নোংরা পানির ছিটা আর ময়লার দুর্গন্ধে ইবাদতের পরিবেশটাই নষ্ট হয়ে যায়। আমরা কর দিই, কিন্তু নাগরিক সুবিধা পাবো না কেন? প্রশাসন কি আমাদের এই কষ্ট দেখতে পায় না?
ক্ষোভ ও দ্রুত পদক্ষেপের দাবি
সড়কের এই শোচনীয় অবস্থায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দা এবং বায়তুশ শরফ মসজিদের ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা। তারা বলছেন, পৌর সদরের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় এমন জনদুর্ভোগ কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।
বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করে, অনতিবিলম্বে রাস্তাটি সংস্কার এবং ময়লা-আবর্জনা অপসারণের জন্য চকরিয়া পৌর কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী সাধারণ জনগণ। প্রশাসন দ্রুত ঘুম থেকে জেগে এই ‘অন্ধত্ব’ দূর করবে এবং কার্যকর উদ্যোগ নেবে—এমনটাই প্রত্যাশা চকরিয়াবাসীর।